শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩

"আরও কিছুদিন আমাদের মধ্যে থাকলে পারতেন না স্যার?" - তমাল রাহা


আরও কিছুদিন আমাদের মধ্যে থাকলে পারতেন না স্যার? সময়টা যে ভালো কাটছে না!
গণসঙ্গীত এর স্বর্ণযুগ-এর কান্ডারীরা আর কেউ নেই। হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সলিল চৌধুরী, ভূপেন হাজারিকা, চট্টগ্রামের প্রান্তিক শিল্পীগোষ্ঠীর হরি প্রসন্ন পাল (যাকে বলা হতো বাংলার পল রবসন), নির্মলেন্দু চৌধুরী …. সবাই তো একে একে চলে গিয়েছেন। এবার চলে গেলেন অজিত পান্ডে …............... আর ভালো লাগে না …..........
বাবার কিনে আনা প্রথম কয়েকটা রেকর্ড এর একটা ছিল অজিত পান্ডের গান …. এখনো কানে বাজে মৈনাক মহলানবীশ সুরে ও ক’থায় অজিত পান্ডের গান, “পদ্মারে, তোর ঢেউয়ে ঢেউয়ে আমি নাও বাইয়া যাই পদ্মারে ….
পদ্মারে, তোর দুই পারেতে ধানের
ক্ষেতে দোলা লাগে একই হাওয়াতে
….......
কোজাগোরী আর রমজানের চাঁদ
হাসে দেখি তোর একই জলেতে।
ভোলা কি যায়? কোথায় যে হারিয়ে গেল রেকর্ড টা!
একটা অদ্ভূত প্রবনতা ছিল, কবিতা কে গান বানানোর। কখনো সেটা “অমলকান্তির রোদ্দুর হতে চাওয়া”-র মত, কখনো বা শ্রী অরুন চট্টোপাধ্যায়-এর ‘সাঁঝ বিহান’ এর মত কবিতা নিয়ে experiment.... বাদ রাখেন নি শ্রী অন্নদা শংকর রায়ের satire কেও …. ‘যেখানেতে ঘটে যত অনিস্টি, সকলের মূলে কমিউনিস্টি।’...
নিজেকে সরিয়ে রাখেন নি কখনো গণ-আন্দোলন এর থেকেও। "নক্সালবাড়ি সংগ্রাম সহয়ক কমিটি"র হয়ে গান গান বাঁধলেন,
তরাই কান্দে গো , কান্দে আমার হিয়া
আর নক্সালবাড়ির মাঠ কান্দে গো
সপ্ত কন্যার লাগিয়া।
বড়দের কাছে শুনেছিলাম চারুবাবুকে এই গান শোনানো মাত্র অজিত পান্ডের কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, "অজিত, তরাই কাঁদছে না, তরাই জ্বলছে।” কথা পাল্টে দিলেন অজিত পান্ডে
"তরাই জ্বলছে গো, জ্বলছে আমার হিয়া
আর নক্সালবাড়ির মাঠ জ্বলে গো
সপ্ত কন্যার লাগিয়া"
চাসনালা খনি নিয়ে অজিত পান্ডের গান কে ইতিহাস বললেও বোধহয় কম বলা হয়। গানটার সুরের জাদুতে আচ্ছন্ন ছিলাম ছোটবেলা থেকে। বাবার কাছে শুনেছিলাম চাসনালা খনি-র শ্রমিকদের মৃত্যুর বিবরণ। গানটার মধ্যে যেন দেখতে পেতাম বিধবা শ্রমিক রমনীর কান্না।
ইস্কুলে পরি তখন, খাতায় লিখে দিয়েছিলেন “গুলি আর বোমা হোক ধারালো, কাস্তে টা শান দিও বন্ধু”, আর তার তলায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা “অজিত পান্ডে”...
আরও কিছুদিন আমাদের মধ্যে থাকলে পারতেন না স্যার? সময়টা যে ভালো কাটছে না!



চাসনালার খনি তে শুনুন -