শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০০৯

গোর্খাল্যান্ড ১ ~ পারিজাত ভট্টাচার্য্য


অনেকেরই জানা যে বাংলাভাঙ্গার আদি চক্রান্ত হয়েছিল ১৯৪৭ এর ৪২ বছর আগে অর্থা১৯০৫ সালে । তখন ব্রিটিশরাই ছিলেন আমাদের দেশের শাসক দল । লর্ড কার্জন ছিলেন ভাইসরয় । বাংলা ভাগের কার্জনীয় আদেশ জারি হয়েছিল ১লা সেপ্টেম্বর , ১৯০৫ এবং বাংলা ভাগ কার্যকর হয়েছিল ওই সালের ১৬ ই অক্টোবর । তবে বাংলা ভাগের পরিকল্পনার কথা লর্ড কার্জন প্রকাশ করেছিলেন তার আগের বছর , ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এবং ওই ফেব্রুয়ারী মাসেই স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ এইচ রিজলে তার একটি নোটে রাজনৈতিক ভাবে বাংলাকে দুর্ব ল করার লক্ষ্যে বাংলাকে ভাগ করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন । কেন এই বাংলা ভাঙ্গার চক্রান্ত। কারন লর্ড কার্জন আর রিজলে বাংলা কে ভয় করতেন । রিজলে তখন ১৯০৪ এর ৬ই ডিসেম্বর তার নোটে লিখেছিলেন : “Bengal United is a power; Bengal divided will pull in several different ways….one of our main objective is to split up and thereby weaken a solid body of opponents to our rule” স্বয়ং কার্জন ও ভারত সচিবকে সতর্ক করে দিয়ে লিখেছিলেন : “………if we are weak enough to yield to their clamour now, we shall not be able to dismember or reduce Bengal again; and you will be cementing and solidifying, on the eastern flank of India, a force already formidable, and certain to be a source of increasing trouble in the future….” তবে শেষ পর্যন্ত কার্জন কেও প্রতিবাদী বাংলার কাছে মাথা নোয়াতে হয়েছিল । বয়কট- স্বদেশী-বিপ্লব্বাদী আন্দোলনের সামনে ছ বছর পর বাংলা ভাঙ্গার সরকারী সীদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছিল ব্রিটিশ সরকার কে । কিন্ত কলকাতা থেকে সরিয় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ভারতের রাজধানীকে পাকাপাকিভাবে ১৯১১ সালে । এই বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ । তারপর আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রশাসন এর মঞ্চ থেকে কার্জন গষ্ঠি বিদায় নেবার পরও ঐক্যবদ্ধ বাংলা চিরকালী দিল্লির শাসক দের চক্ষুশূল হয়ে থেকেছে । কেবল ব্রিটিশ শাসক দের কাছেই নয়, ভবিষৎ কংগ্রেসী শাসকদের সভাপতির পদে সুভাষচন্দ্র বসুর জয়লাভের তাকে মেনে নিতে পারেন্ নি গান্ধীজি । এবং ১৯০৫ - ১১ সালে কার্জন রা যা পারেন নি তা তার উত্তরাধিকাররা ১৯৪৭ সালে এসে সক্ষম হয়েছিলেন ভারত ভাগ করে বাংলাকেও ভাগ করতে। অবশ্যই জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃতের সমর্থনে ও সহায়তায় । লক্ষনীয়, তখন বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি স্বাধিন ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে ঐক্যবদ্ধ বাংলার দাবী করেছিল। কিন্ত কংগ্রস ও মুস্লিম লিগ উভয়েই তা প্রতাখ্যান করেন । অতঃপর ভারত ভাগের সঙ্গে বাংলাও ভাগ হয়ে যায়। কার্জন না থাকলেও কার্জনিও নীতি সফল হয়। স্বাধীনতার পরেও