বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬

স্টেশনের নাম ~ কৌশিক মজুমদার

​স্টেশনের নাম নিয়ে নানা মজার মজার গপ্পো আছে। প্রথম এই ধরণের গল্পের সন্ধান পাই ছোটবেলায়। শীর্ষেন্দুর পাতালঘরে আছে বর্ধমান লাইনে বেলমুড়ি স্টেশনের নামটি নাকি ভারি অপয়া। সকাল সকাল ওই নাম করেছ কি মরেছ। টিকিটবাবুরাও নাকি ওই নাম করলে টিকিট দিতে চান না। অগত্যা যাত্রীগন "আপনে সুবিধা কে লিয়ে" ওই স্টেশনের নাম দিয়েছে মাঝের গ্রাম। অনেকে আবার নাকি একে শ্রীফল চালভাজা ও বলে থাকেন। বেলকে বেল বললে অপয়া আর শ্রীফলে কি নতুন ফল ফলবে কে জানে বাপু!আমি তো এই সেদিন শান্তিনিকেতন যাবার পথে বেশ কবার বেলমুড়ি বেলমুড়ি বললুম। কিছু ডেলি পাষন্ডের মত তাকাল বটে কিন্তু অনর্থ তো কিছু হল না।
উল্টোডাঙ্গা এখন নেহাত বিধাননগর হয়েছে। কিন্তু ১৭৪২ এর সেই ভয়ানক ঝড়ে এখানে এক সাথে সাতটা ডিঙ্গি নৌকা উলটেছিল সেটা বোধহয় অনেকেই ভুলে মেরে দিয়েছি। যেমন ভুলেছি সাহেবের কাছে গরীব মানুষের কাতর ভিক্ষার আবেদন "Sir I am poor" বদলাতে বদলাতে শ্রীরামপুর নাম নিয়েছে। রামচন্দ্র!!
সেদিন ট্রেনে যেতে যেতে আর একটা দারুন গল্প শুনলাম। সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে একটা স্টেশন আছে নোয়াদার ঢাল নামে।ক্রসিং স্টেশন। তার নাম নিয়েই গল্প। এর আশেপাশে আরও দুই ঢাল আছে। ঝাপটের ঢাল আর পিচকুড়ির ঢাল। সাহেবী আমল। কেরাণীবাবু সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন "সাহেব কি নাম রাখি এ ইস্টিশানের?" সাহেব এত ঢালে বিরক্ত। বললেন"Anything but no other dhal".কেরাণী কি বুঝল কে জানে। নাম হইয়া গেল।
তবে স্টেশনের নাম নিয়ে ঝামেলা কম নেই। বিশরপাড়া কোদালিয়া কিংবা নারায়ণ পাকুরিয়া মুরাইল নামকে নাম গ্রামকে গ্রাম। কেউ নিজের অধিকার ছাড়েনি। শেষটা তো আবার এই বাংলার সবচেয়ে বড় নামের স্টেশন।কি মজা!সেটাও আজকাল আমার যাত্রাপথে পড়ে।
তবে উত্তরবঙ্গে থাকাকালীন বড় মায়াবী নামের একটা ছোট্ট স্টেশন পড়ত। নাম নিজ বাড়ি। কতবার ভেবেছি নেমে যাই। চা বাগান ঘেরা,টালি ছাওয়া এই ঘরগুলোর মধ্যেই কোথাও হয়ত আমার জন্ম জন্মের বাড়িটা লুকিয়ে আছে। নামতে পারিনি। আমার নাগরিক ঔদাসিন্য বাধা দিত। এখন প্রায়ই মনে হয়। কি হত নেমে গেলে?আমারই বাড়ি তো!পরের বার ঠিক নেমে যাব টুক করে…
যাবই…