রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৪

ছিঃ! ছিঃ! এত্তা জঞ্জাল... - সুশোভন



অন্য রাজ্যে কর্মরত হওয়ার কারণে বাড়ি আসার সেভাবে সুযোগ হয় না সবমিলিয়ে বছরে হয়ত দিন পনেরো আবার এই ১৫ দিন ম্যানেজ করাও একটাস্কিল প্রথমত, প্রায় সারা বছরের প্ল্যান ভেবে-চিন্তে , ক্যালেন্ডার দেখে ছুটি ম্যানেজ তারপর 'ম্যানেজিত' ছুটির দিন সময় দেখে টিকিট করা এর সঙ্গে যদি সেটা দুর্গা বা কালির আশীর্বাদ থাকে তাহলে, ট্রেনের রিজার্ভেশেন   মাস আগেই না করলে, ‘মায়ের কৃপায়ঘেঁটে হয়ে যেতে বাধ্য এবার অফিসের ছুটির ক্যালেন্ডার দেখে, একদম ঝোপ বুঝে কোপ মেরে, ৩টি ক্যাজুয়াল লিভ নিয়ে  বাক্স-প্যাঁটরা গুটিয়ে দুর্গা দুর্গা বলে সোজা বাড়ি চলে এলাম কিন্তু, দুর্ভাগ্য আপিসের ছুটির ক্যালেন্ডার যখন তৈরি হয়েছিল তখন লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি ৫৬ ইঞ্চির প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যাভিষেক হয়নি দেশ গেরুয়া রাজপুত্রদের হিন্দুস্থান হয়ে ওঠেনি। 'আশ্বিনের কোন এক শারদপ্রাতে...' স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মনে হল এ দেশ বড্ড নোংরা হয়ে গেছে লোকে এখানে থুতু ফেলে তো ওখানে পানের পিক, সেখানে বিস্কুটের প্যাকেট তো এখানে আধ পোড়া বিড়ির টুকরো তাই ঝাঁট দিয়ে বিদেয় করতে হবে এত্তা জঞ্জাল সুতরাং ঠিক গান্ধীজীর জন্মদিনেই (একদিন আগেও না পরেও না) উনি ক্যামেরার সামনে কিছুক্ষণ ঝাঁট দেবেন আর সবাই কে আপিস এসে স্ব-ইচ্ছায় ঝাঁট দিয়ে দেশ পরিষ্কারের অনুরোধ করবেন ব্যাস, মাসে আগের টিকিট, বছর খানেকের প্রস্তুতি শেষ ছুটি বাতিল
 
গায়ে লেগেছে ? হয়ত তাই বিরক্ত হয়েছি ? হয়ত তাই স্বার্থক্ষুন্ন হয়েছে ? হয়ত তাই কিন্তু আপত্তিটা শুধু সে কারনেই নয় বরং অনেক বেশি করে মজ্জাগত কারনে এবং চমক সর্বস্ব রাজনীতির প্রতি অবিশ্বাসের কারনে প্রশ্নটা কর্মসূচী বা উদ্যোগ নিয়ে নয় কখনই নয় নিশ্চিত ভাবেই এই উদ্যোগ কে স্বাগত এই কর্মসূচী কে সাদর আমন্ত্রন। কিন্তু তাঁর সাথে সাথেই এই কর্মসূচীর কার্যকারী সাফল্য নিয়ে যেমন সংশয় থেকে যায়, উদ্যোগের অন্তর্নিহিত কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে যেমন বারবার হোঁচট খেতে হয়, তেমনই কিছু প্রশ্নও আবার অনুত্তরিত রয়ে যায়  

যদি প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর সাথে একমুঠো মন্ত্রী, আমলা, চিত্রতারকা, খেলোয়াড় সেলিব্রেটি মিলে রাস্তা-ঘাটে বছরে একদিন ঝাঁটা দিয়ে জঞ্জাল পরিষ্কার করলেই দেশকে ‘নির্মল’ আর ‘পরিচ্ছন্ন’ করা যেত তাহলে সেটার জন্য স্বাধীনতার ৬৭ বছর পর ‘আচ্ছে দিনে’ আসার অপেক্ষা করতে হত না। আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্র বিশেষ করে বিভিন্ন বড় শহর গুলি আদপে কেন এতো নোংরা, সে সমস্যা, সরকারি পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও নীতির অভাব গভীরে গিয়ে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন না করে পরিকল্পনা মাফিক রূপরেখা তৈরি করে বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে ‘স্বাচ্ছ ভারত অভিযানের’ বকলমে শুধু ক্যামেরায় সামনে ছবি তোলা, মিডিয়ায় ঝড় তোলারই নামান্তর হয়ে উঠবে ঠিক যেমন ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে “গরিবি হাটাও” বা রাজীব গান্ধীর সময় “সাক্ষরতা অভিযান” আজ শুধু শ্লোগানের নামান্তর হয়ে ইতিহাসে পাতার কয়েকটা লাইনেই সীমাবদ্ধ।   

