বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ, ২০১৮

হোলি মানে দোল~ ফ্যাতাড়ু বজরা ঘোষ

(ধম্মো নিয়ে চুলকানি থাকলে পড়া বারণ)

অ্যাকটা সিনেমা দেকেচিলাম "খুন কি হোলি"। ভোজপুরি অ্যাকসন বই। হোলি ফোলি নেই, আচে ধুমধাড়াক্কা ঝাড়পিট।
হোলির আসলি বই সিলসিলা। আহা, রেখা, বচ্চোন, জয়া, সোঞ্জীবকুমার...
গান বলুন গান, রোমান্স বলুন রোমান্স
ঠুসে ঠুসে ভরা।

আবারো দোল-হোলি-বসন্তোচ্ছব এসে পড়েচে। সবাই রঙ খেলবে _(তাসের না)_।

এই খ্যালা তিনরকম হয়ঃ
বাঙালিরা দোল, খোট্টারা হোলি আর এট্টু বিজ্ঞরা খ্যালেন বসন্তোচ্ছব।

টিভিতে খবর পড়বে, নাকের ডগায় অল্প আবির। নেকু এঙ্করিং কচ্চে, সাংবাদিক বুম নিয়ে রাস্তা মাপচে, গালে এক চুটকি রং। থালা কাঁসর নিয়ে, সাদ্দিন দাড়ি গোঁপ বগলের চুল না কামিয়ে বাবু চল্লো সান্তিনিকেতন।
বাউল আর রোবিন্দগানের ককটেল মারিয়ে "হোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়"?

কা হায় রে বাবুয়া?

"ওউর ক্যায়া, ফ্যাদা ভর্তি বেলুন।"

কোতায় সুনলাম মেয়েদের দিকে ছোড়া হয়েচে। হোলির আল্লাদ বোলে কতা। নোংরামির ফুল্টু লাইসেন্স। বুরা মানলে আর হোলি কিসের?
ছেলেছোকরারা মোস্তি কব্বেই মেসোমসাই।

ডি এস বলেচিল বসন্ত মোচ্ছব মানে মায়ের দয়া, শেতলা পুজো আর কি।
সেরম রংদেনেওয়ালাদের পাল্লায় পড়লে...

যেরম গেরামদেশে দোলের রঙ তৈরি করা হত পেসাল কায়দায়। বাঁদুরে রঙ পাওয়া যেতনা। কলার আঠা, মবিল, হাঁড়ির কালি এসব দিলে সেই রঙ জামা থেকে উটতোই না। আর আবির হচ্চে বিকেলে। এমন খুসে লাগাবে
তিনদিন লালচে পেচ্ছাপ, হাগা পয্যন্ত গোলাপি কালার। সে দোল নেই, সে ভাঙের সরবত উদাও। আচে উটতি চামচিকের ওড়াউড়ি।

এট্টা ভিডিও দেকচিলাম। বাংলাদ্যাশের। এক মুরুব্বি, চুস্ত পাজামা পাঞ্জাবি, মাতায় সাদা টুপি, যেটা সিওর মেয়েদের গোপন জামা কেটে বানিয়েচে, সে লেকচার মাচ্চে
*জেনে নিন হিন্দুদের হোলিপুজার নোংড়া ইতিহাস*। _(এই বানানেই সার্চ কব্বেন)_ কেষ্ট ঠাকুর নাকি রাধার ওপর নারকীয় অত্যাচার কোচ্চিল, পাসবিক বলাৎকার... তাপ্পর...
হাস্তে হাসতে কেলিয়ে গ্যাচি। আপনারাও সুনুন। ইউটিউবে পাবেন।

যীসুপুজো সুনেচি, হনুমানপুজো, রামপুজো, যমপুজো, দুয্যোধন, মায় শকুনিরও পুজো হয়।
হেঁদুদের বারো মাসে বিয়াল্লিস পাব্বনের ছড়াচড়ি। হোলিপুজো সুনিনি। মনে লয় হোলপূজোর স্ত্রীলিংগ। সাধে কি মোল্লাদের বুদ্দি মোসজিদের সেপটিক ট্যাংক পয্যন্ত দৌড়ে হুমড়ি খায়।

দোল আর হোলির দুটো আলাদা ব্যখ্যান আচে।

আদত বোম্মবৈবত্তপুরাণের গপ্পোটা এট্টু আলাদা, কেষ্টঠাকুর শ্রীরাধিকার সাথে ইন্টুপিন্টু খেলছিলেন। সাদা বাংলায় যাকে বলে গেম দেওয়া। মোল্লার ভার্সন অনুযায়ী অত্যাচারের পোস্নোই নেই। "মামি ভাগ্নে রাজি তো ক্যায়া করেগা আয়ান মিঙা!" আর নির্জন জায়গা পেলেই ঠাকুর দ্যাবতা মহাপুরুষদের লঙ্কা, সিঙাপুরি কলা হয়ে যায়। পুরাণেই বলেচে। দোলনা কাঁপচে অমনি বেমক্কা দাঁত কেলিয়ে একগাদা গোপিনি হাজির। তারা তো জানেনা পানু বই শুট চলচে। দেকে ফেললেই কেলো। রাধারানী লজ্জায় আর মুক দ্যাকাবে কিকরে? অগত্যা কেষ্টদা রঙের মায়ায় ঢেকে দিলেন। চাদ্দিকে সুদু রঙিন কুয়াসা। তিনি পিচকারি চালাতে থাকলেন। কিঞ্চিৎ রক্তপাতও হলো, সেসব লাল রঙে ঢেকে গ্যালো।
সময়টা ছিল ফাগুন মাসের পুন্নিমে। তাপ্পর থেকেই এসময় সুরু হলো এই দোল খ্যালা।

এবার আসি হোলিতে।
সেও কেষ্টর আরেক রূপ বিষ্টুর লীলা।

রাজা হিরন্যকসিপু ছিল চরম হারামি। যে তাকে পূজবেনা তার লাশ নামিয়ে দেবে। এদিকে ব্যাটা হয়েচে ভারি দেবভক্ত, পুজোপাটে মন। রাজা দেকলো ছেলেকেই খতম করি। নিজের বোন হোলিকাকে বল্ল ভাইপোকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ মার। পেসাল অগ্নিনির্বাপক জ্যাকেট অর্ডার করেচি। তোর কিচু হবেনা। আমার ব্যাটা পুড়ে মরবে। হোলিকাও বাড় খেয়ে মাল্লো লাফ। কিন্তু নিজেই গ্যালো টেঁসে। পেল্লাদের বালও পোড়েনি। এই ট্র‍্যাডিসান আজো আচে কাকা। আচে, আচে! নকল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের টেন্ডার নিয়ে পলিটিসিয়ানরা সেনা, পুলিসকে ফাঁসাচ্চে। কাটমানি পকেটে।

তো হোলিকা পোড়া থেকে এল হোলি। আমাদের বাংলায় ন্যাড়াপোড়া। অসুভ সক্তির বিনাস।

কোনটা খেলবেন আপনাদের ব্যাপার।
ওদিকে সিরিয়ায় সিরিয়াস হোলি খ্যালা চলচে, খুন কি হোলি।
ওটা সব দেসের ন্যাতারা খেলে থাকেন। যদিও তাদের বান্টুর ফুসকুড়ি দিয়েও রক্ত ঝরতে দেকলামনা কোনোদিন।