শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০০৯

তৃনমূলী তরজা ~ তুলি, সমিত

নেত্রি উবাচঃ

ওরে নাগরিক কবিয়াল তোরে,
করেছি M.P. বিশ্বাস করে,
পারিনি বুঝিতে ‘অতিথি’ হয়ে-
রয়ে গেলি তুই, সেই অগোচরে!

পাঁচ-মুন্ডুর 'মুন্ডমালা'
পরালি যেদিন আমার গ’লে
পারিনি বুঝিতে, ‘কালসাপ’ তুই,
পুষছি যারে-আঁচল ত’লে!

ঘরের যত গোপন কথা,
করলি Open হেথা হোথা ,
দিলি ভাসায়ে air-এ....
প্রিয়/অপ্রিয় সব Media
পারেনা ঢাকিতে, তোর বারতা-
পৌঁছেছে ঘরে ঘরে।

আরও আছে কত, এমন স্বজন
বামে অথবা ডাইনে!!
না জানি আরও, কি বিপদ আছে
দিশা খুঁজে কিছু পাইনে!!

কবিয়াল উবাচঃ


নাগরিক নই তবে কবিয়াল বটে,
কীর্ত্তন শুনি তবে কেন যাও চটে?
"মাটির মানুষ" হয়ে দাঁড়ায়েছি ভোটে,
বেঁধেছিনু গীঁট তব আঁচলের খুঁটে।

জিতিনু লোকের মনে সুড়সুড়ি দিয়া,
যতই করিনা কেন একাধিক বিয়া।
তখন কহিয়াছিলে "ক্যাবিনেটে" দিবে,
ভাবিনাই shipping ছোঁড়া একাই লুটিবে।

এরপর শুনিলাম রেলে কিছু আছে,
কচু ঘেঁচু সবই গেল "আঁকিয়ে"র কাছে।
আশায় বাঁধিয়া বুক আর কতকাল,
কাটিবো এই "মাটি"তে কুমিরের খাল।

প্রমান হইলো মোর ভয়ের কারন,
"অতিথি" কহিয়া করিলে বিপদ-তাড়ন।
এখনো বলছি শুন, বেড়নাকো বাড়,
কঞ্চিই দেখিয়াছ, বাকি আছে ঝাড়।

নেত্রি উবাচঃ

জানি তো তোর কন্ঠ আছে
ছাড়তেও পারিস জোরে,
বাড়া-বাড়ি করলে আরও
দেব 'রফিক' করে।

কবিয়াল উবাচঃ ২

কন্ঠে আমার বিবেকানন্দ, কাক ও কোকিল ডাকে,
Vedic "মাটি"-র পুলিশ খোঁজে আরাবুলের "মা"-কে।
শুকিয়ে যাওয়া এঁটেল মাটি আমার পায়ের নীচে,
খুব সাবধান! এই বাতেলায় লিব support খিঁচে।

নেত্রি উবাচঃ

ধিক্,ধিক্, ধিক্, তোরে
নিলাজ কবি।
মোর লাগি এই তোর-
হৃদয়ের ছবি!!


যা কবি, যা তুই
আমার স্বপ্ন গেছে টুটে-
ওরা অনেক বিশ্বাসী, যারা-
খাচ্ছে লুটে-পুটে।

কবিয়াল উবাচঃ ৩


লজ্জা আমার পিছন পকেটে, যে ভার নিয়েছি কাঁধে,
অনেক তামাসা দেখিয়েছি, তাই লজ্জা পেতেও বাধে।
সংসদ এখন চিৎপুর, শুধু আমিই গায়ক ছিলাম,
এইবার ঘুঘু পালা শুরু হবে.. আমি তো আবহ দিলাম।

নেত্রি উবাচঃ

পরের ভিটেয় বসে,
চড়াও ঘুঘু, তুমি চাঁদ-
এখনও তো দেখোনি
কারে কয়- ঘুঘুর ফাঁদ!
.
ভাবিস ধরা দিবিনা
এতোই বড়াই!
তুই তো চুনোপুঁটি
তোরে কি ডরাই!
জর্জ, প্রণব, বাজপেয়ী
কতো এলো গেলো
কাল কা যোগী, তুই
কে এলি লো?

কবিয়াল উবাচঃ ৪

ভিতর-বাহির-অন্তর জুড়ে অমাবস্যার চাঁদ,
"পরিবর্তন" তাহলে শুধুই বাস্তু ঘুঘুর ফাঁদ।

সবই জানতাম, আমি কি ভেবেছ ঘাসে মুখ দিয়ে চলি,
এই ফুরসতে চুপি চুপি এস আসল কথাটা বলি।

"ব্রাত্যজনেরা" আধ-লাখি হলো, আমি একা Un-Lucky,
আমি মাসে ষোল, তহবিলে তিন, হাতে পেন্সিল বাকি।

এইবার যেন "রেলোন্নয়নে" - অধমের নামও রেখো,
এটুকু করতে আমায় নাহয় "ব্রাত্য" হিসাবে দেখো।

নেত্রি উবাচঃ

ওরে দাদাভাই, কবীর সুমন
রাখ অভিমান শোন্ কথা শোন্-
চলতি গাড়ীর যাত্রী সকল,
আছে যত সুশীল-স্বজন।
আছে আজ বটে, থাকবে না কাল
তোর তো মেয়াদ পুরো পাঁচ সাল!
নাহয় হলি ষোলো হাজারি-
after all, নোস্-বাজারি।।

কবিয়াল উবাচঃ ৫

বাংলা বাজারে তুমি শেষ কথা,
হে "মম" দিদিমনি;
অভিমান বলে ক্ষোভ চাপা দিলে,
তুমি সাক্ষাত শনি।

ষোলতেই আছি, ষোলতেই থাকি,
আমার কপাল ফুটো;
কখনো ভাবিনি সুশীল সমাজও,
ভাগ হয়ে যাবে দুটো।

ঠিক হ্যায়! আমি হাল ছাড়ছিনা,
গলাও দিচ্ছি চেপে;
মনে থাকে যেন পাত্তা না দিলে,
আবার উঠব ক্ষেপে।

এইযাত্রায় বৈতরনী টা,
বেশ পার হয়ে গেলে;
শিয়ালের মতো "খ্যাঁক" দিয়ে দেব,
ফের বাগে টাগে পেলে।

নেত্রি উবাচঃ

অভিমানী দাদা, আমার-
লক্ষীসোনা-মনা,
‘শনি’-বলে ভবের মাঝে
করিসনে বিবসনা।।

‘হাজারি’-যতেক আছে, স্তাবকের দল-
‘হরিশ’-এ বাঁধা , ওগো লোটা-কম্বল।
আসলে তো ওরা সব দু-কান কাটা-
কাজের মধ্যে শুধু, হাত-পা চাটা।

অচিরেই হবে শেষ, বামজোট সরকার-
হার্মাদ-তাড়াতে কিছু-পা-চাটা দরকার।

পঞ্চাশ না ষোলো, কে, কত পেল-
কালনেমির ভাগে তায়, কি এসে গেল?
ভাবিস না কপাল তোর, যাচ্ছে-ফুটে-
২০১১-থেকে খাস লুটে-পুটে।