শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫

রাজপ্রাসাদ - শুভাশিষ আচার্য্য

আমাদের একটা রাজপ্রাসাদ আছে। এর নানা রঙ। নানা মহিমা। যখন উচ্ছ্বাস পিছলে বেরয় হৃদয় থেকে আমরা প্রাসাদের এই কক্ষ টাতে যাই। এখানে থরে থরে রয়েছে তাঁর হাতে সাজান আনন্দের উপঢৌকন। যেমন খুশি হাতে নেয়া যায় তা। মনে হয় "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে"। ভুবন আলো করা কক্ষ এটা আমাদের রাজার রাজপ্রাসাদে। অন্য দিকে যখন আমরা শোক পাই তখন ওই বিশাল থাম টাকে আঁকড়ে ধরি। মনে হয় সমস্ত শোক তাপ ওখানে প্রাজ্ঞ হয়ে থামটা দাঁড়িয়ে আছে গাছের মত। আমরা যারা কাজ করি, রোদ্দুরে ঘাম ঝরে ক্লান্ত হই, আমাদেরও এক কক্ষ আছে। সেখানে দেখতে পাই আমাদেরই শ্রম এখানে হয়ে আছে নানা কারুকার্য। যারা খেলতে থাকি সারাদিন আর এক দম পড়তে ভালবাসিনা  তাদেরও কঠিন কঠিন পড়া সহজ পাঠ হয়ে খেলা ঘর হয়ে আছে প্রাসাদের ভিতর। আরও কত কক্ষ যে রয়েছে এখানে এক জীবনে তা প্রদক্ষিণ করা মুশকিল।




আবার এই নির্ভরতা থেকে কখনো মনে হয় প্রাসাদের মাঝখানে তাঁর আবির্ভাব হয়েছে তাকে পেয়েছি  কিন্তু আবার তা মিলিয়ে যায় কখন। শুধু রয়ে যায় সমস্ত সুখ দুঃখ শোক আনন্দ তাপ উত্তাপে তাঁর ভাষা সুর মননের প্রতিচ্ছবি দিয়ে বানানো এই রাজপ্রাসাদ। "মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না"...
আমাদের কাছে কোনও আলাদীন নেই বা ভুতের তিন বর নেই তাই হাত ঘসে বা তালি দিয়ে ভাত কাপড় হয়না, এক কথায় সহজিয়া নয়। কিন্তু বাকি জীবনে যা কিছু হয়ে চলেছে সবের জন্য আমাদের এক আশ্রয় আছে। এই রাজপ্রাসাদ আছে। আমাদের একটা রাজপ্রাসাদ আছে। সবার জন্য খোলা আছে। প্রতিষ্ঠিত আছে মনের নাট মন্দির। আমাদের সবার রাজা আর তার কর্মযজ্ঞ পরতে পরতে। বিশ্ববাসীর এ এক প্রাসাদ মন্দির। আর এই প্রাসাদ মন্দিরের সম্রাটের  পুনরাবির্ভাব ও অভিষেক উদযাপন আজ। আজ পঁচিশে বৈশাখ।