শনিবার, ২৪ মে, ২০১৪

রম্য রচনা - ১ ~ অবিন দত্তগুপ্ত

হাসপাতালের ঘর । মেয়েটা আলতো চোখ খুলেছিলো । যন্ত্রণার নিদ্রা ,ভেঙ্গেছিল একটা পরিচিত কন্ঠস্বর । অথবা হয়ত ওইটুকু সময়ের জন্যই তাকে জাগতে হত । অরিত্রি চোখ খুলে ,তার অসীমদাকে দেখল। এম এল এ অসীম-কে দুচোখ ভরে দেখে অরিত্রি একি রকম মুখে জানালো ," অসীমদা, পাঞ্জাবির রঙটা বেশ ভালো। তুমি আজকাল জর্দা খাও ? " ... অসীম জানতো,গন্ধটা ওর শরিরের নয় । নিচেই স্করপিও তে বসে দুটো চুন সুরকিওয়ালা- দেড়টা প্রোমোটার । গন্ধটা ওদের নিশ্বাসের । অসীম জানতো , গন্ধটা অরিত্রি পাবেই...হয়ত গন্ধ চেনাতেই এই শেষ আসা " ...

মনে আছে ,একটা সময় অসীমের বাড়ি ফেরা,আর শ্মশান যাত্রা ছিল সমার্থক । বাড়িতে একা মা ,টিউশানের পয়েশা জুটিয়ে,বাড়িতে খাওয়ার পউছাতো এই অরিত্রি । তখন ও ১৬-১৭ ,অসীম বোধহয় ২২ । তারপর অনেক জল বয়ে গেছে গঙ্গায়-পদ্মায় । ওদের দুজনের স্বপনের ভোর এসেছে । বিয়ে করেছে অসীম । আগুনখেকো নেতা থেকে আজ মন্ত্রী । অরিত্রি মানুষ ছাড়েনি । আজ এতো বয়েসে ,আবারো মুখোমুখি ... জল বদলেছে,আকাশ বদলেছে,বদলেছে অসীমের বেঁচে থাকার মানে । অরিত্রি এখনো ধুলো মুখেই বাড়ি ফেরে । নেকড়ের দল , অসীম জানে যাদের লোক তার নিজের স্করপিওতে...কিন্তু নিরুপায় ,তাদের -ই নখে আজ অরিত্রি বিছানায় । তাদের-ই নখে লাল পতাকা শতছিন্ন ...অসীম জানে,অরিত্রি জানে এসব কথা । তবুও অসীম জানে, জোড়া ভুরু তুলে অরিত্রি-ই একমাত্র চাইতে পারে তার দিকে,সেলাইন লাগানো শিরা বের করা হাত দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বলতে পারে " দেখ তো হাত-টা ধরতে পার কি না ? "