মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০০৯

মেকী আদিবাসী দরদীদের প্রতি ~ পারিজাত ভট্টাচার্য্য





অলচিকিকে বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৯ সালেই স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্ত ভারতবর্ষের অন্য কোনো রাজ্য সরকার বিশেষত ঝারখন্ড রাজ্য আজও তার স্বীকৃতি দেয়নি। বিহার সরকার অলচিকি মানবে না, বহুদিন আগেই বলে দিয়েছে। ওড়িশা, আসাম নিরুত্তর। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে অলচিকি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের সাঁওতালরা অন্য রাজ্যের স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। সি পি আই এম এর বক্তব্য - এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন ভাষাবিদদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কমিশন গঠন করা ঊচিত। যাতে সব রাজ্যের জন্য একিরকম সিদ্ধান্ত কার্যকরী হতে পারে। যে ঝাড়খন্ড দিশম পার্টি এখানে অলচিকি র জন্য গলা ফাটাচ্ছে, তাদের কেন্দ্রীয় দপ্তর ঝাড়খন্ড রাজ্য। সেখানে শিবু সোরেন কি করছেন বা করেছেন?

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৫৭ টী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অলচিকি হরফে পঠন-পাঠন চালু করা হয়েছে। জেলায় পঞ্চাশ শতাংশ বা তার বেশী তফশিলী ঊপজাতি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করে এমন বিদ্যালয়ের সঙ্খ্যা ৫০৭ টি। পর্যায়ক্রমে এইসব বিদ্যালয়ে অলচিকি হরফে সাঁওতালী ভাষা শিক্ষা ব্যাবস্থা করা হবে। এই লক্ষ্যে তফসিলী উপজাতি সম্প্রদায়ে ১১৭১ জন প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে ১১০৩ জনকে অলচিকি হরফে পড়ানোর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬৮ জন আদিবাসী শিক্ষক সাঁওতাল সম্প্রদায়ের না হওয়ায় প্রশিক্ষন নেননি। এক্ষেত্রে, বামেরা সেই একি কথা বলেন যে, বিহার, ঝারখন্ড, ওড়িশা রাজ্যে এই ব্যাবস্থা প্রবর্তনের কোনো ঊদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমাদের জেলার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে সাঁওতালী ভাষা পত্র পডানো হচ্ছে। শীঘ্রই স্নাতকোত্তর স্তরেও পড়াশুনার কাজ শুরু করার প্রস্ততি চলছে। মাধ্যমিক ও ঊচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কোনো ছাত্র চাইলে অলচিকি হরফে পরীক্ষার উত্তর লিখতে পারে।

অলচিকি হরফের জনক পন্ডিত রঘুনাথ মূর্মুর জন্ম ওড়িশায়। তাঁর জীবদ্দশায় ওড়িশা সরকার তাঁকে কোনো সন্মান জানায়নি। অথচ ১৯৭৯ সালে পুরুলিয়ায় এক জনসভায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তাঁকে গণ-সংবর্ধনা জানান এবং অলচিকি লিপির স্বীকৃতির ঘোষনা করেন। সকলেই জানেন যে, সাঁওতালী ভাষায় সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য এরাজ্যের বামপন্থীরা লড়াই করেছে। অবশ্য আয়াসেকা সংগঠন ও এই দাবিতে অনেক লড়াই করেছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পটভূমিতে ২০০০ সালের ১লা আগস্ট রাজ্য বিধানসভায় বামফ্রন্টের উদ্যোগে সর্ব্দলীয় প্রস্তাবে গৃহীত হয়। তার ভিত্তি তে ২২ শে আগস্ট বিধানসভায় সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা স্বরাস্ট্রমন্ত্রী এল কে আদবানীকে স্বারকলীপি দেন। পরিশেষে ২০০৩ সালের ২২ শে ডিসেম্বর যে চারটি ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভূক্ত করার বিল এনেছিলো তাতে সাঁতালী ভাষা ছিলো না। এই বিল পেশ হলে বামপন্থী সাংসদরা ওয়েলে নেমে আদবানী কে ঘিরে সোচ্চার দাবি করেন যে, এই বিলের সঙ্গে সাঁতালী ভাষাকে যুক্ত না করলে বিল পাশ করতে দেওয়া হবে না। তাঁরা যুক্তি দিয়ে দেখান যে, মাত্র কয়েক লক্ষ্য মানুষের মুখের ভাষা মৈথেলী সংবিধানে যুক্ত হলে এক কোটিরও বেশী মানুষের ভাষা সাঁওতালী স্বীকৃতি পাবে না কেন? বামপন্থীরা যখন এই দাবিতে সরব হন, এরাজ্যের অন্য দলের সাংসদরা তখন চুপ ছিলেন। যাই হোক, অবশেষে বামপন্থীদের যুক্তি ই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে আদবানী সাঁতালী ভাষাকে যুক্ত করে বিল আনেন এবং তা গৃহিত হয়।

