মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

বঙ্গীয় রাজনীতির অবস্থা ~ অমিতাভ প্রামাণিক

বেশি না, এই সপ্তাখানেক আগেই বোধহয় লিখেছিলাম, আমাদের বাংলা হচ্ছে ছোটলোকের জায়গা। উরিব্বাবা, তাতে জনগণের কী রাগ! হাতের সামনে পেলে আমায় কুচি কুচি করে কেটে কুকুর দিয়েই খাইয়ে দিতো।

এখন দেখো! ভোটের রেজাল্ট দেখো।

ছোটলোক বলেই এখানকার লোক লোভে পড়ে নিজের জমানো শেষ পয়সাটা তুলে দেয় অজানা ঠগের হাতে, ঠকে গিয়ে হা-হুতাশ করে, হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে গালাগালি দেয়, আবার সেই ঠগ পার্টিকেই ভোটে জেতায়।

বলেছিলাম কিনা?


রাজনীতির অবস্থা দেখুন।

"কুণাল চোর? টুম্পাই চোর? মদন চোর? মুকুল চোর? আমি চোর?"

চোরদের লিস্ট বেরিয়ে এলো 'ঠাকুরঘরে কে রে' টাইপ! একে একে ঢুকতেও লাগল সব যেখানে তাদের মানায় ভালো।
মুকুল এখন বোঁটা থেকে ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে খসে পড়বে। টুম্পাই অলরেডি খসে গেছে।

হঠাৎ উপনির্বাচনে দল জিতে যেতে বিপক্ষদের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে - আহা, এতদিন ধরে যে লোকটা দল গড়লো, আজ কিনা তাকেই সাইডলাইন করে দিচ্ছে! এ তো ঘোর অন্যায়।

অর্থাৎ সে যে কাঙালের ধন চুরি করেছে, সেটা তেমন অন্যায় নয়। ওসব ভুলে গেলেও চলবে। সে দল গড়ার নায়ক, তাকে সাইড করে দেওয়াটাই মেইন ফ্যাক্টর! জনগণ নাকি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবে।
নীতি-ফিতির কোনো সংজ্ঞাই এদের কাছে পরিষ্কার না। কোন দু:খে জনতা এদের ভোট দেবে?

কিন্তু কেসটা এই রকম।

লোকজন জানে, বোঝে যে তৃণমূলের ওপরতলার দাদা-দিদি মানেই জালিস্য জালি। এক এক করে জেলে ঢুকছে, মানুষ জানবে না, বুঝবে না, এতই কি হাঁদা? কিন্তু উপায় কী? ভোট যে দেবে, কাকে দেবে?

বাম-কে? তার মানে তো ভোটটা জলে ফেলে দেওয়া। কেননা, গুন্ডা-ফুন্ডা বেরিয়ে গিয়ে বামে যারা পড়ে আছে, তাদের ইমেজ অনেক ক্লীন হলেও, নেতা কই? এদের জিতিয়ে লাভ কী? অতীতের অভিজ্ঞতা তো জানাই। রুখেছি, রুখবো। আর থিওরেটিক্যাল দাদাগিরি। নিজে কিচ্ছু করবে না, অন্যকেও করতে দেবে না। কেউ দাঁড়িয়ে বলছে না - আমি হলে এটা না, এই রকম করতাম, তাতে এই রেজাল্ট হত। তাহলে?

বিজেপি-কে? সে আর এদের চেয়ে আলাদা কী? এও তো স্কীমার। যে দল ভেঙে বিজেপিতে ঢুকতে চায় পিঠ বাঁচাতে, সে অসৎ না, তার সার্টিফিকেট রেডি, তাকে জেল যেতে নাও হতে পারে। প্লাস, এ রাজ্যে এদের নেতা কে? ম্যাড়মেড়ে রাহুল সিনহা? ভাঁওতাবাজ বাবা রামছাগলের আশির্বাদধন্য বাবুল? এর থেকে ওর গলায় ঝুলে যাওয়া লকেট? ছো:।

যারা মনস্থির করতে পারেনি, তারা তৃণমূলকেই আবার ভোট দিয়েছে। যারা পেরেছে, তারা বাম-বিজেপির মধ্যে আলাদা কিছু পায়নি, তাই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভোট ভাগ হয়েছে। ফল সবার সামনে।

ভাবছ, জনতা খুশি? নো ওয়ে। দে সিম্পলি ডোন্ট নো হোয়াট টু ডু। গো আস্ক দেম।

আমাদের এখনই প্রবলভাবে একটা অরবিন্দ কেজরিওয়াল চাই। একটা আম আদমি। যার কোনো ব্যাগেজ নেই। দুর্নীতি নেই। দাস ক্যাপিটাল নেই। পাশার চাল নেই। হিংসে নেই। লোভ নেই। শুধু বাঙালির গরিমা আছে, অভিমান আছে, তুষের আগুনের মত বুকের মধ্যে কোথাও এক চাপা অহঙ্কার আছে। নিজের কাছে প্রশ্ন আছে - রামমোহন বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথের জন্মভূমি এইভাবে বারোভূতে লুটেপুটে খাবে?

কোই হ্যায়? আছো কেউ?