সোমবার, ২৬ মে, ২০১৪

রম্য রচনা -- ২ ~ অবিন দত্তগুপ্ত

( Utsav দার লেখা একটি গল্প অনুপ্রাণিত )

বহুদিন পর আজ আবার উনি আসবেন । এক বিশাল মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। রাস্তায়, ছাঁদে, জানলায় জানলায়,পুকুরের পাশে,ফুটপাথে তিল ধারনের জায়গা নেই । শেষ যখন এসেছিলেন, তখন সর্বত্র শ্মশানের নিরবতা ছিল । উনি আগুন জ্বালিয়েছিলেন। স্বপনের গান গেয়েছিলেন। সেদিন-ও এমনি ভিড় ছিল । সেদিন ভিড় পরিণত হয়েছিল লাভাস্রোতে । সেই গনগনে লাভাই,স্বপ্ন জিতেছিল । তারপর আস্তে আস্তে, উনি জনপদ থেকে হারিয়ে গিয়েছেন । পাহাড়ের উপরে এখন ওনার বাড়ি । আজ যখন সেই স্বপ্ন, বাজারে কিলোদরে বিকোচ্ছে , তখন ওনার আসার খবরে চাঞ্চল্য স্বাভাবিক ।

শেষ পর্যন্ত উনি এলেন । পাহাড় বেয়ে নেমে এসে,এক-ই ভঙ্গিতে মঞ্চে উঠলেন। বলতে শুরু করলেন । ভিড় যেন কোন কিছু খুঁজছিল। কিছু একটা,যা আগে ছিল,এখন নেই । অসহিষ্ণু ভিড় আস্তে আস্তে দেখতে শুরু করেছে ---- ওনার পোশাক এখন ভিড়ের পোশাক নয়,ওনার ভাষ্য এখন ভিড়ের কথা নয়,ওনার মন এখন আর ভিড়ের শরীরে থাকে না । আস্তে আস্তে ভিড়,নড়তে শুরু করল। পুকুর পাড়ের,ভাঙ্গা পুলের পাশে, মঞ্চে নয় মাটিতে দাঁড়িয়ে, এক যুবক অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। ভিড় তাকে ঘিরতে শুরু করল ।

মঞ্চের উপর থেকে উনি ভিড়কে দেখছেন । মনে হচ্ছে ভিড় যেন কিছু একটা হারিয়েছে।আগে ছিল, কিছু একটা ---এখন নেই । উনি আস্তে আস্তে দেখতে পেলেন--- ভিড় তার ভাষ্য শোনার কান হারিয়েছে,হারিয়েছে তার মনে নৈকট্য। হয়তবা ভিড়ের পুরনো মনটাই হারিয়ে গিয়েছে। উনি দেখতে পেলেন ভিড় তার মুখ ঘুরিয়েছে পুকুর-পাড়ে,পুলের দিকে। কেউ একজন অনর্গল কথা বলছে । চেষ্টা করলেন মানুষটাকে চিনতে,আলাদা করতে পারলেন না। ভিড়ের মানুষ ।

চশমার কাঁচটা মুছে উনি আবার দেখার চেষ্টা করলেন। এবার দেখতে পেলেন। অবাক হয়ে দেখলেন ,পুলের পাশে দাঁড়ানো বছর ২২এর যুবক তো উনি নিজেই। বিস্মৃত যৌবনের উনি । আগুন ঝড়ানো উনি। তার হারিয়ে ফেলা ---আমি ।মঞ্চের উপড়ের আজকের উনি,অতিতের নিজের সাথে লড়াই-এ জিততে গলার পর্দা চড়ালেন । তবুও ভিড় ক্রমশই সরে যেতে থাকলে, উনি চিৎকার করতে চাইলেন ।আওয়াজ বেরল না। গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে । ভিতরের রক্তক্ষরণ অবশ্য শুরু হয়েছে বহুদিন । উনি জল চাইলেন । কেউ শুনতে পেল না । ভিড় তখন আগুন দেখতে --- পুলমুখি ।