বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

হবেনা শেষ। হতে দেওয়া হবে না - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

সকালবেলা অফিস বেরোবার আগে একবার কাগজে চোখটা বোলাই। আমার আবার বড় সড় খবরে চোখ যায়না খুব একটা। বড় সড় বলতে, ওই যে, মুখ্যমন্ত্রি কাকে যেন বলেছেন হিম্মত থাকলে করে দেখান, ছত্তিসগড়ে এক গাদা কংগ্রেসি নেতার ওপরে মাওবাদীরা টারগেট প্র্যাকটিস করেছে, সচিন আর আইপিএল খেলবেনা, ওয়েন রুনির ছেলে হয়েছে ইত্যাদি প্রভৃতি। আমার নজর থাকে, একটু আড়ালে থাকা, কিঞ্চিত ছোট হরফের হেডিংওয়ালা খবর গুলোতে। মূলতঃ খেলার খবরই। কোথায় যেন পড়েছিলাম যে সমস্ত মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি বেশি, তাঁরা সাধরনতঃ মনোনিবেশ করেন শিল্পে, সাহিত্যে, সঙ্গীতে। আর বাকি যারা, কম বুদ্ধির দলে (সংখ্যায় এনারাই বেশি), মাতামাতি করেন কিছু হুড়োহুড়ি মার্কা ব্যাপার স্যাপার নিয়ে। এবং এই হুড়োহুড়ি মার্কা ব্যাপার স্যাপারের একটা উদাহরনও দেওয়া হয়েছিলো – ফুটবল। বিশ্বাস করুন, নিজেকে বুদ্ধিহীনের দলে আবিস্কার করে যত না গ্লানি জমেছিলো, তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলাম, যে পৃথিবীর সংখ্যাগুরু লোক, এই একটা গোলাকার বস্তু নিয়ে মাতামাতি করে, এবং আমিও তাদেরই দলে। ছোটবেলায় ফুটবল দেখতাম কেমন ঘোরলাগা চোখে। তেমন নির্দিষ্ট কোন খেলোয়াড় নয়, পুরো খেলাটাই কেমন যেন একটা রূপকথা মনে হতো। বড়হতে দেখলাম, ছোটবেলার বেশিরভাগ ভালোলাগাগুলো একে একে বিদায় হলো, কিন্তু ফুটবলের ঘোর আর কাটলোনা।
রুনির ছেলে, বেকহ্যামের উল্কি, মারাদোনার জামাই, বেকেনবাউয়ারের বিবাহবিচ্ছেদ, খবরের কাগজের ফুটবল সংক্রান্ত এই সব মুখরোচক খবরে আমার একেবারেই উৎসাহ নেই। আমার উৎসাহ ফুটবলে, ফুটবলারে নয়। আর আজকাল যেমন দেখি, বার্সিলোনা, ম্যাঞ্চেস্টার বা মিলান নিয়ে মাতামাতি, তার থেকে অনেক অনেক দূরে আমার ফুটবল এখনো ঘুরপাক খায় গড়ের মাঠে। সেই মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল বা মহামেডান স্পোর্টিং। আমার কাছে, একটা ফুটবল দলের তিনটে অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকতেই হবে। প্রথম খেলোয়াড় ও কোচ, দ্বিতীয় কর্মকর্তা ও তৃতীয় সমর্থকরা। আজকাল টাকা ঢেলে ভুঁইফোড় অনেক ক্লাব গজাচ্ছে। আমার কাছে এরা কখনোই ফুটবল দল নয়, কেননা এদের সমর্থক নেই। সমর্থক ছাড়া ফুটবল কিসের মশাই? আর আমার খারাপ লাগে ম্যাকডাওয়েল মোহনবাগান, বা কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল শুনতে। কোনদিন শুনেছেন এমিরেটস্‌ আর্সেনাল, ইউনিসেফ বার্সিলোনা বা স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড লিভারপুল? এমিরেটস্‌ কি ম্যাকডাওয়েলের চেয়ে কম টাকা দেয়? তাহলে কেন আমাদের ক্লাবের নামের আগে ম্যাকডাওয়েল বা কিংফিশার বসবে?
