বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০০৯

পশ্চিমবঙ্গকে পিছিয়ে দিতে চায় বিরোধীরা ~ জ্যোতি বসু




পশ্চিমবাংলাকে পিছিয়ে দিতে চায় কংগ্রেস ও তৃণমূল। ওরা রাজ্যের শিল্প গড়ার কাজে বাধা দিচ্ছে, উন্নয়নের সব কাজেই বাধা দিচ্ছে। এমনকি বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরি করতেও ওরা বাধা দিচ্ছে। এরাজ্যের মানুষ ওদের ক্ষমা করবেন না। গণশক্তি-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বললেন প্রবীণ জননেতা জ্যোতি বসু। তিনি এই সাক্ষাৎকারে দেশ ও রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউ পি এ এবং বি জে পি-র নেতৃত্বে এন ডি এ, যে নীতির ভিত্তিতে দেশ চালিয়েছে তা সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তাই তৃতীয় মোর্চাই এখন দরকার। মানুষ তার পক্ষেই রায় দেবেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অজয় দাশগুপ্ত

প্রশ্ন: গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষিতে এবারের নির্বাচন হতে চলেছে। বামপন্থীরা গতবার কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা বললেও এবারে কংগ্রেস এবং বি জে পি, উভয়কেই পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এরকম পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের কারণ কি?

জ্যোতি বসু: এটা ঠিকই, গতবারের তুলনায় পরিস্থিতির অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের পর আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলাম কেন্দ্রে সাম্প্রদায়িক শক্তি বি জে পি-কে ঠেকাতে। বি জে পি-র নেতৃত্বে এন ডি এ আবার ক্ষমতায় এলে দেশকে আরেকটা গুজরাট বানিয়ে ফেলতো। গুজরাটে আর এস এস-বি জে পি পরিকল্পনা করে মুসলমানদের গণহত‌্যা করেছে রাজ্য সরকারের মদতে। আমরা এটা সারাদেশে হতে দিতে চাইনি। সেজন্যই কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউ পি এ সরকারকে আমরা সমর্থন করেছিলাম। এটা একটা অভিনব ব‌্যাপার ছিল। যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আমরা চিরকাল লড়াই করে এসেছি, এখনও লড়াই করছি, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে তাদেরকেই আমাদের সমর্থন করতে হয়েছিল। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের এই সমর্থন নিঃশর্ত ছিল না। সাধারণ ন্যুনতম কর্মসূচী রূপায়ণের শর্তেই বামপন্থীরা ইউ পি এ সরকারকে সমর্থন করেছিল।

প্রশ্ন: কিন্তু সমর্থন তো তুলে নেওয়া হলো....

জ্যোতি বসু:
হ‌্যাঁ, সমর্থন তুলে নিতে হলো, কারণ কংগ্রেস দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ওরা সাধারণ ন্যুনতম কর্মসূচী মানেনি। দেশের স্বাধীন বিদেশনীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে, আমেরিকার পদলেহন করছে। আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এমন নীতি নিয়ে দেশ চালাচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে। যখন সরকার হয়, তখন কথা হয়েছিল যে ওদের একটা কমিটি হবে, আমাদের একটা কমিটি হবে, যারা নিয়মিত আলোচনা করবে সরকার পরিচালনা নিয়ে, সাধারণ ন্যুনতম কর্মসূচী রূপায়ণ করার বিষয়ে। কিন্তু কংগ্রেস এই কর্মসূচী রূপায়ণে অবহেলা করেছে, এর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। মানুষের রায় ওরা মানেনি। ওরা আত্মসমালোচনা করে না, ভুল থেকে শিক্ষা নেয় না। যে নীতির জন্য ওদের মানুষ প্রত‌্যাখ‌্যান করেছিল, বি জে পি-ও যে নীতির জন্য হেরে গেলো, তাকেই ওরা আঁকড়ে ধরে রেখেছে। আমরা, বামপন্থীরা তাই এর বিরোধিতা করেছি।

প্রশ্ন: তাহলে এই নির্বাচনে কংগ্রেস-ও না, বি জে পি-ও না, এবারে দিল্লিতে কেমন সরকারের কথা বলছেন?