২০০১ সালে দেশের শহরের সংখ্যা ৫১৬১ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৯৩৫টি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সেন্সাস শহরের সংখ্যা ২৫২ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৯২টিতে ১৯৫১ সালে আমাদের দে‍‌শের শহর বা নগরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ৬.২ কোটি, ২০১১ সালে তা বৃদ্ধি পে‍‌য়ে হয়েছিল ৩৭.৭ কোটি যা ২০৩১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হবে, ৬০ কোটি যদিও সাংবিধানিকভাবে প্রতিটি শহরেই পৌরসভা থাকাটা বাধ্যতামূলক কিন্তু তথাপি আমাদের দেশের অধিকাংশ শহরেই এখনও পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়নি দেশের শহরগুলির গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন বস্তি এলাকায় বহু শহরে আজও পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়নি, নিকাশি ব্যবস্থা উন্মুক্ত, নর্দমার আবর্জনা ন্যূনতম পরিস্রুত না হয়ে পড়ছে নদী, জলাশয় বা সমুদ্রে, নেই স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক জঞ্জাল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, এমনকি নেই বিভিন্ন ধরনের জঞ্জাল পৃথকীকরণের ব্যবস্থাও আমাদের দেশের শহরগুলিতে প্রতি বছরে সৃষ্টি হয় মোট ৬০-৭০ মিলিয়ন টন বর্জ্য পদার্থ বেশিরভাগ শহরের যে আবর্জনা দৈনিক সৃষ্টি হয় তার ৫০ ভাগও সংগৃহীত হয় না সরকারি হিসেব অনুসারে শহরেরই ৫৪ শতাংশ মানুষের এখনও বাড়িতে নিজস্ব শৌচালয় নেই গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ  সমস্যা সব চাইতে বেশি মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডে যেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ গৃহে‍‌ শৌচালয় নেই ৯২ শতাংশ মানুষ উন্মুক্তস্থানে শৌচকার্য করে থাকে সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিপোর্ট অনুসারে ২০১২-১৩ শহরে প্রতিদিন ১,৩৩,৭৬০ মেট্রিক টন MSW (Municipal Solid Waste) তৈরি হয় যার মাত্র ২৫, ৮৮৪ TPD-(Tons per day) সঠিক ব্যবস্থা করা হয় যদি এভাবে বার্ষিক ৬২ মিলিয়ন MSW কে সঠিক ভাবে অপসারিত ও মজুত( dump) করতে হয় তাহলে প্রতিদিন ৩,৪০,০০০ কিউবিক মিটার জমির (landfill space ) প্রয়োজন যে প্ল্যানিং কমিশন কে প্রধানমন্ত্রী তুলে দিতে চাইছেন তাঁদের রিপোর্টই বলছে২০০০ সালের Municipal Solid Waste আইনের ধার্য সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পরও সরকার ও প্রশাসন তার সঠিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র উদ্যোগী হয়নি শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে কারণীয় সম্পর্কে কেন্দ্রের বিগত সরকার যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল, তাদের সুপারিশ মতো আমাদের দেশের শহরগুলির পানীয় জল, পয়ঃপ্রণালী, রাস্তা, বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন ইত্যাদির জন্যে ২০০৯ সালের মূল্যমানের ভিত্তিতে ২০১২ সাল থেকে ২০৩২ সাল এই ২০ বছরের জন্যে প্রয়োজন প্রায় ৪০ লক্ষ কোটি টাকার কোথা থেকে আসবে এই বিপুল পরিমান টাকা ? কিভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব এই গুরুতর সমস্যার ? সরকারি স্তরে কি ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে ? কর্মসূচী রুপায়নের রূপরেখাই বা কি হবে ? ‘স্বাচ্ছ ভারত অভিযানের’ গ্ল্যামারে আড়ালে, মিডিয়ার ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে এই প্রশ্নগুলো আগের মত একই রকম উপেক্ষিত রয়ে গেলো। তাই ৫৬ ইঞ্চির বুক ফুলিয়ে প্রধানমন্ত্রী, সমাধানটা ঠিক যতটা সহজ ভাবছেন, বাস্তবে কিন্তু বিষয়টা ততটা সহজ নয়। কি বলুন ?     