এসব নিয়ে আলোচনা, কোর্ট-কাছারি কম হয়নি। আমার এখানে এসব নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছেও নেই, মুখও নেই। গঙ্গাপারের যে দলটাকে সমর্থন করি, গত দু বছর সেখানে ট্রফির নামগন্ধ নেই। ওয়াকওভার পাওয়া ট্রফিকে হিসেবে ধরিনা। গত মরশুমে একের পর এক পরাজয়। আমি বোধহয় আমার জীবনের প্রথম ২৫ বছরে মোহনবাগান কে মোট যতগুলো খেলায় হারতে দেখেছি, গত দু বছরে দলটা তার চেয়ে বেশি খেলায় হেরেছে। অথচ দেখুন, দলটা কিন্তু এত খারাপ নয়। বছরের শুরুতে দেখি এক জন কাউকে কোচ করা হয় অনেক ঢাক পিটিয়ে। বছরের মাঝামাঝি তাকে কুলোর বাতাস দিয়ে তাড়ানো হয়। আবার এক জন আসে, এবং আই-লিগের দ্বিতীয় পর্যায়ে খুব ভালো খেলার পরেও তাকে আবার তাড়ানো হয়। এই যে সুভাষ ভৌমিকের কোচিং পেয়ে এবারে চার্চিল ব্রাদার্স আই-লিগ ঘরে নিয়ে গেলো, এই সুভাষ ভৌমিককেও কিন্তু আমরা বাতিল করেছিলাম। সে সময়ে এনাকে কোচ রেখে দিলে, কি ক্ষতি বৃদ্ধি হত? ট্রফি বিহীন তো সেই থাকতেই হলো। গত বছর শেষে বাবলুদা এসে টিমটাকে তবু কিছুটা দাঁড় করালো। কিন্তু তাকেও সরিয়ে দেওয়া হলো। আমি কিন্তু কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে বসিনি। তাঁরা ক্লাবের অবিছেদ্য অংশ। তাঁরা না থাকলে ক্লাব থাকেনা। আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। প্রথমে একটু পেছিয়ে যাই।
তখন আমার বয়স ১২ কি ১৩। একদিন বিকেল বেলা বাবার হাত ধরে ক্লাবে ঢুকছি। কেমন যেন স্বপ্নের মত লাগত মোহনবাগান ক্লাব কে। ক্লাব ঘরের সামনে একটা চেয়ার পেতে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক বসে আছেন সাদা ধুতি আর হাতা গোটানো সাদা সার্ট পরে। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, পায়ে বিদ্যাসাগরি চটি। বাবাকে দেখে বললেন, নিয়ে যাও ভেতরে, ক্লাব দেখুক। মোহনবাগান কে চিনুক। আমাত মাথায় হাত দিয়ে চুলগুলো একটু ঘেঁটে দিলেন সেই বৃদ্ধ। দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে বাবা ফিস্ফিস করে বললেন, ওই বৃদ্ধ হলেন উমাপতি কুমার, সে সময় ক্লাবের সহ-সভাপতি। কেমন যেন টলে গেছিলাম কথাটা শুনে। ইনিই কুমার বাবু? সেই ভুবন বিখ্যাত ডিফেন্স চেরা থ্রু-পাশ বেরোত এনারই পা থেকে? বই পত্রে এনারই ছবি দেখেছি? পেছন ফিরলাম আবার, দেখলাম বৃদ্ধ আমাদের দিকে ফিরে আছেন। হাসলেন, বললেন দেখো ঘুরে ঘুরে, এখানে যা দেখবে, মনে রেখো, তোমরাই তো পরে ক্লাবকে ধরে রাখবে। সেবারে ক্লাবে ঘুরতে ঘুরতে এবং তার পরেও