রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০০৯

খোলা চিঠি ~ জ্যোতির্ময়

মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গ সরকার,
না এই চিঠি টা কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কে নয় , এটা মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বুদ্ধদেব বাবু কে । আর কতজন সি পি আই এম কর্মী মারা গেলে তবে আপনার পুলিশ একজন খুনী কে ধরতে পারবে স্যার। শুধুমাত্র সি পি আই এম করার অপরাধে যারা খুন হচ্ছেন তাদের ও জীবন রক্ষা করার শপথ নিয়ে আপনি কিন্তু রাইট্রাস ব্লিডিং এ বসেছিলেন। না সেই শপথ মনে করাতে চাই না শুধু জানতে চাই ওদের দোষ কি ? ওরা তো যুদ্ধে শহীদ নয় , শুধু লোকসভা ভোটে পাঁচ লাখ মানুষ বিরোধীদের বেশি পচ্ছন্দ করায় কি ওঁদের মৃত্যুর মুখ দেখতে হবে ? কি অদ্ভুত দেখুন সি পি আই এম এর সদস্য আর কর্মীরা সবাই হার্মাদ আর বিরোধী দলের মানুষরা সবাই দেবদূত! কিন্তু হার্মাদ হলেই কি মেরে ফেলতে হবে ? আমি জানিনা ভারতবর্ষের আইন তাই বলে কিনা ? তা বোধহয় নয়, তবে খুনীদের ধরা হচ্ছে না কেন ? শুনলাম আপনি বিধানসভায় বলেছেন খুনীদের নিয়ে নাকি মিটিং করছেন বিরোধী দলের নেতারা, তা খুনী কে যারা আশ্রয় দেয় তাদের জন্যও তো আইন আছে ? নাকি ভোটে জিতলে আইন প্রয়োগ করা যায় না ? এরকম কোন আইন নতুন হয়েছে বলে তো শুনি নি। আচ্ছা মার খেতে খেতে কুকুর বেড়ালরাও তো পালটা কামড়াতে যায়, আর মানুষ যদি নিজেকে বাঁচাতে অস্ত্র ধরে তাহলে কি খুব ভুল হবে স্যার ? তাতে যদি আবার হার্মাদ উপাধি পায় পাক না, কারুর যদি হাড় হিম হয় হোক না, কেউ যদি আবার মোমবাতি নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে পড়ুক না, হোক না তারা আপনার এক সময়ের কাছের মানুষ, নাই বা তাদের খুঁজলেন নন্দনের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। ওরা তো আপনার শ্রেনী মিত্র নয়, জানিনা আপনি মন্ত্রী হয়ে নিজের শ্রেনী মিত্রদের ভুলে গেছেন কিনা ?শ্রমিকের ধর্মঘটে আপনার তো আপত্তি, আপনি তো গণতন্ত্রের নান রঙে বিশ্বাস করেন। আমরা পারিনা স্যার, আজও শ্রেনী সংগ্রাম শব্দটাকে আকঁড়ে ধরে আছি, ওটা ছাড়া এক পা এগোতে রাজি নই, আনন্দবাজার যতই আমাদের ডাইনোসরাস বলুক। আমরা আনন্দবাজারের প্রশংসা ভালবাসি না। আনন্দবাজার প্রশংসা করলে বুঝতে হবে ভুল পথে যাছি, আর সমালোচনা শুনলে মনে করি ঠিক পথে আছি। কথাটা কিন্তু আমার নয়, আপনার আমার সবার প্রিয় শ্রদ্ধেও এক নেতার। কে জানে ভুলে গেছেন কিনা ?


ফাল্গুনীর হত্যাকারীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে খোলা হাওয়ায়, শিশু সুমনার পোড়া লাশ এখনও দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে। তাই মঙ্গলকোটের মা বোনেরা যখন শয়তান গুলোকে তাড়া করল, খোলা রিভালবার উচিয়ে ওরা ভয় দেখাতে গিয়েছিল শয়তানরা, তাও ভয় পায়নি ওঁরা , আপনার পুলিশ যা পারে না তাই করে দেখাতে গিয়েছিল ওরা। সত্যি বলছি স্যার রাইট্রাসে বসে আপনি যতই রাগ করুন সেদিন অনেক দিন বাদে হাসতে ইচ্ছে করছিল, আর জোর গলায় বলতে ইচ্ছে মঙ্গলকোট লাল সেলাম, ঠিক যেরকম আপনারা বলতেন তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম। কিন্তু তারপর দু দিন কি দেখালেন স্যার, কতগুলো শয়তান, খুনীর শাকরেদ তাড়া খাওয়ায় ঢিল খাওয়ায় বাংলা জুড়ে বলে কয়ে বাস জ্বালালো ওরা, আজকাল কাগজে দেখলাম, কাধে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে এক সুবেশি! তরুণী বাস ভাঙচ্ছে, আর পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। আপনার পুলিশ কি তাড়া করতেও ভুলে গেছে ?
ব্যাস আর কি বীরের দল অম্লান বদনে ১৪ টা বাস ভাঙচুর করল, আর তারপর দিন , সকাল থেক একটিও সরকারী যানবাহন চলল না, মন্ত্রীর আদেশে ! বনধ ডেকে ছিল কিন্তু বিরোধীরা। আপনারা মঙ্গলকোটের ঘটনা তে খুব দুঃখ পেয়েছেন শুনলাম, হোক না খুনীর মদতদাতা আপনাদের বিধানসভার সদস্য বলে কথা। আচ্ছা হিজলগঞ্জে যখন বিধায়ক কে গুন্ডারা আনন্দবাজারের সঙ্গে সাড় করে কাদা মাখালো, আপনার সভা ভুন্ডুল করতে ছদ্ম বাণভাসি সাজলো, আপনার রাগ হয়েছিল কি ? কোন ব্যবস্থা হয়েছিল কি ? হয় নি তো, নাকি বিরোধী করলে সব মাপ। এত ভয় ৩৫৬ ধারার, এত ভয় সরকার চলে যাওয়ার ? কি হবে এই ভাবে সরকারে থেকে যে সরকার নিজের শ্রেনীমিত্রদের জীবন রক্ষা করতে পারে না ?


রাস্তা দেখাচ্ছে মঙ্গলকোট, মরার আগে পালটা মেরে বাঁচার রাস্তা, প্রশাসনের যা করার ছিল ওঁরা করে দেখিয়েছে এবার আপনার দেখানোর পালা, পারবেন তো স্যার
------ইতি