কংগ্রেস শাসকেরা মনে করেছিলেন যে ঐক্যবদ্ধ বাংলা এমনই এক শক্তির আধার যা কিনা ভবিষৎতে তাদের একচ্ছত্র শাসনের সামনে বিপদের উৎস হয়ে থাকবে। তাই তারা বাংলা ভাগের এক নতুন চক্রান্ত সুরু করলেন। শুধু এই বাংলা ভাগে এনারা সন্তষ্ট থাকেন নি। যদিও বিভাজিত তবু স্বতন্ত্র বাংলার অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার পথ ধরেছিল স্বাধীনতার ৮ বছর পার হতে না হতেই, ১৯৫৬ সালে। ২০ শে জানুয়ারী, ১৯৫৬ কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকারের নিদের্শে পশ্চিম বঙ্গের কংগ্রসী মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ শ্রীকৃষ্ণ সিংহ এই দুই রাজ্যের সংযুক্তিকরনের প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্ধব ল্লভ পন্থ ঘোষনা করেন ঃ বাংলা ও বিহারের সংযুক্তিকরন সম্ভব হইতে চলিয়াছে এবং হইবেও।"


এই সংযুক্তিকরনের লক্ষ্য ছিলো পশ্চিম বঙ্গের গনতান্ত্রিক আন্দোলন এর বাধা সৃষ্টির করার জন্যে পশ্চিমবঙ্গের অবলুপ্তি ঘটানো। এই প্রসঙ্গে ১১ ফেব্রুয়ারী নাগরিক বিরোধী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাহিত্যিক অতুলপ্রসাদ গুপ্ত ঃ
এসব সুস্থ মনের চিন্তা নয়, অনাস্বাদিতপুর্ব ক্ষমতার মত্ততায় উচ্ছৃঙ্খল খামখেয়ালির লিলানৃত্য । প্রতিবাদে গরজে উঠেছিল সারা বাংলার সমস্ত বামপন্থী দলগুলি এবং সাথে ছিলো শুভ বুদ্ধি সম্পন্য মানুষ, শিল্পী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, শ্রমিক- কৃষক, মধ্যবিত্ত ইত্যাদি। এই প্রতিবাদী আন্দোলনে কংগ্রেস ছাডা সবাই ছিলেন। একের পর এক সংগঠিত হয় ধর্মঘট। ওই সময়ে উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্র (কলকাতা) থেকে জেতেন বঙ্গ-বিহার সংযুক্তিকরন বিরোধী আন্দোলনের নেতা কমরেড মোহিত মিত্র। আর তার ফলে বঙ্গ-বিহার সংযুক্তিকরনের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। অবশ্য এই চক্রান্ত থেমে থাকেনি। বহু চক্রান্ত এর সাথে এই বাংলা ভাঙ্গার চক্রান্ত রখে দিয়েছিলেন পশিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার সাধারণ মানুষ কে পাশে নিয়ে। তাই এই ৩২ বছরে এই রাজ্জ্যের বামবিরোধী শক্তি গুলো বুঝে গেছে যে ওনারা জনতার সাথে বামফ্রন্টসখ্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। তবে মনে হয় যে শ্যাম চাচারা ১৯০৪ সালের রিজলের উক্তি টি মনে রেখেছেন যে Bengal United is a power; Bengal divided will pull in several ways” তাই ওনাদের বোধহয় রাতের ঘুম চলে গেছে। ওনারা এখন বাংলা দুই ভাগ চান না, চান টুকরো- টুকরো করতে। অনেকটা সেই উত্তর-পুর্ব ভারতের বলকানাইজেশন এর মতন।


ঠিক ওই অপারেশন ব্রম্মপুত্র এর মতন ভারতে বলকানাইজেশ্ন চাইছেন। তাই উত্তরবঙ্গে কামতাপুরি, সুর্যাপূরি, গোর্খাল্যান্ড, গ্রেটার ইত্যাদি এবং দক্ষিনে পুরুলিয়া, বাঙ্কুড়া ও পশ্চিম-মেদিনীপুর। এই শ্যাম চাচা থুড়ি আমেরিকা র চরেরা এখন সর্ব শক্তি নিয়ে জনগন এবং এই বাংলা কে বিচ্ছিন্ন্য করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আমার নিজের বাড়ি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহরে। আমার পিতামহের বাড়ি দার্জিলিং