শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আমার চিতার আগুনে চোখ মোছ ~ সুনীল পাল

সন্ধ্যে হয়ে এল
এবার আমায় চিতায় তোল
তারপর, চিতার আগুন তার রক্তশিখায় জ্বলতে থাকুক
এক মহান প্রতিজ্ঞা নিয়ে। 

কমরেড !
ঠিক এই সময়,
আমি ফুলের মালা, স্মৃতিসৌধ, শোকজ্ঞাপন, এসব কিছুই চাইনা
আমি চাই, 
আমার স্বপ্ন, প্রথম প্রেমের মত
জেগে থাকুক তোমাদের হৃদয়ে

আহা !!!!
মেঘমুক্ত নিরুদ্বেগ নীলাকাশ
স্বর্ণশস্য আন্দোলিত মাটির পৃথিবী
নদী ও সমূদ্রের উচ্চরোল আনন্দ সঙ্গীত
তার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে
শত শতাব্দীর, প্রাচীন শোষণমুক্ত মানুষের
মহিমান্বিত, দীর্ঘ পদযাত্রা ।


সাতের দশকে খড়দহের কমরেড সুনীল পালের লেখা। মূল কবিতাটার নাম "আমার চিতার আগুনে চোখ মোছ"। 
কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে কবিকে কংশাল রা শ্রেণীশত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে খতম করে। আপাদমস্তক বামপন্থী এই কবি জানতে চান "আমি ?? শ্রেণীশত্রু ?? আমার বাবা মারা গেছেন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সাথে লড়াই করতে করতে, সেই আমি শ্রেণীশত্রু ??
কিন্তু কিছুই বেরোয় না মুখ থেকে, যখন দেখেন তাঁরই বাল্যবন্ধুর হাতে ছোরা, অতিবাম রাজনীতির ছদ্মবেশে কেন্দ্রে বসে থাকা কংগ্রেসী শ্বাপদের ভাড়াটে খুনীর দল। কবি মারা যান। উপরের লাইন গুলো মারা যাবার পরের অনুভূতি।

এখানেই বিস্ময়ের শেষ নয়। এই কবিতা লেখার ঠিক দেড় বছর পর, কমরেড পাল, এই ভাবেই খুন হন। সাল ১৯৭৪, স্থান খড়দহ

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ সৌমিক দাশগুপ্ত