জ্যোতি বসু:
আমরা চাই, কেন্দ্রে এমন একটা সরকার হবে যারা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নিয়ে চলবে। আমেরিকার কাছে নতজানু হয়ে নয়, দেশ চলবে স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে। পরনির্ভর নয়, স্বনির্ভর অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দেশ এগোবে। আমরা সারাদেশে একথা বলছি। আমাদের পার্টি খুবই জোর দিচ্ছে, একটা অ-কংগ্রেসী, অ-বি জে পি সরকার গড়ে তুলতে, যাকে আমরা তৃতীয় মোর্চা বলছি। আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবশ্য আমি অসুস্থ থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারিনি।

প্রশ্ন: কিন্তু এই তৃতীয় মোর্চার সরকার সম্পর্কে জনমানসে একটা দ্বিধাগ্রস্ততা রয়েছে। এই সরকার তৈরি হওয়া সত্যিই সম্ভব কিনা, শরিক দলগুলি আদৌ এক থাকবে কিনা, কংগ্রেস অথবা বি জে পি-র দিকে ঢলে পড়বে কিনা, এইসব প্রশ্ন রয়েছে অথবা তোলা হচ্ছে। এসম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

জ্যোতি বসু:
আমাদের নেতারা যা বলছেন, দেখতে পাচ্ছি তাতে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল ইতোমধ্যেই সাড়া দিয়েছে। আমরা কতগুলি নীতির ভিত্তিতে এই দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলছি। এটা ঠিকই, এই তৃতীয় মোর্চাকে গড়ে তোলা কঠিন কাজ। কিন্তু সেই কাজই আমাদের করতে হবে। কারণ, কংগ্রেস এবং বি জে পি, যে নীতির ভিত্তিতে দেশ চালিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তাই তৃতীয় মোর্চাই এখন দরকার। তৃতীয় মোর্চাই হলো আসল বিকল্প। রাজ্যে রাজ্যে মানুষ নিশ্চয়ই এর পক্ষে রায় দেবেন।

প্রশ্ন: এরাজ্যের বামফ্রন্টবিরোধী দলগুলি তো এবারে সমঝোতা করে নির্বাচনে লড়ছে। এসম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

জ্যোতি বসু:
শুনেছি, আমাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস আর তৃণমূল একজোট হয়েছে। আর চরম দক্ষিণপন্থী এই সব শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করে একটা দল। আবার অস্ত্র নিয়ে যারা আমাদের পার্টিনেতা-কর্মীদের খুন করছে, তারা ওদের সাহায্য করছে। এটাও ঘটনা যে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে বিরোধীরা চিরকালই একজোট হয়ে লড়েছে, কখনো খোলাখুলি, কখনো গোপনে। কিন্তু মানুষকে তো এটা বলতে হবে, কংগ্রেস আর তৃণমূল আমাদের বিরুদ্ধে যে জোট করেছে, তা কিসের ভিত্তিতে, ওদের কর্মসূচী কি? সেটা তো ওরা বলছে না। আসলে ওদের কোনো নীতি নেই, নৈতিকতা নেই, কোনো কর্মসূচীও নেই। ওদের একটাই কর্মসূচী, বামফ্রন্টকে হারাও। তার জন্য অনৈতিক জোট গঠনেও ওরা পিছপা নয়। ওরা পশ্চিমবাংলাকে টুকরো টুকরো করতে চায়। সেজন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সাথে হাত মেলাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গেও আঁতাত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কখনোই এসব মেনে নেবেন না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের চেতনার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তাঁরা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে উপলব্ধি করেছেন কে শত্রু, কে মিত্র। তাঁরা নিশ্চয়ই কোনো সুবিধাবাদী জোট বা সুবিধাবাদী দলকে ভোট দেবেন না। আমি বিশ্বাস করি, এরাজ্যের মানুষ এবারেও নির্বাচনে বামফ্রন্টকেই বিপুলভাবে জয়ী করবেন।

প্রশ্ন: গোটা দেশের জন্য লোকসভা নির্বাচন হলেও বিরোধীরা রাজ্যের ইস্যুকেই প্রচারে সামনে নিয়ে আসছে? এবিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

জ্যোতি বসু:
এরাজ্যে প্রধান বিরোধী দল, তৃণমূলের দেশের বিষয়ে বলার কী আছে? একটা সর্বভারতীয় ইংরাজি দৈনিকে দেখলাম, এরাজ্যের ৪২জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে কমদিন সংসদে হাজির ছিলেন ওদের নেত্রী। এই তো অবস্থা! আর গত ৩২ বছর ধরে এরাজ্যের মানুষ বারে বারে আমাদের নির্বাচিত করে আসছেন। মানুষ আমাদের জানেন। মানুষ দেখছেন বিরোধীরা কি করছে। যে সরকার মানুষের কল‌্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীদিনেও করবে, যে সরকার কৃষির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পও গড়ে তুলছে, ওরা তার বিরোধিতা করছে। যেকোনো ভালো কাজে ওরা বাধা দিচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছে। দেশের মধ্যে অনেক বিষয়ে আমাদের রাজ্য প্রথমস্থানে। কৃষিতে আমরা এখনও প্রথমস্থানে, কৃষির আরো উন্নতি আমাদের করতে হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞ,কৃষি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের পরামর্শ নিয়ে কৃষি উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। এরাজ্যে কৃষক আত্মহত‌্যা হয় না। সামাজিক বনসৃজন, মাছচাষ প্রভৃতি আরো অনেক ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে। গরিব, ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ১৩ লক্ষ একর জমি বিলি আমরা করেছি। সারা দেশে আর কোথাও একাজ হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, বামফ্রন্ট সরকার গরিব মানুষের আত্মমর্যাদা বাড়িয়েছে।