দেখেছি কর্মকর্তাদের। শৈলেন মান্না ছিলেন, ছিলেন চুনি গোস্বামী। ছিলেন ধীরেন দে সবার ওপরে ছাতার মত, মহীরুহের মত। এনাদের কথা পাড়লাম কেন? একটু ভেবে দেখুন তো, এনাদের ইতিহাস গুলো কি। এনারা প্রত্যেকেই খ্যাতনামা খেলোয়াড়। ধীরেন দে ফুটবল খেলেননি, কিন্তু মোহনবাগানের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন বহু বছর। মাঠের প্রতিটি ঘাস, খেলোয়াড়দের প্রতিটা ঘাম আর রক্তের ফোঁটাকে এনারা চিনতেন। এ ছাড়া ছিলেন বিরু চ্যাটার্জি, গজু বসু। কলকাতার আসেপাশে এবং দূর দুরান্তের গ্রাম ঘুরে খেলোয়াড় তুলে আনতেন এনারা। খেলা দেখে চিনতেন। জহুরির চোখ ছিলো। যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয়, কখনো বিদেশ বসু বা সুরজিৎ সেনগুপ্তদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।
মোদ্দা কথা হলো, মোহনবাগান চিরকাল ছিলো খেলোয়াড়দের ক্লাব। খেলোয়াড়রাই চালাতেন, খেলোয়াড়রাই দল তৈরি করতেন, এগিয়ে নিয়ে যেতেন। এটাই তো দস্তুর, আপনি ইয়োরোপে দেখুননা, উয়েফার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন মিশেল প্লাতিনি। জার্মান ফুটবলে শেষ কথা বলেন বেকেনবাউয়ার। আমাদের এখানে কেন সেটা হবেনা? মোহনবাগানে প্রাক্তন ফুটবলারের অভাব ঘটেছে? শিশির ঘোষ, সত্যজিত চ্যাটার্জি রা নেই? প্রদীপ চৌধুরি কোথায় গেলেন? অলক মুখার্জি দূরে সরে আছেন কেন? মানস – বিদেশ কই? তনুময় বসু, দেবাশিষ মুখার্জি, প্রতাপ ঘোষরা কই? চুনি গোস্বামী কেন আসেন না ক্লাবে? কিসের অভিমান? মোহনবাগানের ওপর অভিমান করে থাকতে পারবেন চুনি বাবু? প্রসূন ব্যানার্জি ভোটে লড়তে পারছেন, আর মোহনবাগানের বাঁচার ম্যাচটা খেলবেন না? বাবু মানি, উলগানাথন, আবদুল মজিদ কে কোনদিন জিজ্ঞেস করে দেখুন, ওনারা মোহনবাগানের নামে কি কি দিতে প্রস্তুত। শেষে আসছি চিরবিতর্কিত বাবলু ভট্‌চাজের কথায়। এই লোকটা কিন্তু পারে সব কিছু ঘোরাতে। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি এটা। আমার চোখে সেই ছোটবেলা থেকে ও সুপারম্যান। হতে পারে ও ঝগড়ুটে, ও ঘোঁট পাকায়, ও নিজেকে ফোকাসে রাখতে চায়। কিন্তু আদ্যন্ত মোহনবাগানী এই লোকটা। শুধু এনারাই কেন? তথাকথিত ইস্টবেঙ্গলের লোক সুরজিৎ সেনগুপ্ত কে জিজ্ঞেস করে দেখুন না। নিজের এক মাসে মাইনে বাজি রেখে বলছি, সুরজিৎ সেনগুপ্ত আসবেন। আসবেন সমরেশ চৌধুরি, ভাস্কর গাঙ্গুলি, গৌতম সরকার, মইদুল ইসলাম। মোহনবাগান কোথাও না কোথাও বড্ড বেশী করে জড়িয়ে আছে এনাদের রক্তে। চার্চিলের কাছে মোহনবাগান ৩ গোল খেলে, এই তথাকথিত ইস্টবেঙ্গলের লোকগুলোও শান্তিতে ঘুমোতে পারেনা। যে দাপট, যে অহংকারের জন্ম এনারা দিয়ে গেছেন আমাদের ভেতরে, গোটা দেশের ফুটবলকে শাষন করে, তাতে করে এনারা চুপ থাকতে পারেন না। এই হার ওনাদেরও অহংবোধে ধাক্কা দেয়।
