শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

​ভবসাগর-কারণ ~ অমিতাভ প্রামাণিক

সংসারে আর মন টেঁকেনা, এ ঘরখানায় দশ ফুটে
বন্দী থাকি আর কতকাল, তাই বলে যাই অস্ফুটে
হাড্ডাহাড্ডি লড়বো না, ঘাম ঝরাবো না, কি রক্ত –
এবার আমি বেরিয়ে যাব, কী লাভ, হয়ে বিরক্ত?
খুব ভয়ে রোজ বাজারে যাই সকাল বেলা দশটাতে,
এদিক ওদিক খুঁজে বেড়াই কে দিচ্ছে কী সস্তাতে।
মাছ কিনতুম যার কাছে, আজ সমঝে গেছি, বজ্জাত এ –
কী অপমান করছে দাদা, যাচ্ছিনে তাই লজ্জাতে।
সবজি বাজার? হাল একই তার, কী দাম, কী দাম, জঘন্য!
কেজি না আজ, আড়াইশো গ্রাম, পকেটের হাল নগণ্য।
ফিরলে বাড়ি গিন্নী চ্যাঁচান, আসেন তেড়ে বাঁশ তুলে;
ভাবছি এবার জাহাজঘাটায় পাল তুলে দি মাস্তুলে।
এতদিন তো কাটলো জীবন, করে পরের দাসত্ব –
এবার একাই বেরিয়ে যাব, তাই লিখে যাই, যা সত্য।
ভুল গাছে রোজ জল দিয়েছি, একটা ফলও না ফললো,
ঐ ফেলুদা সব পেয়েছে, এই ফেলুর কী সাফল্য?
বিয়ের আগে ভেবেছিলেম, যে মেয়েটা লাবণ্য,
দু তিনটে যুগ ঘর করে আজ দেখছি তাকে, কী বন্য!

ভাবছ আমি ফ্রাস্টু খেয়ে লিখছি বসে যা সত্যি?
ভীমরতি তো একটু হবেই বয়স হলে বাষট্টি!

৯ নভেম্বর ২০১৩