বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫

ভালোবাসার টুকরো ছবি - শুভাশিষ আচার্য্য


জীবনের কিছু মোড় আছে কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা যে মানুষ টা নিচ্ছে তাঁর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সেরকমই তার চারপাশের জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে তা হয়ে ওঠে প্রভাবিত করার উপকরণ। আর একটা ব্যাপার আর সবথেকে মুল ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সিদ্ধান্ত সময়োচিত হলে তিনি সফল আর তা না হলে সেটা আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়না। আর একটা ব্যাপার হল আমাদের দেশ কাল সমাজ। এ এমন এক মৈত্রীমণ্ডল এমন এক ছায়া যুদ্ধ এমন এক অপরিবেশ বান্ধব যে আজ রাতে রুটির সাথে পেঁয়াজ পাতে থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে থাকেনা অনেক সময়। এরকম একটা বিষম সময় হুট করে তিনি সেই ভুবনজয়ী সিদ্ধান্তটা কত অনায়াসে নিয়েছিলেন। এক জ্ঞান তিতিক্ষু মন নিয়ে মাঝ রাতে ঠিক হয়ে গেল সরকারি চাকরির দরকারি কাজ গুল ছুড়ে দিয়ে কাল সকাল থেকে হবে শুধু লেখা লেখির কাজ। ভুবনজয়ী সিদ্ধান্ত। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর আমরা প্রভাবিত হলাম।


তারপর আর তাঁর কলম থেমে থাকেনি। পাতার পর পাতা দিস্তার পর দিস্তা বই এর পরে বই। মন গড়া নয় মনের ভিতর ঢুকে মনের মানুষের গল্প লিখতেন তিনি যা হত এক একটা ভালোবাসার টুকরো ছবি। তাই ত আমাদের এত কাছের মানুষ মনে হয়। কোন রাজনীতি ভাবনা ধারা চালিত একদম ই নয় খুব সাধারণ লোকেদের কাছে থাকা একজন।

সদাহাস্য আর যাকে আমরা বলতে পারি শুচিস্মিতা তিনি তাই। কিন্তু এসবের পরেও আর একটা ব্যাপার হল তাঁর গভীর চোখ যা নিরন্তর তাঁর সাথে সাথ দিয়েছে যখন তিনি কথা বলতেন আর যে চোখের থেকে আমরা কেউ নিস্তার পাইনি। সবাই ধরা দিয়েছি আপন আপন সুখ দুঃখ নিয়ে। তিনি সেই দুর্দান্ত চোখ দিয়ে দেখেছেন আমাদের দৈনন্দিন মাধুর্য। সেই সব আমাদের কথা রচনা হয়েছে তাঁর রচনাবলীতে।

বিদ্যা যত ছড়ায় তত বাড়ে এমনি শুনেছি কিন্তু হৃদয় যত টুকরো হয় তত কি বাড়তে থাকে। মনে হয় না। নাহলে উনি যে তাঁর হৃদয় দিয়ে এত ছবি এঁকেছেন সে ছবি করতে গিয়ে তাঁর হৃদয় ও কি পুড়তে থেকেছে প্রতিনিয়ত। সে হৃদয় কি কমজোরি হয়ে মৃত্যু মুখে ফেলে দিল তাঁকে। তিনি যদি সাধারণ হতেন তাহলে এটাই ঘটনা বলে প্রকাশিত হত হয়তোবা।

কিন্তু তিনি ত সিদ্ধান্ত নেন। তাই ১২ই মে আবার সেই এক মাঝ রাতে সিদ্ধান্ত নিলেন আর ইহ লোকের কথা লিখবেন না। এবারে যেতে হবে অন্য কোথাও অন্য কোন খানে। চলেও গেলেন আমাদের ছেড়ে। তিনি আর কেউ নন সুচিত্রা ভট্টাচার্য।