কবি সাধূ রামচন্দ্র মুর্মু এবং পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মূর জন্মশতবর্ষ রাজ্য সরকারের পাশাপাশি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় প্রতিটি ব্লকে পশ্চিমবঙ্গ গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের ঊদ্যোগেই পালিত হয়। এই সংগঠনের ঊদ্যোগেই ঝাড়্গ্রাম শহরে রঘুনাথ মুর্মূর মূর্তি স্থাপিত হয়। পরবর্তীকালে ঝারগ্রাম পৌরসভা রামচন্দ্রের মূর্তির প্রতিষ্ঠা করে। জেলার বিরোধীরা তখন কোথায় ছিলেন? সুপন্ডিত ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কেকে সাম্মানিক ডি লিট দেয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। সারা দেশে এটাই কোনো সাঁওতাল পন্ডিতকে সাম্মানিক ডি লিট দেওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরী হয়।

‘হুল’ এর নায়ক সিধু, কানহু স্মরণে রাজ্য সরকার নিয়মিত সিউড়ি, ঝাড়গ্রাম, মুকুটমনিপুর ও পুরুলিয়ায় অনুষ্ঠান করে থাকে। এই মৃতুঞ্জয় বিদ্রোহী কে স্মরণে রেখেঅবিভক্ত মেদিনীপূর জেলায় ১৯৮৯ সাল থেকে ৩০ শে জুন প্রতিটি ব্লক-পঞ্ছায়েত ও জেলাস্তরে পালনের পাশাপাশি ব্লকভিত্তিক প্রধানত আদিবাসী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শেষে জেলাস্তরে ২ দিনের ‘হুল উৎসব’ এ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করা হয়। সারারাতব্যাপী দশ-বিশ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে থাকে এই কর্মসুচিতে। বাম্পন্থীরা ছাড়া আর কারা কোথায় এই কাজ করছে আজকের আন্দোলন কারীরা তার জবাব দেবেন কি? ১৫ নভেম্বর বীরসা মুন্ডার জন্মদিন নিয়ম করে রাজ্য সরকারের ঊদ্যোগে জেলায় জেলায় পালিত হয়। মনে রাখা দরকার যে, রঘূনাথ মুর্মু, সিদো কানহু বা বীরসা মুন্ডা এঁরা কেঊই মেদিনীপুর জেলার সন্তান নন, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের ও নয়। তথাপি এঁদের বামপন্থীরাই স্মরণ করছে, সন্মান জানাচ্ছে। কারন বামপন্থীরা সমাজের যে কোনো মনীষী বা বীর যোদ্ধাদের অবদান থেকে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে চায়, তাঁদের আদর্শের দ্বারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চায়।

