সোমবার, ১৪ মে, ২০১৮

পশ্চিমবঙ্গে উন্ময়ন ~ আর্কাদি গাইদার

সুপ্রভাত।

ভোরের চায়ের সাথে স্টোভে সেঁকা কড়কড়ে পাউরুটির পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া কালো পৃষ্ঠটা জিভে ঠেকিয়ে আস্বাদন করুন পঞ্চায়েত ভোটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হিসেবে কড়কড়ে করে পোড়ানো দুটো মানবদেহ।

কয়লা হয়ে পড়ে আছে কাকদ্বীপের কাছাড়ী বাড়ি(নামখানা) এর বুধখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৩ নং বুথের কমরেড দেবু দাস ও কমরেড ঊষা দাস। রাতেরবেলা জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে দুজনকে। 

কারন তারা সিপিআই(এম) কর্মী।

যেমন জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আফরাজুলকে। 
কারন সে মুসলমান।

আফরাজুলের খুনি শম্ভুলাল রেগরের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তো? ঘৃনা করেছিলেন তো? করুন। কারন মমতার বাংলায় বসে খুনি মোদীর বিরুদ্ধে গলা ফাটানো যায়, প্রতিবাদী হওয়া যায়, বাহ্বাও পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক অনেক দেবু দাস, উষা দাস, হাফিজুল মোল্লা ক্ষয়ে যাচ্ছে এই মাটিতে, কিন্তু ভয়, ভয়, ভয়, ক্রেন দিয়ে টেনেও আমাদের শিরদাঁড়াগুলো সোজা করা যাচ্ছে না।  নৈশব্দের কারফিউ জারি করেছি আমরা প্রত্যেকে নিজেদের ওপর, একের পর এক দেহের ভারে চাপা পড়তে পড়তে শুনতে, দেখতে, বলতে ভুলে গেছি।

আপনারা প্রত্যেকে, হ্যা প্রত্যেকে, আসামী। কারন আপনারা প্রত্যেকে যারা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে, ফ্যাসিবাদের জুজু দেখিয়ে, নিরাপদ অবস্থান রেখে মুখে কুলুপ এটেছেন, আপনারাই এই খুনিদের সক্রিয়করণকারী।

Everyone who is silent is complicit.