শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

নবান্ন ~ অনির্বাণ মাইতি

তারপর সেলিম যাহা করিলেন তাহা কহতব্য নহে, ইতিহাসের স্বর্নাক্ষরে সে বীরত্বের কাহিনী লিপিবদ্ধ থাকিবে। এক পকটে থান ইট ও ওপর পকটে পরমানু বোমা লইয়া (ইহা শঙ্কু নির্মিত, নাকি কালাম নির্মিত সে বিষয়ে নিশ্চিত কেহ নহে) পুলিশের পশ্চাতে ধাবমান হইলেন । পাঠককে স্মরণ করাইয়া দিবার প্রয়োজন নাই আমাদিগের পুলিশ সচরাচর এই ধরনের আক্রমণের ক্ষেত্রে টেবিলের তলদেশ অথবা ফাইলের আড়ালকে বাছিয়া লয়। কিন্তু পথমধ্যে টেবিল অথবা ফাইল অপ্রতুল থাকিবার হেতু তাহারা পলায়নকেই শ্রেয় মনে করিয়া, এস এস কে এম অবধি তীব্রগতিতে ধাবমান হইলেন এবং সেইখানে পৌছোনমাত্রেই সরকারী চিকিৎসক গন তাহাদিগকে ভর্তি করিয়া লইলেন। দীর্ঘ পথ ধাবিত হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ বোধ করিতেছিলেন কিনা তাই।

ওদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি বিমান বাসু মহাশয় তাঁরই আহত সেনাদিগের শরীরের রক্ত নিজ মস্তকে তৈলের ন্যায় মর্দন করিতেছেন ও সহানুভুতির হাওয়া পালে টানিতেছেন বলিয়া বিরুদ্ধ সেনাপতি সুব্রত, প্রেস কে ডাকিয়া সব কহিয়া দিলেন। প্রেস সেই ছবি না পাইয়া আবার সুব্রত বাবুর কাছে ফিরিয়া গেলে তিনি তরমুজের ন্যায় ক্রোধে ফাটিয়া পড়িলেন।
ওদিকে সেনাগণ ব্যারিকেড ভাঙিয়া রাস্তায় বসিয়া পড়িলেন। বিমান বাবুর অনুরোধে আর অগ্রসর হইলেন না। এ বিষয় জানিতে চাহিলে বিমান বাবু কহিলেন গণতন্ত্রে এই সার। এর বেশি অগ্রসর হইলে সে আর গণতন্ত্র থাকিবে না, নৈরাজ্য হইবে। অতঃপর সেনাগণ সাহস সঞ্চয় করিল , পুরকায়স্থ পুরো গার্হস্থ্য রহিলেন, দিদি ওমঃ শান্তি কহিলেন, কৃষক আপাতত বাড়ি ফিরিয়া যাওয়া মনস্থির করিল। তবে ভবিষ্যতের বড় লড়াইএর যথেষ্ট সাহস যে সে ইতিমধ্যেই অর্জন করিয়াছে সে বলিবার অপেক্ষা রাখে না।