পশ্চিমমেদিনীপুর জেলায় বিগত ২০০৩-২০০৮ পর্যন্ত জেলা সভাধিপতি পদ অসংরক্ষিত ছিলো। তা সত্তেও বামপন্থীরা যাকে সভাধিপতি মনোনীত করেছিলেন, তিনিও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। বর্তমানে মেদিনীপুর-খড়গপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অসংরক্ষিত চেয়ারম্যান পদেও তিনিই আছেন। সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতার বাইরে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আদিবাসী অংশের ব্যাক্তিকে মনোনীত করার দৃষ্ঠান্ত ভু-ভারতে আর কোথাও রয়েছে কিনা জানা নেই। যদিও তাঁকে আদিবাসী হিসেবে এই পদে বামপন্থীরা মনোনীত করেনি, বরং সভাধিপতি হিসেবে ৯৮-২০০৩ পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত করা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক স্কুল কাউন্সিল এর থেকে সংগ্রিহিত খবর, এই জেলায় বিশেষ ভাবে ৫৭ টী স্কুলে দ্বিতিয় শ্রেনী অবধী অলচিকি হরফে পাঠ্য বই প্রকাশিত হয়েছেএবং ওই অলচিকি হরফে সাঁওতালী ভাষায় পঠন-পাঠন হচ্ছে।আসেকা নামে এই সংগঠন টী সারা পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালী ভাষা , অলচিকি হরফে, স্কুল-কলেজে পঠন-পাঠন সাথে সাঁওতাল সংষ্কৃতি বিকাশের জন্যে অনেকদিন আগের থেকেই আন্দোলন করে যাচ্ছে। এদেরই একটা পরিচালিত স্কুল, পশ্চিম মেদিনীপুরজেলা তে আছে।স্কুলটির নাম্্্বেথকুদরি বিদ্যাগাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়।এই স্কুলটি অবস্থীতঝাড়গ্রাম দুহিজুড়ির নিকটে।ওই স্কুলের টিচার , শ্রীমতি মেরী হেমব্রম, জেলা ডি আই অফিসে, দরখাস্ত করে, সই করে, অলচিকি স্ক্রীপ্টে সাঁওতালী ভাষায় লেখা ,১ এবং ২ শ্রেণী র বই, ওনার স্কুলের জন্যে নিয়ে গেছেন জেলা ডি আই দপ্তর এর এইরকম ভাবে কোনো প্রাইভেট স্কুলে বই দেবার নিয়ম নেই তবুও ডি আই কর্তৃপক্ষস্পেশাল পার্মিশান নিয়ে সেই পাঠ্যপুস্তক ( ১ এবং ২ শ্রেনীর জন্যে), ওই প্রাইভেট স্কুলে দেওয়া হয়।এই ঘটনা প্রমান করে যে জেলা প্রাইমেরি স্কুল গুলোতেঅলচিকি স্ক্রীপ্টে সাঁওতালী ভাষায় পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে।এই ৫৭ টী প্রাইমেরি স্কুলের নাম ও ঠিকানা ডি আই অফিসের ওর্ড়ারেরর এক অনুলিপী তে দেওয়া হল।

ভারতবর্ষে তথাকথিত "উঁচু" জাতের লোকেরা, তথাকথিত "নিচু" জাতের ওপর প্রবল অত্যাচার করতো, সামাজিক এবং আর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং এখনো করে যাচ্ছেযার জন্যে আজ আমাদের দেশ তথাকথিত "শাইনিং" হলেও , এই আদিবাসী সম্প্রুদায়ের কি নিদারুণ অবস্থা, আমাদদেশের অনেক রাজ্যে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অলচিকি স্ক্রীপ্টের অধ্যায়ন নিয়ে লেখা হয়েছিলো। এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁওতালী ভাষায় অধ্য্যনের পরিদর্ষক, ডাঃ সুশীল হাঁসদা কাছ থেকে।

এই স্তরে সবথেকে বড়ো সমস্যা হলো যে আমাদের সারা দেশে এই সাঁওতালী ভাষা-ভাষী মানুষদের কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠন নেই যারা ঠিক করবেন যে সারা দেশে সাঁওতালী ভাষা-ভাষী মানুষদের ভাষার বিকাশ, সংস্কৃতির বিকাশ কোন দিকে এবং কিভাবে হবে। আমাদের দেশে এর বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী সাঁওতালী ভাষা-ভাষী মানুষেরা এখনো ঠিক করতে পারেননি যে তাদের লেখার মাধ্যম কোন লিপী ব্যাবহার করা হবে। আমি যেমন আগেই বলেছি যে পশ্চিমবঙ্গে অলচিকি হরফের ব্যাবহারের স্বকৃতি দেওয়া হয় ১৯৭৯ সালে, কিন্ত এই হরফ দক্ষিণ বঙ্গে প্রচলিত থাকলেও, উত্তবঙ্গের সাঁওতালী ভাষা-ভাষী মানুষেরা, অলচিকি ব্যাবহার না করে, রোমান হরফ ব্যাবহার করেন অথবা সাঁঅতালী ভাষা পরিত্যাগ করে, হিন্দি বা বাংলা মাধ্যমে ব্যাবহার করেন, এই ক্ষেত্রে আসেকা নিশ্চুপ। ঝাড়খন্ডে প্রচলন আছে দেবনাগিরি স্ক্রীপ্ট কিন্ত এখানে ঊল্লেখ্য যে সরকারে সেখানে কোনো প্রতক্ষ্য ভুমিকা নেই এবং ওদেরই বিশ্ববিদ্যালয় (রাঁচী বিশ্ববিদ্যালয়), সাঁওতালী বিভাগের অধ্যাপকরা দেবনাগিরি স্ক্রীপ্ট এ অধ্যায়ন করেন এবং করান, অথচ এই অধ্যাপক রা যখন পশ্চিমবঙ্গে আসেন তখন ওনারা এখানে অলচিকি হরফে সাঁওতালী পঠন-পাঠন কে সমর্থন করেন। ওড়িশা তে চলন আছে ঊড়িয়া স্ক্রীপ্ট, তবে সেটা খুবি সীমাবদ্ধ।