‘স্বাচ্ছ ভারত অভিযানের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘আব হামারে কর্তব্য হে কি গন্দেগি কো দূর করকে ভারতমাতা কি সেবা করে’। কিন্তু যথেষ্ট সচেতন এবং সন্তর্পণে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেলে তা হল আমাদের দেশের জাত-পাতের সমস্যা। আর সামাজিক ভাবেই এই সমস্যা আমাদের কাছে বর্তমানে বোধহয় এতই আত্মিক এবং নিবিড় যে আমরাও মিডিয়ার সাথে সাথে এই বিষয়ে ভাবার, আলোচনা করার এবং সমস্যা সমাধানের কোনরূপ প্রয়োজন যে রয়েছে, সেটাই অনুভব করিনা। আসলে আমাদের সমাজের বৃহত্তর অংশ ধর্মাচরণের অনুমোদন নিয়েই সমাজের কিছু বিশেষ শ্রেণীকেই জন্মগত ভাবে ঝাড়ুদারের দায়িত্ব সমর্পণ করেছে। ২০০৭ সালে ‘India Stinking’ বইয়ে গীতা রামাস্বামী লিখেছেন এই মানুষগুলি, দিল্লীতে বাল্মীকি উত্তরপ্রদেশে ধনুক, পশ্চিমবাংলায় হাণ্ডি, মেথর, অন্ধপ্রদেশে পাকি আবার তামিলনাড়ুতে থোত্তি সম্প্রদায়ভুক্ত। আজ স্বাধীনতার ৬৭ বছর পর যখন আমাদের দেশের অনেকের মানিব্যাগ প্রথমবিশ্বের মানিব্যাগের সাথে টেক্কা দিচ্ছে, যখন আমরা ইংরেজি সিনেমার ‘থ্রিলিং’ দৃশ্যে মনোরঞ্জনের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাচ্ছি, টুইটারে আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি ঠিক তখনই পেটের দায়ে এই মানুষগুলি আমাদের সমাজ ঝাঁটিয়ে পরিষ্কার করার সেই মহান কর্তব্য পালন করছেন অথচ রাষ্ট্র এই মুষ্টিমেয় মানুষ গুলি সামাজিক স্বীকৃতি তো দূরের কথা, নুন্যতম মজুরি বা কাজের স্থায়ীকরনের বিষয়েও আশ্চর্য রকমভাবেই উদাসীন। খুবই সূক্ষ্মভাবেই আমাদের বাক্যবাগীশ প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই চমকসর্বস্ব প্রচার অভিযানের জন্য বেছে নিয়েছিলেন দিল্লীর সেই  বাল্মীকি বস্তিকেই যেখানে গিয়ে গান্ধীজী কিছুদিন ছিলেন। গান্ধীজী অনুরূপ সচেতনতামূলক কর্মসূচীতে সাধারন ঝাঁটাই ব্যবহার করেছিলেন আসলে লম্বা হাতল দেওয়া ঝাঁটায় যেমন কোমর নুইয়ে ‘মাটির কাছাকাছি’ পৌঁছান যায়না ঠিক তেমনি ধোপ-দুরস্ত কেতাবি পোশাকের ঝাড়ুদার আমাদের দেশে বড্ড বেশি ‘কসমেটিক’ এবং বেমানান। আসলে এই সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান করার পথে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বোধহয় তাঁর রাজনৈতিক চেতনা নিয়ন্ত্রনকারি আদর্শগত ধর্মীয় অনুশাসন। ২০০৭ সালে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের একটি সংকলন “কর্মযোগ” নামে প্রকাশিত হয়, এক বক্তব্যে উনি গুজরাটের সাফাইকর্মী দের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- “ ...