শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৩

এগ্রিকালচার ~ অমিতাভ প্রামাণিক

সেই সময়ের কথা বলছি, যখন ভারতবর্ষে সিন্ধু সভ্যতা-টভ্যতা তৈরী হয়ে গেছে। লোকে শহর বানিয়ে ফেলেছে, তাতে ড্রেন ফ্রেন আছে, থালাবাটিতে খাওয়া দাওয়া হয়, মেয়েরা কবজি থেকে বগল পর্যন্ত চুড়ি-বালা পরে ভাবে কী সুন্দরই না দ্যাখাচ্ছে। শহরের পাশে নদীর ধারে চাষবাস হয়, সেখানে ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা, ইত্যাদি। অথচ পৃথিবীর পশ্চিমে তখনো সভ্যতার আলো ঢোকেনি। মানুষের ল্যাজ খসবো খসবো করছে, পুরোটা খসেনি। তারা তখনো গাছে গাছে হুপ হুপ করে বেড়ায়। এক কাঁদি কলা দেখলেই হুজ্জুতি মারামারি বাধিয়ে দেয়।

হাওয়ায় খবর ভেসে এল, জানিস, পূবদিকে এক দেশ আছে, যেখানে মানুষ নিজের খাবার নিজে বানায় চাষবাস করে। চাষবাস ব্যাপারটা কী, তা তো তারা জানে না। তাই সরেজমিনে তদন্ত করতে এক সদস্যের একটি দল এসে হাজির হল হরপ্পার পাশের গ্রামে।

সেখানে চাষীরা তখন গমের ক্ষেতের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। হঠাৎ দেখে অশোকবনে সীতার মত এক অদ্ভুতাকৃতি অ্যালায়েন তাদের দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে আছে। তারপর কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে কী একটা খটোমটো ভাষায় জিজ্ঞেস করলো, এইসব গমের ক্ষেত তোমাদের নিজের বানানো?

এরা কিস্যু না বুঝে মুণ্ডি হিলিয়ে দিল। স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডিয়ান রেসপন্স, বুঝতে না পারলে মুন্ডি হিলাও, যার মানে হ্যাঁ-ও হতে পারে, না-ও হতে পারে। বিদেশী লোকটা বলল, এগুলো কী খুব ডিফিকাল্ট টাস্ক? আবার মুন্ডি হিলালো ওরা।
- তোমরা অনেক বছর ধরে এইসব করো?
আরেক প্রস্থ মাথা নাড়ানো।
- কী করে শিখলে এইসব? আমাকে শেখাবে? ধরো আমি যদি ফিরে গিয়ে আরো কিছু আমার জ্ঞাতিভাইদের নিয়ে আবার মাসখানেক পরে ফিরে আসি, আমাদের শিখিয়ে দেবে তো কী করে চাষবাস করতে হয়?

যাই জিজ্ঞেস করে সেই লোক, এরা কেবল পেন্ডুলামের মত মাথা দোলায়। লোকটা ভাবলো এরা সব প্রশ্নের উত্তরেই হ্যাঁ বলে।

লোকটা ফিরে যাওয়ার পথে ডাইরীতে লিখে রাখল তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। দেশে ফিরে যাওয়ার পথে মরুভূমিতে পথ হারিয়ে মারা যায় সে। বহু বছর পরে তার কঙ্কালের পাশে সেই ডাইরী উদ্ধার হয়। সেখানে লেখা, Indian culture is so developed, they can make their own food. The strength lies in their agree culture.

সেই থেকে চাষবাসের ইংরাজী প্রতিশব্দ এগ্রিকালচার।