এ তো গেল একটা দিক। সমর্থকদের জন্যেও কয়েকটা কথা আছে। আমরা হারছি, মনে কষ্টও পাচ্ছি। কিন্তু সেটার প্রকাশ সঠিক ভাবে হচ্ছে না। ফেসবুক বা টুইটারে কিছু পোস্ট, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সঙ্গে ঝগড়া, মাঠে আর না যাওয়া। নিজেদের কিছু আবদ্ধ জায়গায় দেবাশিষ দত্ত, অঞ্জন মিত্রদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেওয়া, আর একজন দোষী খুঁজে চলা। কিন্তু এর বাইরে কি কিছু নেই? দায়িত্ব নেই কোন? ফিরিয়ে আনুন খেলোয়াড়দের। তুলেদিন ক্লাব ওনাদের হাতে। তাই বলে কর্মকর্তাদের তাড়িয়ে দেবার কথা একবারও বলিনি কিন্তু। খেলার দায়িত্বে থাকুন খেলোয়াড়রা। মাঠ, দল, কোচ এদের দায় নিন পুরোনো খেলোয়াড়দের কমিটি। এনাদের হাতে এক বছরের জন্য তুলে দেওয়া হোক দলকে। কর্মকর্তারা থাকুন পেছনে। এ বছর আর হবার নয়, কিন্তু সামনের বছরের জন্য এটা হোক। এখন থেকে প্রাক্তনীরা খেলোয়াড় বাছুন। ক্লাবের সঙ্গে থাকুন, টিমের হাল দেখুন। আর সামনের বছরের জন্য পরিকল্পনা করুন। কোচ তাড়াবেন না। অন্ততঃ আগামী পাঁচ বছর, সে করিম ই হোক বা অন্য কেউ। সমর্থকদের আরো বলি, হঠাৎ করে দিন বদলাবে না। ধৈর্য্য ধরতে শিখুন। এক দিনে ক্লাবটা তলায়নি। এক দিনে সব শুধরেও যাবেনা। প্রথমে কিছু ফলাফল আশা করা উচিত নয়। কেউ ম্যাজিক জানেন না। ক্লাবের পাশে থাকুন। সমালোচনা যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে পড়ে। ফুটবল মাঠে সবাই পরিশীলিত আচরন করবেন, এটা কেউ আশা করেন না। কিন্তু তার মধ্যেও একটা সংযম আমাদের আনতেই হবে। অহেতুক চাপে ফেলা নয়, বরং পাশে থাকা। চিৎকার করে সমর্থন করা, গালাগাল দেওয়া নয়। আর জনমত গড়ে তোলা, যেন ক্লাবে প্রাক্তনীরা ফিরে আসেন। বর্তমান কর্মকর্তাদের বোঝান যে সবাই আমরা ক্লাবটার ভালোই চাই। পাড়ায় পাড়ায় মাইক নিয়ে ঘুরুন, পোস্টার সাঁটুন, ওয়েব সাইটে লিখুন। তবে হ্যাঁ, কিছু জঞ্জাল অবশ্যই আছে। ক্লাবের নাম করে নিজের আখের গোছানোর ধান্ধাবাজ লোক। এদের ক্ষমা করা উচিত নয়। এদের চিহ্নিত করতে হবে। আর লক্ষ্য রাখতে হবে দলকে সমর্থন করার নামে কেউ যেন মাঠে অশান্তি না করতে পারে।