শুধু ভাষার নয়, আদিবাসীদের জমির অধিকার দিতেও বামপন্থীরাই আন্তরিকভাবেই লড়াই করেছে। পশ্চিমবঙ্গে ভূমিসংস্কারের মাধ্যমে ১১৷২৬ লক্ষ একর কৃষিজমি বন্টন করা হয়েছে ৩০ লক্ষ কৃষকের মদ্ধ্যে। এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই তফসিলী জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। জনসমাজে আদিবাসী অনুপাতের থেকেও তাদের মধ্যে জমি বন্টনের পরিমাণ বেশী। কিছুদিন আগে আদিবাসীদের বনাঞ্চলের অধিকার তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য রাজ্যগুলি এটি রুপায়নে বেশী আগ্রহ দেখায়নি।

বনাঞ্চলের পাট্টা দেওয়ার কাজ দেশে কেমন হয়েছে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। নিয়মানুসারে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে পাট্টার জন্যে আদিবাসীদের আবেদন সংগ্রহ করার কথা এবং গ্রামসভার মিটিং ডেকে এইসব আবেদনকারীর দাবির যথার্থতা প্রমাণের পর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পাট্টা দেওয়ার কথা। কেন্দ্রের প্রকাশীত এই রিপোর্টে বলছে ফেব্রুয়ারী মাস পর্য্যন্ত বনাঞ্চলে আদিবাসীদের একটি পাট্টাও দেয়নি ঝাড়খন্ড সরকার। ঐ রাজ্যের ২৮ শতাংশ মানুষ আদিবাসী। রাজ্যের ২৯ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল। অথচ পশ্চিমবঙ্গে ৬৭২২ একর বনাঞ্চলের জমির পাট্টা দেওয়া হয়ে গেছে। পাট্টা পেয়েছে ৫২৪৯ টি পরিবার। প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসীরা আছেন ৫৷৫ শতাংশ। সর্বাধিক পাট্টা দেওয়া হয়েছে বর্ধমানে- ২৪৯৪ টি। তারপর স্থান পশ্চিমমেদিনীপুরের। সেখানে এখনো পর্যন্ত পাট্টা পেয়েছে ২২৫৮ টি পরিবার। জলপাইগুড়িতে পেয়েছে ২৭৪ টি পরিবার। এছাড়া বীরভূম, পুরুলিয়াতেও অনেক আদিবাসী বনাঞ্চলের পাট্টা পেয়েছেন। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় দেওয়া গেলো না আরো ৯০০০ পাট্টা।

এছাড়া যে রাজ্যগুলিতে বনাঞ্চলের জমিতে আদিবাসীদের পাট্টা দেওয়ার কাজ হয়েছে তার মধ্যে আছে মধ্য প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা। কিন্ত কারো কাজই আশানুরূপ নয়। মধ্যপ্রদেশের ২৩৷৩ শতাংশ আদিবাসী। এখন পর্যন্ত পাট্টা দিতে পেরেছে মাত্র ৮০৫৯ টি। অন্ধ্রপ্রদেশে আদিবাসীরা ৬৷৬ শতাংশ। বনাঞ্চলের জমিতে ঐ রাজ্যে পাট্টা পেয়েছেন মাত্র ৩৩০ টি পরিবার। ওড়িশায় আদিবাসী বাসিন্দা পায় ২২৷২ শতাংশ। বনাঞ্চলের জমিতে কেউ পাট্টা পাননি এখনো। ৯৩৪৬ টি পাট্টা তৈরি আছে বলে জানা গেছে। বিহারে একজন আদিবাসী পাট্টা পাননি। সঙ্খ্যার বিচারে সর্বাধিক পাট্টা দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ে। প্রায় ৮৫ হাজার ৫৪৯ টি পাট্টা দেওয়া হয়েছে ঐ রাজ্যে। কিন্ত ঐ রাজ্যে মোট জমির ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫৯ হাজার বর্গ কি মি বনাঞ্চল। আর জনসঙ্খ্যার এক-তৃতীয়াংশ আদিবাসী। তাই আদিবাসী জনসঙ্খ্যার ভিত্তিতে পাট্টাপ্রদানের হারে ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের পিছনে।

