শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৩

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদের রাজনীতি ~ অ মি তা ভ প্রা মা ণি ক

দূর থেকে যতটা নজর করতে পারি, তাতে এটা হৃদয়ঙ্গম করতে কোন অসুবিধাই হয় না, যে বাংলার অবস্থা যাচ্ছেতাই। একেবারে জঘন্য।

ধরে নেওয়া গেল, এর সবকিছুর জন্যে বর্তমান টি এম সি সরকারই দায়ী। কিন্তু উপায়টা কী? বাকিরা কে কী করছেন?

কাগজে যা দেখি, তাতে অবাক হই। প্রধান বিরোধী দল বাম-গোষ্ঠী, তারা শুধুই গরমে ঘাম-ছে। সরকার কী ভুল করছে, তারা সরকারে থাকলে কী করত, এই ব্যাপারে কোন মন্তব্যও দেখি না। বাংলা বা ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কেউ কোথাও দেখেছেন ইদানীং? বামপন্থায় ব্যক্তি, সে যত বড় নেতাই হোক, দলের চেয়ে ছোট। কিন্তু এখন তাদের একমাত্র কর্মসূচী 'প্রোজেক্ট সুদীপ্ত'। একটা যুবকের এই রকম মৃত্যু, কোন নিন্দাই যথেষ্ট নয়, কিন্তু শক বা শোকের চেয়ে সেটাকেই কী করে পলিটিক্যালি ক্যাপিটালাইজ করা যায়, সেটাই একমাত্র বিষয় মনে হচ্ছে। বাংলায় তাদের হৃত 'গৌরব' পুনরুদ্ধারের জন্য নিজেদের সক্রিয় ভূমিকার চেয়ে শাসকদলের ক্রমাগত ভুলের ওপরেই তাদের আশা দোদুল্যমান। ভারতীয় রাজনীতিতে তৃতীয় চতুর্থ ফ্রন্টের আশা দুরাশা মাত্র, সুতরাং কেউ মুখও খুলছে না।

বেঙ্গল কংগ্রেস বুঝে পাচ্ছে না, বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে টক্কর দিয়ে লাভ, না তেল দিয়ে? সামনা সামনি টক্কর দিতে গেলে হয়ত তাকে কিছুটা টলিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু লাভের গুড় খেয়ে যাবে বামেরা, ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে তারা। কংগ্রেসের কী লাভ? আবার তেল দিয়েও যে বিশেষ কিছু লাভ, তাও না, উনি উনার মতই চলবেন। নিজেদের দলের সবার ওপর ছড়ি ঘোরান, তেল দিলে ওদের ওপরেও ছড়ি ঘোরাবেন। দেশের বাজারে কংগ্রেসের পপুলারিটি এমনিতেই কমছে। রাহুল-বাবা ছড়াচ্ছে এখানে ওখানে। মোদীর পপুলারিটি বাড়ছে। এই অবস্থায় টি এম সি'র সাথে পাঞ্জা লড়া মানে নিজের পায়েই কুড়ুল মারা। কিন্তু আঁতাত করাও তো এক মূল্যহীন এক্সারসাইজ! আর লেফ্‌টের সঙ্গেও যে কিছু করবে তলায় তলায়, সে সুযোগও বিশেষ নেই। কথা বলবেই বা কার সাথে? আগে জ্যোতিবাবু ছিলেন, তার সাথে একটা বোঝাপড়া করা যেত, এখন কাকে কে পোঁছে? সুতরাং, কোন পথই খোলা নেই। 

বিজেপি বাংলায় কোনোদিনই তেমন পপুলার নয়। যাও বা কিছু এস্‌টাব্লিশ করেছিল আগে, সেও মমতার সাথে হাত মিলিয়ে। পরে মমতা ডিগবাজি খেয়ে কংগ্রেসের সাথে হাত মেলালো। মোদীকে সামনের সারিতে এগিয়ে দিয়ে বাংলায় বিশেষ লাভ হবে না। বাঙালীরা মোদীর গোধরা আর অ্যান্টি মুসলিম স্ট্যান্ড একদম পছন্দ করে না। আর মোদী সেন্টারে পি এম হলেই বা বাংলার কী? এখানে টি এম সি, লেফ্‌ট্‌, কংগ্রেসের সঙ্গে লড়ে বিজেপি যে বিশেষ কিছু করতে পারবে, তা মনে হয় না। প্লাস, সেন্টারে কংগ্রেস-লেড ইউ পি এ-কে ফোটাতে গেলে টি এম সি'কে সঙ্গে নেওয়ার দরকার হবে, কিন্তু এর রিলায়েবিলিটি একদম নিল। কথায় কথায় ডিগবাজি খাওয়া পাব্লিক সঙ্গে নিয়ে লাভ কী? বামেরা তো কথাই বলবে না, কংগ্রেসও না। সুতরাং চুপ করে থাকাই ভাল।

এ রকম হতদরিদ্র রাজনৈতিক অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে আগে কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। মাত্র কয়েক পিস এম এল এ নিয়েও আগে কংগ্রেস বা টি এম সি ক্ষমতাসীন বামেদের জমানায় আন্দোলন করেছে, তাদের কাজের সমালোচনা করেছে। এখন সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে, কেউ জানে না কী করা উচিত।