এ হবার জন্যে এই জেলা টাকে এবং এই জেলার মানুষজন, তাদের সংষ্ক্রিতির সম্মন্ধে কিছুটা জানা আছে। এখানকার পাহাড়ের সাধারন নেপালী সমপ্রদায় খুব কর্মঠ, সত এবং অথিতিপরায়ন। কিন্ত এদের গত১৯৭৫ সাল থেকে খেপিয়ে তোলা হয়। এদের অধিকাংশের দাবি এখন গোর্খল্যান্ড। এই সুযোগে স্যাম চাচাদের আরেক দালাল পক্ষ, সংবাদ্মাধ্যম আজ সেই অতিপরিচিত হলুদ সাংবাদিকতায় নেমে পরেছেন। যা ইচ্ছা তাই লিখে চলেছেন। পূর্বাপর প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে, ইতিহাসের পাতা থেকে কোনো ঘটনার অংশকে তুলে ধরে তথ্য বিকৃতি ও ভ্রান্ত উপস্থাপনা নতুন বিষয় নয় এনাদের কাছে কারণ এনারাই প্রমান করেন যে শ্যাম চাচা দের দরকার গোয়েবেলস এর মতন সুযোগ্য সহায়ক। তাই আজ আনন্দবাজার এর বাজারি খবর যদি প্রকাশ করে ্যে গোর্খাল্যান্ডের দাবি একসময়ে বাংলার অভিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি১৯৪৭ সালে করেছিল তাতে অবাক বা আশ্চর্য্য হবার কারন নেই, কারন এই বাজারি সংবাদমাধ্যম পড়াতে চায় আবার ভোলাতেও চায়, না ভুল্লে পিছিয়ে পরতে হয়। (এটি আনন্দবাজারের ২ রা জুলাই ২০০৮ এর সম্পাদকিয় কলমে শ্রীমান গৌতম রায়ের লেখা )। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এর প্রকাশিত বক্তব্যটি হোলো ঃ রাজ্যের মধ্যেই আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দার্জিলিং জেলার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি এবং পরবর্তী সময়ে সি পি আই (এম) পার্বত্য এলাকার জনগনের সেই দাবিকে বরাবর সমর্থন জানিয়ে এসেছে, দাবির সমর্থনে আন্দোলন ও করেছে, সংসদে সোচ্চার হয়েছে। রাজ্যকে ভাগ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সি পি আই (এম) । সেইজন্যই চক্রান্তকারীদের আক্রমনের লক্ষ্য তারা। তাই এই ভদ্রলোক ওনার সম্পাদকীয় নিবন্ধে গোর্খাস্থান কারা চেয়েছিলেন এ, উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি কে আক্রমন করেছিলেন। স্বল্পজ্ঞ্যন অথবা ইচ্ছাকৃত বিকৃতি সূত্রে ভ্রান্ত কিছু তথ্য দিয়ে লেখক বলেছেন যে, কমিউনিস্ট পার্টির দার্জিলিং জেলা কমিটি ১৯৪৭ সালে গোর্খাস্তান এর দাবি তুলে চিঠি পাটায় ও তখন পার্টির সম্পাদক ছিলেম রতনলাল ব্রাক্ষণ, এটি ওনার লেখায়ে অদ্ভুত ভাবে উল্লেখ ছিলো যে রতনলাল ব্রাক্ষণ বিধানসভার নির্বাচনে নাকি জয়লাভ করেছিলেন গোর্খাল্যান্ডের দাবির মাধ্যমে। এই তথ্য ভ্রান্ত এবং কমরেড রতনলাল ব্রাহ্মিণ এর প্রতি অপমানকর। আনন্দবাবু এবং তার সাগরেদ রা জানেন না যে একসময়ে শিলিগুড়ি তে কমিউনিস্ট পার্টি জলপাইগুড়ি থেকে পরিচালিত হলেও দার্জিলিং পাহাড়ে সে ব্যাবস্থা ছিলো না। দার্জিলিং পাহাড়ে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার ভার ছিলো সুশীল চ্যাটার্জির ওপর। এই দায়িত্ব ওনাকে দেওয়া হয় প্রাদেশিক কেন্দ্র থেকে। এই কমরেড ই কমঃ রতনলাল ব্রাম্মিণ কেই কমিউনিস্ট পার্টি তে নিয়ে আসেন। তথাকথিত গোর্খাস্তান এর যে প্রস্তাবের কথা আনন্দবাবু রা বলছেন সেটার সময় ছিলো ৬ই এপ্রিল, ১৯৪৭ সাল, অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হবার আগেই। তখন দার্জিলিং এর সাংগোঠনিক