ইঊ পি এ সরকারে থাকার সময় তে বামপন্থীদের বিশেষ করে সি পি আই এম - এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই তফশিলী আদিবাসী ও বনাঞ্চল অধিবাসী (বনাঞ্চল অধিকার স্বীকৃতি) আইন পাস করা হয়। পার্টির হস্তক্ষেপ ব্যাতিরেকে এই আইন বর্তমান আকারে পাস করা সম্ভব হতো না। সি পি আই এম ও বামপন্থী দলগুলির হস্তক্ষেপের ফলে নিম্নলিখিত সংশোধন সম্ভব হয়।

১) বৎসর সীমা ১৯৮০-এর পরিবর্তে ডিসেম্বর, ২০০৫ করা হয়।

২) ঊপকৃত তালিকায় অন্যান্য চিরায়ত বনাঞ্চলের অধিবাসীদের অন্তর্ভূক্তি;
৩) জমির উর্ধসীমা ২৷৫ হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ৪ হেক্টরে নির্ধারণ;
৪) ক্ষুদ্রতর বনজ উৎপাদন প্রসারিত অধিকারের অন্তর্ভূক্তি;
৫) গ্রামসভা ও পঞ্চায়তের সম্প্রসারিত ভূমিকা;
৬) বনাঞ্চলে সীমাবদ্ধ এলাকায় ঊন্নয়ন প্রকল্পগুলির অধিকার;
৭) নারী দের সমান অধিকারের সুরক্ষা।

সামনে এই পঞ্চদশ লোকসভা নির্বাচনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঊন্নয়নের জন্যে সি পি আই এম এর কর্মসুচী ও লক্ষ্য - ১) সমস্ত সরকারী চাকরিতে তফসিলী ঊপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত শূন্য পদগুলি পুরণ করা হবে, বেসরকারী ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হবে। ২) আদিবাসীদের জমির ঊপর অধিকার রক্ষা করা হবে। তাদের কাছ থেকে বে-আইনিভাবে যে সমস্ত জমি নেওয়া হয়েছে সেগুলি রক্ষা করা হবে। সম্পূর্ণভাবে তফসিলী ঊপজাতি এবং এযাবৎ বনাঞ্চলে বসবাসকারী অন্যান্য বাসিন্দা ( বনাঞ্চল অধিকার স্বীকৃতি) আইন ২০০৬ রুপায়ণ করা হবে, এ যাবৎ বনাঞ্চলের বাসিন্দাদের সংজ্ঞাকে আরও সুস্পষ্ট করতে এই আইনকে সংশোধন করা হবে। ঊপজাতি প্রভাবিত এলাকায় সংবিধানের পঞ্চম এবং ষষ্ট তফসিল অনুযাযী যেখানে প্রয়োজন সেখানে স্বশাসন দেওয়া হবে; গনতান্ত্রিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে প্রসারিত করা হবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিলেও। ঊপজাতি ভাষা ও হরফের উন্নয়ন এবং স্বীকৃতি সুনিশ্চিত করা হবে; ঊপজাতি এলাকায় প্রসারিত করা হবে রেশন ব্যাবস্থা, পানীয় জলের সুবিধা, স্বাস্থ্য কেন্দ্র , স্কুল এবং হস্টেলের সুবিধে। তফসিলী জাতির মধ্যে স্কুল ছুটের সংখ্যা রোধ করতে বৃত্তি এবং হস্টেলের সুবিধে দেওয়ার মতো বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুত্র:

http://wesanthals.tripod.com/id39.html

http://www.ambedkar.org/News/Santalrecognition.htm
http://www.allindiaaseca.org/wboltor.html
http://edustories.blogspot.com/2007/11/from-2008-state-to-have-santhali-medium.html
http://www.expressindia.com/latest-news/Santhali-in-schools-from-this-session/322243/