শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫

​অনুগল্প ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য


রোজকার মত দোকান বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরতে আজও ১১ তা বেজে গেল কাজলের। স্টেশানের পাশে ছোট চায়ের দোকান কাজলের, গ্রাজুয়েশান করে কিছুদিন টাইপ, শর্টহ্যান্ড শিখে বা সরকারি চাকরির পরীক্ষাও দিয়েছিল কিছু, তারপর এই চায়ের দোকান।বেশ চলে দুজন কর্মচারী, চা, বিস্কুট চায়ের আবার হরেক রকম লাল চা, লেবু চা, দুধ চা, চিনি ছাড়া যার যা পছন্দ।অনেকে খবরের কাগজ পড়ে, খেলা , রাজনীতি নিয়ে মত দেয়, তর্ক চলে বেশ লাগে কাজলের।


যাই হোক আজও সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরবার পথে যেই বটগাছতলা পার হয়ে ভবানীপুর যাবার জন্য বাঁদিকে বাঁক নিয়েছে অমনি জঙ্গলের মধ্যে কি একটা চকচক করছে নজরে পড়ল। সাইকেল থামিয়ে জিনিষ টা হাতে নিয়ে দেখল একটা লুডোর ছক্কার মত মেটালবডি। কাজল কিছু পড়াশুনো জানে, চারপাশের খবর রাখে, একবার ভাবল ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম নয় তো, আবার সোনাও তো হতে পারে। শীতের দিন লোকজন নেই বললেই চলে, জিনিষটা পকেটে পুরে কাজল চলল বাড়ির দিকে।
কাজল এখনো ব্যাচেলর, খাওাদাওয়া সেরে ঘরে ঢুকে সাবধানে পকেট থেকে ছক্কাটা বের করল, দাদুর একটা মাইক্রো হাতুড়ি ছিল ট্রাঙ্কে( কি কাজে লাগত কে জানে), বের করল সেটা, ছক্কাটাতে দু- তিনটে সাবধানে বাড়ি মারতে সেটা দু খণ্ড হয়ে গেল, বেশ পরিষ্কার সাদা কাগজ নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে ঠুকতে ঠুকতে আস্তে আস্তে মিহি ধুলোয় পরিনত করল সেই ছক্কাটাকে।
হটাত মনে পড়ল বিভাসের কথা, কাজলের সাথেই পড়ত, এখন নন্দপুর কলেজের কেমিস্ট্রির প্রফেসর। এত রাতে জেগে থাকবে কিনা কে জানে, তবু ফোন করল। বিভাসকে জানাল সমস্ত ঘটনাটা, শুনেই বিভাস বলল, সোনা হলে তো চিন্তা নেই রে কিন্তু তেজস্ক্রিয় কিছু হলেই তো বিপদ, ধরা পড়ে যাবি কিছুক্ষনের মধ্যে।কাজল তো মাথা চুলকে বলল না সেরকম রে- টে তো কিছু দেখলাম না রে, বিভাস বলল গাধা, রে দেখা যায় নাকি। তুই বরং এক কাজ কর আরও মিহি কর গুড়োটা, কাজল আমতা আমতা করে বলল একদম মিহি করে ফেলেছিরে, আর মিহি হচ্ছে না।বিভাস খানিক চিন্তা করে বলল, ওজন নিয়েছিস? কাজল এ কাজটা প্রথমেই করে রেখেছিল, খানিক গর্বের সাথে বলল , হ্যাঁ ১৯৬.৯৬ গ্রাম। বিভাস বলল আর যখন গুড়ো করতে পারছিস না নিশ্চয় মিহিগুড়ো করতে করতে অণু বানিয়ে ফেলেছিস রে। কাজল ক্লাস টেনে অণু, পরমাণু পড়েছিল বটে খানিক মনে পড়ল, পদার্থর ক্ষুদ্রতম মৌলিক কনা, যাতে পদার্থের সব ধর্ম বিদ্যমান থাকে, কিন্তু এর সাথে অনুর কি সম্পর্ক তা বুজতে পারল না।
বিভাস বলল, এক কাজ কর অণুগুলো গুনতে শুরু কর, শেষ করে আমায় জানাস।
সকাল হয় হয় সূর্য ওঠে ওঠে, গোনাগুনতি শেষ বিভাসকে ডেকে জানালেই হয়, ফোন বাজছে, হ্যাঁ বিভাস সব অণু গুলে ফেলেছি, কত? ওই ৬০২৩ ইন্টু ১০ টু দ্যা পাওয়ার টুয়েন্টি। সোনা বলে চেঁচিয়ে উঠল বিভাস, তুই এখন এক মোল সোনার মালিক।