শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

নোনাডাঙার যমুনাবতী ~ অনামিকা

স্কুলে গিয়েছে যমুনাবতী। দাদা চায়ের দোকান।
জনক কোনও আবাসনের সিকিউরিটি স্টাফ
ঢাল তরোয়াল বিহীন শুধু ইউনিফর্ম আছে
আর রয়েছে দিনযাপনের পাপ

দড়মা বেড়া তার ওপরে ভাঙা টালির ছাঁদ
আলো ছিল না বাতাসও নয় তবু তো সেটা ঘর
পাঁচফ্ল্যাটের ঠিকে খাটেন যমুনাবতীর মা
ফিরে আসেন সাঁঝবেলার পর

দিনেও সেই অন্ধকারই গিলতে আসে রোজ
নিরন্ন সব পেটে যখন অপরিসীম খিদে
বস্তি ভেঙে দিচ্ছে হুজুর টাওয়ার হবে বলে
বেঁচে থাকার হাজার অসুবিধে

এখান থেকে ওখানে ওড়ে ঝরা পাতার দল
তাড়া করেছে রক্তচোখ ঘাতক বুলডোজার।
কারা চালায়? একদা যারা বন্ধু সেজেছিল
সুযোগ নেই তাদের ভুল বোঝার!

যমুনাবতী দখল হবে একটু বড় হলে
জমানা আছে একই কেবল বদলে গেছে জামা
বোম্বেটেরা আগুন দেবে প্রশাসনিক সাজে
পৌঁছে দেবে নয়া আদেশনামা

আজকে কোনও ইস্কুল না, আজকে পুড়ে যাওয়া
আজকে বৃথা ঘর পাহারা, বাতাসে ওড়ে ধুলো
তোবড়ানো সব থালাবটির পাশেই হবে ছাই
যমুনাবতীর বইপত্তরগুলো

ভূমিকম্প বন্যা হলে শঙ্খ বাজাতাম
ঘোলাটে রঙ আকাশে শুধু নগর প্ররোচনা
মানুষ যদি মানুষকেই দুর্বিপাকে ফেলে
আমরা ভীতু নিঃশ্বাস ফেলবনা

একটু দূরে মাছের ভেরি। রঙিন রিসর্টেরা
সেজে উঠেছে। উথলে ওঠে বিদ্যাধরী খাল।
নোনাডাঙার উন্নয়নে কাট আউটের মুখে
প্রচার আলো জ্বলেছে আজকাল 

যমুনাবতীর মা বাপ ভাই পাখির বাসা ফেলে
তৃষ্ণা নিয়ে ছড়িয়ে যাবে শহরে কোনাকানায় 
ওদের ছবি না চিনলেও খুঁজলে পাওয়া যাবে
জমা রয়েছে স্থানীয় কোনও থানায়