মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩

ভাষা বিভ্রাট ~ তমাল রাহা

কেউ যদি ক্রমাগত হাসিমুখে "বালে বালে বালে বালে" অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বলতে থাকে তাহলে আপনার কেমন লাগবে? হ্যা, আমারও সেরকম অবস্থ্যা হয়েছিল স্পেন এ এসে। শালা যাই বলি তাই শুনে লোকে তার দন্তবিকশিত করে "বালে বালে বালে বালে" বলে যেত। পরে জানলাম অর মানে হলো "ঠিক আছে"........ হ্যা, ঠিক ধরেছেন, এবার বিষয় টা হলো ভাষা।
ছোটোবেলার কথা।তখন ইস্কুল এর ছুটি পরলেই বারাকপুর যাওয়া হত। আর সেখানে গেলেই আমি মেতে উঠতাম খেলায়। আর খেলাধুলো করলে একটু হাতাহাতি তো হয়ই বৈকি! আমি একটু গায়েগতরে ছিলাম বরাবরই। মামাবাড়িতে তো ডাকনাম তা "গোদা" ই রয়ে গেছে।একবার হলো কি, পাড়ার বাবু নামে একটি ছেলের সাথে লাগলো ঝামেলা। ওরা তখন বাংলাদেশ থেকে সদ্য সদ্য এদেশে এসেছে। ঝগড়া টা হাতাহাতি তে বদলাতে সময় লাগলো না। আমিও হুট করে পা চালিয়ে বসলাম ...... আর লাগবি তো লাগ একদম মোক্ষম জায়গায়। আসল ঘটনা শুরু এরপর। খেলা উঠলো মাথায়। বাড়ি ফিরে এলুম। কিছুক্ষণ বাদে বাড়ির বাইরে প্রচন্ড চিত্কার চেঁচামেচি। বেরিয়ে দেখি বাবুর মা বলছেন "তোমাগো পোলায় আমার পোলার পোতায় হেমনে লাত্থায়সে যে আমার পোলা পোতা হাতে লৈয়া কান্দতাসে।" আমার মা আর দিদি তাই শুনে কিছু বুঝতে না পেরে ক্রমাগত প্রশ্ন করে চলেছে "পোতাটা কি জিনিস?" শেষে বাবুর মা বললেন "আরে হেইটাও যেন না, মোতনের কামে লাগে যেইটা!" আমার মা আর দিদি এখনো গল্পটা বলতে বলতে হেসে কুটোপাটি হয়ে যায়।
গোলোকপতি বাবু ছিলেন আমার ইস্কুলের ইংরিজির মাস্টারমশায়।সেটা নব্বুই দশকের গোড়ার কথা।আমি তখন কলেজে পড়ি। ছুটিতে দুর্গাপুর গিয়ে শুনি আমাদের ইস্পাত ইস্কুলের দুই-জন জনপ্রিয় মাস্টারমশায় রতন বাবু, স্বাধীন বাবু, ইহলোক ত্যাগ করেছেন। মনটা খারাপ। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি। হঠাত দেখা গোলোকপতি বাবুর সাথে। বললুম, "স্যার, শহরে এসে খবরটা শুনলুম। মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে।" গম্ভীর মুখে স্যার উত্তর দিলেন "হ্যা, তমাল, ব্যপারটা খুবই আশাতীত।" অত দুঃখেও সেদিন হো হো করে হেসেছিলুম মনে আছে।
যুগযুগান্ত ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর। ঐ দিনই হিটলারের নেতৃত্বে নাত্সী জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে ঐ ১লা সেপ্টেম্বর দিনটিকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরোধী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বশান্তি আন্দোলন। পশিমবঙ্গে ওই দিন-টিতে বামপন্থী দলগুলি করে যুদ্ধবিরোধী শান্তি মিছিল। ছাত্র-যুব রাও যোগ দেন। আমিও যোগ দিয়েছি। একটা শ্লোগান ছিল "দাগো দাগো কামান দাগো, পেন্টাগন এ কামান দাগো।" কিন্তু মিছিলের শেষের দিকে কিছু ছেলেকে বলতে শুনেছিলাম, "দাগো দাগো কামান দাগো, প্যান্ট-টা খুলে কামান দাগো।" জানি না ওটা ওদের অজ্ঞানতা বশত না অসভ্যতা ছিলো। 
এর সাথে আরেকটা জিনিসের মিল খুঁজে পাই। ইস্কুলের প্রেয়ার-এর লাইন-এ … অনেকেরই হয়ত এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে। 
ভাষা ব্যবহারকারীর দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলা চতুর্থ ভাষা। এটা গর্ব করার মতো বিষয় হলেও আমরা নিজেরাই বাংলা ভাষাকে বিপন্ন করে তুলছি।
মানুষ লিখতে শিখেছে পাঁচ-ছয় হাজার বছর আগে; কিন্তু বলতে শিখেছে অন্তত ষাট হাজার বছর আগে। এ সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে বহু ভাষার উদ্ভব হয়েছে, আবার তা বিলীন হয়ে গেছে, যেমন অনেক সভ্যতার উত্থান ও পতন ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অনেক বড় বড় সভ্যতা ও অসংখ্য ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস স্মরণীয়। একসময় উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় অসংখ্য 'রেড ইন্ডিয়ান' ভাষা প্রচলিত ছিল। কয়েকশ বছর আগে ইউরোপীয় দেশের উপনিবেশে পরিণত হওয়ার ফলে সেসব ভাষা ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তর আমেরিকায় চালু হয়েছে ইংরেজি আর দক্ষিণ আমেরিকায় স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষা। 
ইচ্ছে করে ভাষা বিকৃতিটা নিন্দনীয়! তবে, মজা করার জন্য এদিক-ওদিক হলে মার্ডারাস হওয়ার কারণ দেখি না কারণ ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল; পরিবর্তন হচ্ছে এবং হতে থাকবেই। এটা ঠেকানোর উপায় নেই কোনো। তবে, সবসময় একটা মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টা ভালো। তা না হলে পরিবর্তনটা বিশৃংখলায় পর্যবসিত হবে। যেমন ধরা যাক আজকাল facebook এ প্রায়ই দেখা যায়,
পষ্টিয়ে দে 
আরো পোস্টান
গুগলাইয়া
আজকাল ইল্যান্ডে অনেকেই excuse me এর জায়গায় অনেকটা মজা করেই squeeze me বলে থাকেন কিংবা লিখে থাকেন। এটা স্রেফ মজা। দেখুন ওদের শব্দদুটিতে উচ্চারনের জায়গাটা প্রায় কাছাকাছি হলেও শব্দার্থে কত ভিন্নতা। এটা প্রায় বিশ্বের সব দেশেই কম বেশী হচ্ছে।
তাছাড়া, পূর্ণবয়স্কদের জন্য ভাষায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়তো তেমন ক্ষতিকারক নয় কিংবা হবে না যতটা না শিশুদের ক্ষেত্রে হবে। শিশুরা সহজে বিভ্রান্ত হয়ে যাবে - ভুলটাকেই শুদ্ধ মনে করে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে। এটা নি:সন্দেহে একটা ভয়ংকর একটা ব্যাপার হবে! একটা মানদণ্ডের সাধারণ অনুশীলনকে উত্সাহ না দিলে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ ভাষার বিকৃতিতে সহজে আক্রান্ত হবে। ভাষার এদিক-ওদিক হলেও প্রমিত ভাষা সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা দরকার।
তাই এবার একটু ভাষাচর্চা করা যায় কি সবাই মিলে ?