প্রশ্ন: বিরোধীরা সংখ‌্যালঘু, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

জ্যোতি বসু:
কংগ্রেস অথবা তৃণমূল কখনো মুসলিমদের স্বার্থ দেখেছে নাকি? বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকার ছিল, মমতা ব‌্যানার্জি তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। উনি তখন কোনো কথা বলেননি। গুজরাটে মুসলিমদের গণহত‌্যা করলো যে নরেন্দ্র মোদীর সরকার, নির্বাচনে জেতার পর তাকেই উনি অভিনন্দন জানিয়ে ফুল পাঠালেন। বাবরি মসজিদ ভাঙার আগে আমার মনে আছে, নরসিমা রাও তখন প্রধানমন্ত্রী, দিল্লিতে একটা মিটিঙে আমরাই তাঁকে বললাম যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ আমরা পছন্দ করি না, কিন্তু এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আপনি সেটাই প্রয়োগ করুন। পরে আমি এবং কমরেড সুরজিত টেলিফোন করেও প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, পরিস্থিতি খুবই খারাপ, আপনি দ্রুত ব্যবস্থা নিন। উনি বললেন, আমার পার্টির মিটিং আছে, সেখানে আলোচনা করবো। কিন্তু কিছুই করলেন না। পরে লিবেরহান কমিশন আমাকে ডেকেছিল, আমি বিচারপতিকে বললাম, ভাঙার পর ওরা কি বলছে আমার কাছে ক‌্যাসেট আছে, সেটা আপনি শুনুন।

প্রশ্ন: বিরোধীরা তো সাচার কমিটির রিপোর্টের কথা বলছে...

জ্যোতি বসু:
সাচার কমিটি তো এখন হয়েছে। আমরা যখন সরকারে আসি, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে মুসলিমরা পিছিয়ে আছে আর্থিকভাবে, শিক্ষার দিক দিয়ে, সামজিকভাবে। তাদের অবস্থার উন্নতি করতে হবে। এজন্য আমরা অনেক মাদ্রাসা তৈরি করেছি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের সরকার থেকে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি, যা দেশের কোথাও ছিল না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্বনির্ভর হওয়ার জন্য ঋণের ব্যবস্থা ইত‌্যাদি হয়েছে। উর্দু আকাদেমি তৈরি হয়েছে। যে ৩০ লক্ষ মানুষ ভূমি সংস্কারের ফলে এরাজ্যে জমি পেয়েছেন, তার মধ্যে একটা বড় অংশ সংখ‌্যালঘু মানুষ রয়েছেন। সাচার রিপোর্টে সেকথা বলা হয়নি। তবে এক্ষেত্রে আরো অনেক কাজ করতে হবে, আমরাই তা করবো, তারজন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এরাজ্যে সংখ‌্যালঘু মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কখনো দাঙ্গা হয়নি। আমরা সরকারে আছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সংখ‌্যালঘু মানুষরা নিশ্চয়ই সেটা উপলব্ধি করেন।

প্রশ্ন: বিরোধীরা যে শিল্পস্থাপনের কাজে বিরোধিতা করছে, সেবিষয়ে আপনি কি বলেন?

জ্যোতি বসু:
এটা কোনো নতুন বিষয় না। ওরা চিরকাল পশ্চিমবাংলায় শিল্প গড়া, এরাজ্যের উন্নতির বিরোধিতা করেছে। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গ শিল্পে পিছিয়ে গিয়েছিল। বামফ্রন্ট সরকারকে আবার নতুন করে শিল্প গড়ার কাজ করতে হয়েছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক‌্যালস্‌-এর অনুমোদন পেতে আমাকে ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমার মনে আছে, ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন পরে আমি এরাজ্য থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদদের দিল্লিতে একটা মিটিঙে ডেকেছিলাম, যাতে রাজ্যের উন্নতির জন্য একসাথে সবাই কেন্দ্রকে বলা যায়। কিন্তু সেই মিটিঙে প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী, অজিত পাঁজা, মমতা ব‌্যানার্জিরা এসে ‘আপনার সঙ্গে আমরা যাবো না’ বলে তিনমিনিট বাদেই বের হয়ে গেলেন। এখন তো অনেকে আসছেন শিল্প করতে, বেকার ছেলেমেয়েদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে আমাদের শিল্প করতে হবে। যে হারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দিয়ে জমি আমরা নিচ্ছি, তার নজির দেশের কোথাও নেই। বিরোধীরা রাজ্যের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে, বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরিতে বাধা দিচ্ছে। ওরা পশ্চিমবাংলাকে পিছিয়ে দিতে চায়। মানুষ ওদের ক্ষমা করবেন না।