বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭

আম্বানির সম্পদ ~ শতদ্রু দাস

বিশ্বখ্যাত বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকা ব্লুমবার্গ আজকেই  তাদের এক রিপোর্টে প্রকাশ করেছে যে মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদ ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে মে ২০১৭-এর ভেতর বৃদ্ধি পেয়েছে মোট ৭১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ মাসে তাঁর সম্পদ বেড়েছে অতটা (১)। সংখ্যাটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো নিঃসন্দেহে, কিন্তু এই সংখ্যাটা ঠিক কতখানি বড় তা বুঝতে গেলে কিছু হিসেব কষে দেখতে হবে। 

সুইৎজারল্যান্ডের বহুজাতিক আর্থিক সংস্থা ক্রেডিট সুইস প্রতিটা দেশের মোট সম্পদের পরিমাণ হিসেব করে প্রতি বছর। তাদের হিসেবে অনুযায়ী ২০১৬-তে ভারতের মোট সম্পদের পরিমাণ হলো ৩ লক্ষ ৯ হাজার কোটি ডলার (২)। সারা দেশের সব মানুষের এবং সরকারের  মিলিত সম্পদের পরিমাণ এটা। এক বছরে এই সম্পদ কতটা বাড়ে? ২০১৫ আর ২০১৬-এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা এবং টাকার দাম পড়ে যাওয়ার কারণে দেশের মোট সম্পদের মূল্য ডলারের হিসেবে প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। তাই গত এক বছরের হিসেব ধরে এগোলে অসুবিধে হবে। ক্রেডিট সুইসের তথ্য বলছে যে গত ১৬ বছর ধরে ভারতের মোট সম্পদের গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৬.৩%। তাহলে বরং এই গড়টাকেই নেওয়া হোক। যদি ধরে নেওয়া যায় যে ২০১৭ তে মোট সম্পদের বৃদ্ধির হার ৬.৩%-এর আশেপাশে থাকবে তাহলে এই বছর দেশে মোট সম্পদ সৃষ্টি হওয়া উচিত ১৯,০০০ কোটি ডলার। এটা কিন্তু সারা বছরের হিসেব। যদি শুধু পাঁচ মাসের হিসেব ধরি তাহলে এর প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৯০০০ কোটি ডলার সম্পদ বৃদ্ধি হওয়া উচিত। খেয়াল রাখবেন যে এটা গোটা দেশের মোট সম্পদ। এই যদি হয় তাহলে গত ৫ মাসে গোটা দেশে যতটা  মোট সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে তার তার ৮%, অর্থাৎ ৯০০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৭১০ কোটি ডলার শুধু একা আম্বানির পকেটে ঢুকেছে। ১২৫ কোটি মানুষের দেশে মাত্র একজনই পকেটস্থ করেছে ৮% সম্পদ। 

ক্রেডিট সুইস তার ২০১৬-এর  রিপোর্টে বলছে যে দেশের মাত্র ০.০৬% মানুষের হাতে রয়েছে দেশের ৩০% সম্পদ। বলাই বাহুল্য যে ওই ০.০৬% মানুষের মধ্যে মুকেশ অম্বানিও একজন। এটা গত বছরের হিসেবে। একজন মানুষই যদি দেশের সৃষ্টি হওয়া সম্পদের ৮% আত্মস্থ করে তাহলে সামনের বছর দেখবেন  ওই ০.০৬% শতাংশ মানুষের হাতে দেশের মোট সম্পদের আরো বেশি অংশ চলে গেছে। 
***************************************************************************