আমি মনে করিনা যে সাফাই কর্মীরা শুধুমাত্র পেট চালানোর জন্যই একাজ করেন। যদি তাই হত তাহলে তাঁরা দিনের পর দিন এই কাজ করে যেতেন না। কোন সময় নিশ্চয় এদের মধ্যে কারও বোধোদয় হয়েছে যে সমাজের স্বার্থেই  ভগবান আমাদের সাফাই কাজে নিযুক্ত করে পৃথিবী তে পাঠিয়েছেন। এটি একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আর তাই নৈতিক কর্তব্য রূপেই তাঁদের এই কাজ পালন করা উচিত...” ( সুত্রঃ কর্মযোগ পৃষ্ঠা- ৪৮,৪৯)। নরেন্দ্র মোদী যদি নিজের জ্ঞানচক্ষু  উদ্ভাসিত করেন তাহলে দেখতে পাবেন, আম্বেদকর গান্ধীজীর অনুরূপ মন্ত্যবের প্রেক্ষিতে ঠিক কি বলেছিলেন... “ গরিবি শূদ্রদের বিধেয় অন্য কারও না, সাফাই শুধু অচ্ছুত(untouchables ) দের কাজ এটাই তাঁদের জীবনের উদ্দেশ্য  এই ধরনের মন্তব্য আমাকে, ফ্রেঞ্চ দার্শনিক Voltaire- কথা স্মরন করিয়ে দেয় যিনি বলেছিলেন... তোমার দুর্ভোগ যদি অন্য কারও সুখের কারন তাহলে তা গর্বের, এমন জ্ঞানদান উপহাস ছাড়া আর কিছুই না। তোমার দেহাবশেষ খেয়ে কিছু পোকা মাকড়ের উপকার হবে একথা মৃতপ্রায় ব্যাক্তির কাছে আর যাইহোক কোন সান্ত্বনা হতে পারে না...” (সূত্রঃ What Congress and Gandhi have done to the Untouchables, Dr Ambedkar : Writings and Speeches, Vol 9  P. 290-93)  
বাস্তব এটাই যে নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, ২০০৭-এ গুজরাটে “নির্মল গুজরাট” নামে অনুরূপ একটি কর্মসূচী শুরু করেছিলেন, পরবর্তী সময় ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৩-তে সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিপোর্ট অনুসারে ‘critically polluted areas’ ক্রমাঙ্কের প্রথমেই জায়গা করে নিয়েছে সেই সাধের নির্মল গুজরাট-ই। ২০০৯- এ গুজরাটের আঙ্কেলেশ্বর এবং ২০১১ -১৩ তে ভাপি শিল্পাঞ্চল যথাক্রমে ৮৮.৫০ এবং ৮৫.৩১ CEPI(Comprehensive Environmental Pollution Index) দেশের সবচেয়ে দূষিত জায়গার অন্যতম সেরা তাই আগেই বলেছি প্রশ্নটা একেবারেই উদ্যোগ বা কর্মসূচির নয়। প্রশ্নটা চমক সর্বস্বতার, প্রশ্নটা পরিকল্পনা অভাবের, প্রশ্নটা  সমস্যা অনুধাবনের, প্রশ্নটা গভীরে যাওয়ার অনিচ্ছায়, প্রশ্নটা বাস্তবায়নের প্রাসঙ্গিকতায়। এই প্রশ্নগুলো অনুত্তরিত থাকলে, এড়িয়ে গেলে,    মিডিয়ার প্রচার পাওয়া যেতে পারে, টুইটারে আর ফেসবুকে ঝড় উঠতে পারে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে সেলিব্রেটিদের মেকআপ নষ্টের কিছু সস্তা ছবি ছাপা যেতে পারে, ভোটের বাক্স কানায় কানায় পূর্ণ হতে পারে, রাজনৈতিক কৌশল ভক্ত দের কাছে সমাদৃত হতে পারে কিন্তু ভারতমাতা‘স্বাচ্ছ’ , ‘নির্মলবা পরিচ্ছন্নও  কোনটাই হবেনা আচ্ছে দিনের স্বপ্নভঙ্গ হলেই  মানুষ  আবার বলবে ... ছিঃ! ছিঃ! এত্তা জঞ্জাল ... আর তখনজঞ্জালপরিষ্কার শুরু হবে সেই পার্লামেন্ট থেকেই