শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫

সাংসদ ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

​সংসদে কেউ গলা ফাটাবেন আম জনতার স্বার্থে
প্লেনে চড়ে তাঁরা যাতায়াত করে কর দাতাদের অর্থে,
কেউ থাকে শুধু চুপচাপ বসে, বলেন যৎসামান্য
বিস্বয়ে কেউ হতবাক হন, বলেন জীবন ধন্য-
পেছন বেঞ্চে বসে দেন কেউ সামান্য দিবানিদ্রা
গালি দেন কেউ, মন দিয়ে শোনে দিকপাল ভাষাবিদরা;
গরম লাগছে ভয়ানক স্যার, অভিযোগ যায় স্পিকারে
কেউ ঘন ঘন পায়চারি করে গলা ভেজালেন লিকারে,
সংসদে কেউ বক্সিং লড়ে, চলে হাতাহাতি কুস্তি


বাইরে বেরোলে সব শোধবোধ, শুধু গলাগলি দোস্তি,
রেগে গিয়ে কেউ বিল ছিড়ে ফেলে, কথায় কথায় ধর্না
উৎসব চলে সারা বৎসর রঙিন আলোর ঝর্না;
খুশীমনে কেউ ডিগবাজি খান, কেউ সাবলীল ভল্টে
কেউ ফিরে আসে আবীর, গুলালে রাজনীতি রং পাল্টে,
কেউ ঘরে বসে গান টান গান, সংসদ যেতে চান না
খাদ্যরসিক ভেবে যান শুধু, হেঁসেলে চলছে রান্না,
একা একা কেউ ফিশ ফ্রাই খান, খোঁজে কেউ ডাল সবজি
কেউ বলে চান্স পেয়েছি যখন, খাবই ডুবিয়ে কবজি,
বিরিয়ানি, ভাত, রুটির সঙ্গে রায়তা, পেঁয়াজ, লঙ্কা
সরকার আছে ভর্তুকি দেবে, মূল্য একুশ টঙ্কা,
ইডলি, রসম, ধোসা, সম্বর, পায়েস, লিট্টি, চাটনি
মন্ত্রী বলেন পেট ভরে খাবি, সংসদে ভারী খাটনি,
বৈকাল হলে চা-পান, উতর খাওয়া শেষে মুখশুদ্ধি
বললেই হল ভর্তুকি তোল, তোমার যেমন বুদ্ধি;
এই বিষয়েতে সব এক সুর ডান বাম একই মঞ্চে
বলে খাওয়া নিয়ে খোঁটা দাও কেন? কি আর খেয়েছি লাঞ্চে?
রাজা হেসে কন ওরা হিংসুটে মিডিয়ার চক্রান্ত
সভাসদ বলে সত্যি সত্যি, ওরাও এখানে খান তো!
এইভাবে চলে দিন প্রতিদিন, কুশীলব থাকে হর্ষে
দাড়িয়ে গাইবি ' জনগনমন' স্বাধীন ভারতবর্ষে'।।