শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

"violent" ছবি ~ পুরন্দর ভাট


পিজার বিজ্ঞাপনের পাশে পথশিশুর যে ছবিটি আমার দেওয়ালে পোস্ট করেছিলাম সেটা অনেকেই দেখেছেন, ছবিটি দের হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। আজকে দেখছি কেউ একজন এটা ফেসবুকে রিপোর্ট করেছে "violent" বলে এবং এখন ছবিটি ফেসবুকের বিবেচনাধীন, তারা যদি মনে করে যে ছবিটি ফেসবুকে থাকার যোগ্য না সেটা তারা মুছে দেবেন।


ছবিটি "violent" এই নিয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই। ভারতে যে বাজার অর্থনীতি চলছে তা একপ্রকার হিংসাশ্রয়ী, গরিব মানুষের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধই চলছে সরকার এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে। কিন্তু এই মর্মান্তিক ছবিটি তো শেয়ার করার কারণ ছিলো যে সেটি এই একতরফা যুদ্ধের কথা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলো, ধাক্কা দিয়েছিলো, এবং চেয়েছিলাম বাকিদেরকেও মনে করিয়ে দিতে। 



তা যিনি রিপোর্ট করেছেন তিনি কি এই ছবি দেখে এতই মর্মাহত হয়ে পড়েছেন, বাস্তবচিত্র দেখে এতই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন যে তিনি চান আর কেউ এই ছবিটি না দেখতে পাক? বোধয় না। এক হতে পারে ছবিটি ডমিনোস কোম্পানির খুব একটা ভালো বিজ্ঞাপন নয় এবং সেখানে চাকরিরত কারুর এটা চোখে পড়ে থাকলে সে নিজের ব্যবসার স্বার্থে রিপোর্ট করে থাকতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় না সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু বেপার, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এমনিতেই দুকান কাটা, তাদের এই ছবি দেখে কোনো অনুভূতি জাগার কারণ নেই। তাহলে কেনো রিপোর্ট হলো? আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে যে ছবিটি এমন কেউ রিপোর্ট করেছে যে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে এড়াতে চায়।যাদের বসবাস বড় বড় ফ্লাইওভার, শপিং মল, এবং পিজাকে ঘিরে- অর্থাত "শাইনিং ইন্ডিয়া"-র প্রতিভূ, তাদের কেউ। যে কারণে কলকাতার বিলাসবহুল এপার্টমেন্টগুলোয় "বস্তি ফেসিং" ঘরের দাম কম হয়, যে কারণে শীততাপনিয়ন্ত্রিত শপিং মলগুলোয় পথশিশুরা ঢুকতে গেলে দারোয়ান তেড়ে আসে, সেই একই কারণে এই ছবি রিপোর্টেড হয়। তার ওপর ফেসবুকের কোনো সীমানা নেই, অন্য দেশের লোকজন ছবিটা দেখে ফেললে ভারত সম্পর্কে কি ভাববে সেটাও একটা চিন্তার বিষয় এনআরআই-দের কাছে। পথশিশুর গুরুত্ব সাদা চামড়ার কাছে নিজের ইমেজের চেয়ে বেশি নয় নিশ্চই?