শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

রচনাঃ বিশ্বকাপ ফুটবল ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য়

​ভূমিকাঃ বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। নামে বিশ্বকাপ হলেও এতে ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশকেই খেলতে দেওয়া হয় না। তবে তার জন্য ভারতীয়দের, বিশেষ করে বাঙ্গালিদের এই খেলা দেখার উতসাহের কিছু খামতি পড়ে না। যে সব দেশের ম্যাপে অবস্থান কোথায় বা রাজধানীর নাম কী তারা জানে না, সেইসব দেশেরও অন্ততঃ তিনটে খেলোয়াড়ের নাম তারা জানে, যে গোল দেয়, যে গোল বাঁচায় আর যে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের কামড়ায়।

খেলার নিয়মকানুনঃ খেলাগুলি গভীর রাতে হয়, যাতে সিরিয়াল দেখায় কারো কোনো বাধা না পড়ে। খেলার নিয়ম খুব সহজ, একটা বল-এ লাথি মেরে অন্য দলের গোলপোস্টে ঢোকানো। কিন্তু খেলোয়াড়রা প্রায়ই বলে লাথি না মেরে অন্য খেলোয়াড়দের লাথি মারে। মারামারি বন্ধ করবার জন্য একজন বাঁশি মুখে মাঠের ভিতরে আর দুজন পতাকাওয়ালা লাঠিহাতে মাঠের বাইরে ঘোরে। বাঁশিওয়ালার কাছে লাল-হলুদ কার্ড থাকে, মাঝে মাঝে একটা একটা করে সবাইকে দেখায়। এটা আসলে বাঙ্গালিদের সেরা ফুটবল ক্লাবকে সম্মান জানাতে। যদি কোনোবার মোহনবাগান দল লীগ বা শিল্ড জেতে, তাহলে সেইবার বিশ্বকাপে বাঁশিওয়ালারা সম্ভবতঃ সবুজ-মেরুণ কার্ড বার করে দেখাবে।

যে দল বেশীবার বল গোলপোস্টে ঢোকাতে পারে, তারা বিজয়ী হয়। অন্যের গোলপোস্টে বল ঢোকাতে না পেরে অনেক খেলোয়াড় নিজের গোলপোস্টেও বল ঢোকায়। নব্বই মিনিট খেলা হয়। যদি দু'দলের গোল সমান হয়, এবং একদল কে বিজয়ী করতেই হয়, তখন বাঁশিওয়ালা একটা দলকে পেনাল্টি দেয়। তাতেও নিষ্পত্তি না হলে তারা খেলতেই থাকে, যতক্ষণ না একটা দলের গোলসংখ্যা বেশী হয়।

পা দিয়ে মারতে না পারলে মাথা দিয়েও বল মারা যায়, তবে গোলকিপার এবং ভগবান ছাড়া হাত দিয়ে বল মারার নিয়ম নেই।

উপসংহারঃ একমাস ধরে এই হুজুগ চলে। তারপর সব দেশের খেলোয়াড়রা যে যার দেশে ফিরে যায়। যারা চ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের একটা হলুদ ব্যাঁকাত্যাড়া লম্বাটে ফুলদানী দিয়ে বোঝানো হয় যে অটাই বিশ্বকাপ। তখন তাদের মধ্যে অনেকে রাগ করে প্রতিজ্ঞা করে যে পরের বার তারা আর খেলতে আসবেনা, বা এলেও চ্যাম্পিয়ন কিছুতেই হবেনা।