শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১১

লালগড়ে খুন, কার লাভ? ~ তৃনমাও কংগ্রেস বলছি

মাও কারা? জঙ্গল মহলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। সালকু সোরেন থেকে শুরু করে কয়েক শত সিপিএম কর্মীকে যারা খুন করেছিল তারা মাওবাদী। মেয়েদের কে সামনে রেখে বিকাশের ভাই ছত্রধন যখন সিপিএম এর পার্টি অফিস পোড়ায় তারা জনসাধারনের কমিটি। ভোটের সময় তারা সিপিএমকে হারানোর লড়াই করে তারা তৃণমুল কংগ্রেস। এ কারনেই বলা খুব কঠিন ছ্ত্রধর কি? মাওবাদী, জনসাধারনের কমিটির নেতা, নাকি তৃণমুল।

যৌথ বাহিনীর লড়াই এ যখন জঙ্গলমহলে মাও ও জনসাধারনের কমিটি পিছু হটেছে তখন মাওরা নতুন রুপে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিল। দেখলো সবথেকে নিরাপদ হোল তৃণমুলের রুপ ধারন করা। এবং লালগড়ে যখন সিপিএম এর বিরাট সমাবেশ হল তাদের কাছে জনসমর্থন প্রায় নেই বলেই প্রমানিত হলো। এখন একটাই উপায় ছিল খুন সন্ত্রাস।কিন্তু মাও রুপে যখন তা করা যাবেনা তখন তৃণমুল রুপেই করা যাবে, আর সিপিএম কে খুন করে রাজনৈতিক মাইলেজ যতটা পাওয়া যাবে এই মূহুর্তে তৃণমুল খুন করে সিপিএম এর উপর দোষ চাপালে তার থেকে বেশী পাওয়া যাবে তা দুগ্ধপোষ্য শিশুও জানে। কেননা তারা যখন শয়ে শয়ে সিপিএম কে খুন করে তখন তার জায়গা হয় খবরের কাগজের ভিতরের পাতায় এক কোনে কিন্তু তৃণমুলের লোক খুন হলে তার জায়গা হবে প্রথম পাতায় বড় করে, আর তার ফলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের চাপ মাওদের দিক থেকে ঘুরিয়ে দিতে হবে সিপিএম এর দিকে। বিশেষ করে হার্মাদ নামে কল্পিত ব্যক্তিদের বাস্তব চেহারা দিতে এত গুলো সাধারন মানুষকে খুন করা খুব দরকার ছিল।
তবে খবরের কাগজকে কেউ বিশ্বাস করেনা সেটা তাদের জানা উচিত।

জ্ঞানেশ্বরী কান্ডে সিপিএমকে দোষ দেওয়া হয় পরে প্রমানিত হয় পিছনে তৃণমুলের স্নেহধন্য জনসাধারনের কমিটি।

শেষ খবর যতটুকু পাওয়া গেল:

PCPA এর ৬টা লাস মমতা নিয়ে লালগড় ছাড়ায় চটেছে পি.সি.পি.এ. কিন্তু p.c.p.a.র বিপদের সময় কারা পাশে দাড়িয়ে ছিল পিসিপিএর. মমতাই তখন তাদের পাশে যান, তারা মাওবাদী হলেও তাদের পাশে মমতা গিয়েছিলেন এখন তাদের ৬টা মৃতদেহ মমতা কাজে লাগালে তাদের আপত্তি থাকবে কেন। মমতার কাছে তাদের ঋনী থাকা উচিত। তাছাড়া লাস গুলো নিয়ে পি.সি.পি.এ করবেটাই করবে টাই কি। ভোটে তাদের তেমন কোন ভূমিকা নেই. তাছাড়া মিডিয়াতে সেভাবে লাসগুলো বিক্রি করতেও পারতো না তারা। বা যৌথবাহিনীর সামনে রাস্তায় শো করাতেও পারতো না তারা। আর তারা যেন না ভোলে মমতা শক্তিশালী হলেই যৌথবাহিনী ফেরানো সম্ভব, আর তখন ওই অঞ্চলকে পুনরায় মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল বানানো সম্ভব। সেই বৃহৎ লাভের দিকেই পি.সি.পি.এ র লক্ষ্য রাখা উচিত।

শেষ খবর যতটুকু পাওয়া গেল তা থেকে জানা যাচ্ছে লালগড় কান্ডে নয় মোড়। জনসাধারনের কমিটির সম্পাদক টিভিতে জানালেন যে গতকাল লালগড়ে মাওবাদী তৃণমুলের অত্যাচারে ঘরছাড়া দের ক্যাম্প ঘিরে ফেলা হয় জনসাধারনের কমিটির নেতৃত্বে। তাদের মতে মৃত ও আহতরা সকলেই জনসাধারনের কমিটির সমর্থক। তাদের নেতৃত্বেই ক্যম্প আক্রমন হয়। লড়াইএর মুখে মৃত্যু হয় কমিটির সমর্থকদের। এখন জনসাধারনের কমিটি ও তৃণমুল বাস্ববে অভিন্ন হওয়াতেই দ্রুত মৃতদেহ নিয়ে লালগড় ছাড়েন মমতা। এবং সেই মৃতদেহ আর লালগডে আনেননি। বরং ওই মৃতদের দেখিয়ে গোটা মেদনীপুরে ভোটের প্রচারে কাজে লাগাতে উদ্গীব হয়ে ওঠেন তিনি। মমতা মৃতদেহ গুলি নিয়ে পালানোয় বিক্রমের মতোই জনসাধারনের কমিটি বিরক্ত।

কারন মমতা যৌথ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবী তে মন্ত্রী সভার লোভ ছাড়তে রাজী নয়, অথচ জনসাধারনের কমিটির সদস্যদের মৃতদেহ নিয়ে ভোটের বাজারে ফেরী করছেন বশংবদ কাগজ ও চ্যানেল দিয়ে। ভোটে জিতলে মমতা জনসাধারনের কমিটি বা মাওবাদীদের পাশে কতটা থাকবেন তানিয়ে সন্দিহান বিক্রমের মতোই জনসাধারনের কমিটি।