মাঠে অশান্তি করা আটকাবার উপায় কি? যেখানে এক লাখ লোক, কে কাকে চেনে? কিন্তু এরও উপায় আছে। সমর্থকদের সংগঠন তৈরি হোক আরো। কয়েকটা আছে। আরো হোক। সবুজ মেরুন জার্সি পরে মাঠে আসুক “HOWRAH HOARDS, “BAGBAZAR BULLS”, “BEHALA BLASTERS” বা “MIGRANT MARINERS”। কিছু ব্লকের টিকিট এনাদের হাতে দেওয়া হোক, আর বাকিটার দায়িত্ব নিক পুলিস। ঠিক যে ভাবে ইংল্যান্ডে খেলা দেখেন দর্শক। মারকুটে খুনে ইংরেজ দর্শকদের কটা ইপিএলের খেলায় আপনি মারামারি করতে দেখেছেন? আস্তে আস্তে গোটা মাঠেরই দখল নিক সমর্থকদের সংগঠন। আর সেখানে গন্ডগোল ঘটলে সেই সংগঠনটি দায়ী থাকুক, ক্লাব নয়।
এবছর ক্লাবের দল তৈরি করার টাকা নেই। স্পনসর তো দরকার বটেই। কিন্তু তার চেয়েও বেশী দরকার নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো। আমাদের কর্মকর্তারা চেষ্টা করলেই পারেন। জোট বাঁধুন না কোন বিদেশী ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে। এতবড় ফুটবলের বাজার কটা পাবেন? তবে ওই লেস্টার সিটি মার্কা জোট নয়। দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক তৈরি হোক। কি দিতে পারি আমরা? তার খতিয়ান নেওয়া হোক। প্রথমে হয়ত কিছুই না। কিন্তু আস্তে আস্তে দিতে পারবো নিশ্চই। সে চেষ্টা হোক। ফিফা তে আমাদের সভাপতির খাতির আছে। সেখানে গিয়ে দেখা হোক। ফিফা সব সময় ক্লাবের পাশে থেকেছে। ক্লাব ফুটবলই বাঁচিয়ে রেখেছে ফুটবলকে। আমাদের মোহনবাগান না থাকলে, কাল ইস্টবেঙ্গল মাঠে লোক হবে তো? স্পনসর টাকা দেবে তো? ইস্টবেঙ্গলের যে সব বন্ধুরা এতক্ষ্যন মুচকি হাসতে হাসতে পড়ছিলেন, এবারে ভেবে দেখুন। মহামেডানে প্রশাসন চলে গেছিলো খেলোয়াড়দের হাত থেকে সেই ষাঠের দশকে। আশীর শেষ থেকে মহামেডান তৃতীয় শক্তি থেকে একেবারে তলানিতে। মোহনবাগানে নব্বই এর শুরু থেকে আর খেলোয়াড়রা প্রশাসনে নেই। গত দশ বছরে কিন্তু ইস্টবেঙ্গলেও নেই। সিঁদুরে মেঘটা আমার লোটা বন্ধুরাও দেখুন। নয়তো মাচাদের দেখে হাসি, শেষে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রজনীগন্ধার মালা দিতে হবে। আমি চাই, শুধু মোহনবাগান নয়, ইস্টবেঙ্গল ও ঘুরে দাঁড়াক। গত দশ বছর ও ক্লাবেও আই-লিগ ঢোকেনি। দুটো ফেডেরেশন কাপ আর তিনটে কলকাতা লিগ নিয়ে খুশি থাকতে মনেহয় আপনারাও পছন্দ করবেন না।
ছোট মুখে অনেক গুলো বড় কথা বলে ফেললাম। শুধু একটা বিশ্বাস থেকে। আমি জানি, কলকাতা ফুটবল মরবেনা। মোহনবাগান মরবেনা। থাকবে। এবং নিজের মত করেই থাকবে। সন্মানের সঙ্গে। মোহনবাগান হবেনা শেষ।  হতে দেওয়া হবে না।