বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ভূতচতুর্দশী ~ অর্ক ভাদুরী

ভূতচতুর্দশীর রাতে পৃথিবীতে আত্মারা নেমে আসে। কাতারে কাতারে, ধোঁয়া ধোঁয়া। আঙুলকাটা হাত তুলে গোঙাতে গোঙাতে নেমে আসেন পূর্ববঙ্গের নীল চাষি। তাঁকে সঙ্গ দেন পাবনা আর রংপুরের কৃষক। আসেন বীরসা মুন্ডা, তিতুমীর, সিধু-কানহুর লোকজন, ওয়াহাবি আর মোপলা বিদ্রোহের শহীদ। বেনিয়ানে পিস্তল লুকিয়ে কলেজ স্ট্রিট থেকে কলুটোলার দিকে চলে যায় ঝকঝকে যুবক। বউবাজার মোড়ের শহীদবেদি ভেঙে বেরিয়ে আসেন লতিকা, প্রতিভা, অমিয়া, গীতা। মির্জাপুর স্ট্রীট ধরে হেঁটে যায় শান্তি-সুনীতি, টেগরা আর ক্ষুদিরাম। হিন্দ সিনেমার সামনে রডা কোম্পানির অস্ত্র লুঠের কুশীলবেরা-  শ্রীশ মিত্র, গিরীন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপীন গাঙ্গুলি, আশুতোষ লাহিড়ি। বিনয়-বাদল-দিনেশ আর মেজর সত্য বক্সীর পাশাপাশি হেঁটে আসছে শহীদ রামেশ্বর। জানবাজারের পুজোমন্ডপের পাশে বিড়ি ধরালেন কানপুরের সিপাহী, গলায় ফাঁসির দাগ। হেদুয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেথুন কলেজের প্রীতিলতা। ব্যারাকপুর থেকে, আলিপুর থেকে, বরাহনগর-কাশীপুর থেকে, ব্যারাকপুর যখন ব্যারাকপুর নয়, সেই চনকের নৌকোঘাট থেকে, রামপ্রসাদ সেনের ধুঁতির খুঁট থেকে, চল্লিশের কঙ্কালসার লাশের গন্ধ থেকে, দক্ষিণের সোনারপুর, যাদবপুর থেকে, কাকদ্বীপ থেকে উঠে আসছেন বৃদ্ধ-অতিবৃদ্ধ আত্মারা। ভূতচতুদর্শীর সন্ধ্যে রাতের দিকে বেঁকে যাচ্ছে।