সম্পাদক ছিলেন গণেশলাল সুব্বা। ইনি পরবর্তী সময়ে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তিকালে আলাদা রাজ্জ্য গডার দাবিতে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন সাংসদ আর বি রাই এবং দাওয়া লামা। ১৯৪৭ সাল, ১৫ই আগস্ট, দেশ স্বাধীন, বাংলা ভাগ, পশ্চিম বঙ্গ গঠন এবং পরের মাসেই অনুষ্টিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি এর চতুর্থ প্রাদেশিক সম্মেলন। ১৯৫১ সালে কলকাতা কংগ্রেসে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি স্বাধীন ভারতের বাস্তবতায়ে বিশ্লেসন করা হয়। এরপর উপজাতি জনজাতি বিসয়ক যে প্রস্তাব গ্রহন করা হয় তাতে দার্জিলিঙের নেপালী (গোর্খা) জনগোষ্ঠীর বিষয়ে উল্লেখ করে স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃত ধারনাটি কে ব্যাখা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দার্জিলিঙের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিটিই সুস্পষ্ঠ ও সুনির্দিষ্ঠ ধারনা প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ১৯৭২ সালে মাদুরাইতে অনুষ্ঠিত নবম পার্টি কংগ্রেস ভারতে জাতি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট নীতি ঘোষনা করে রাজ্জ্যের মধ্যেই আঞ্ছলিক স্বায়ত্ত্যশাসন বৈজ্ঞানিক দৃষ্ঠিভঙ্গি তুলে ধরেছে। কমিউনিস্ট পার্টির দার্জিলিং জেলা কমিটি ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের কাছে রাজ্যের মদ্ধ্যেই আঞ্চলিক স্বায়িত্তশাসন দাবি জানিয়ে স্বারকলিপী পাঠায় এবং তার অনুলিপী দেওয়া হয় ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে। ১৯৫৫ সালের ৯ই ডিসেম্বর রাজ্যের বিধানসভায় জ্যোতি বসু প্রস্তাব তোলেন নেপালী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির, দার্জিলিং পার্বত্য এলাকার জন্যে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও চা বাগান শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্যে।


এই সময়ে বহুবার স্বায়ত্তশাসন এবং নেপালী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য সাংসদ হীরেন মুখার্জি, সত্যেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার , সমর মুখার্জি, সোমনাথ চ্যাটার্জি, রতণলাল ব্রাহ্মমিন, আনন্দ পাঠক বারবার দাবি জানিয়ে এসেছেন। ১৯৭৭ সালে যুক্তফ্রন্ট ইশ্তেহারেও এই দাবি ছিলো অন্যতম। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পর সি পি আই (এম) বিধায়ক বীরেন বসু বিধানসভায় এই দাবি উত্থাপন করেন। আঠের দশকে সুভাষ ঘিসিঙের নেতৃত্বে হিংসাশ্রয়ী গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময়ে ২৫০ জনের বেশী সি পি আই (এম) নেতা-কর্মী শহীদ হলেন এবং বাস্তুচুত হলেন অনেক পার্টির নেতা ও কর্মীরা। এনারা সবাই ছিলেন কিন্ত পাহাডের মানুষ। এখনকার মতই অন্য কোনো দল কিন্ত আক্রান্ত হয় নি। রাজ্য সরকার সবরকমের আলোচোনা চালিয়ে জাবার চেষ্ঠা করে শান্তিপুর্ণ ভাবে কিন্ত ঘিসিং এর গঠিত জি এন এল এফ (GNLF) সমস্তরকমের শান্তিচুক্তি বাতিল করে দেয়। সাম্প্রদায়িক আচরণ এর সাথে সরকারের সম্পত্তি নষ্ঠ করে তারা। শেষমেশ রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আলোচনা করে এই ধংসাত্বক কর্মসুচি কে প্রশাসনিক তৎপরতায় শান্তী এবং সম্পীতি আনার চেষ্ঠা হয় কিন্ত GNLF ১৯৮৯ সালের ভোট বয়কট করে । সেই সময়ে কংগ্রেস, তাদের বিচ্ছিন্নতাকারী রুপ প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং এই কংগ্রস লোক সভা নির্বাচনের কিছু মাস আগে জি এন এল এফ কে সমর্থন করে, পাহাড়ে সি পি আই এম এর সাংসদ আনন্দ পাঠক কে হারাবার জন্যে। এবং কংগ্রেস তারা শ্রেনী চরিত্র অনুযায়ী জি এন এল এফ কে সমর্থন করে এবং আনন্দ পাঠক হেরে যান। যাই হোক, আজ ও গোর্খাজনমুক্তির আক্রমনের লক্ষ্য সি পি আই (এম) এবং কমিউনিষ্ট দের হারাতে এই লোকসভা নির্বাচনে মোর্চির মন পেতে উদ্দোগী কংগ্রেস ও বি যে পী। এটাই এদের শ্রেনী চরিত্রের আরেক দিক, এরা শ্রমিক এবং সাধারন মানুষ কে ধর্মের নামে , জাত-পাতের শৃঙ্খলে এ আবদ্ধ করতে চায় যাতে শ্রেনীচেতনার বিকাশ থেকে এরা ছিন্ন থাকতে পারে। যাই হোক পাহাডে কমঃ রতণলাল ব্রাহ্মীণ খুব জনপ্রিয় ছিলেন। চা শ্রমিকেরা এবং সর্বসাধারণ ওনাকে মাইলা বাজে (মানে মেজ কর্তা ) বলে ডাকতো। তিনি কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান তুলে কমিউনিষ্ট পার্টি কে গড়ে তোলেন নি। চা বাগান শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি গরিব গোর্খাদের সহায়তাকারী সংঘটন গোর্খা দুঃখ নিবারণ সমিতির সংগঠক ছিলেন তিনি। তার সাহস, মমত্ববোধ ও ঔদার্য তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলো। ১৯৪৬ সালে যে ইশতেহার প্রচার করে কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী রতনলাল ব্রহাম্মীণ বিজয়ী হয়েছিলেন, সেখানে কিন্ত কোনো আলাদা রাজ্যের কথা (গোর্খাস্তান ত নয়ই) ছিলো না। ইশ্তেহারটিতে যে ১১ দফা দাবি ছিলো তা পাহাড়ের চা বাগানের শ্রমিক ও গরিব মানুষের স্বার্থে। দার্জিলিং পাহাড়ে চা শ্রমিক দের ঐতিহাসিক আন্দোলন হয় ১৯৫৫ সালে। এই আন্দোলনরত শ্রমিকদের অপর পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়। নারী-শিশু সহ ৬ জন শহীদ হন। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতা ছিলেন রতনলাল ব্রাহ্মীণ। যে স্মারকলিপিটির একটি অনুচ্ছেদ প্রমাণ করে জাতি সত্তার পক্ষে থেকেই একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও একি সাথে ঐক্য সং হতি পক্ষে কমিউনিষ্ট দের দৃষ্ঠিভঙ্গি, সেই অনুচ্ছেদ তাই তুলে দেওয়া হলো ঃ

The Communist Party of India vehemently opposes the sinister British Imperialistic plot of excluding the district of Darjeeling from the rest of India and its constitution into a separate chief Commissioner’s Province as has been put forward by the Hillmen’s Association in its memorial to Lord Pethick Lawrence, Secretary of State of India, in December 1946. This Association (Hillmen’s Association) represents none but the local agents of the British Imperialism. The Communist Party of India is also opposed to any such plans that might be put forward by the local agents of British Imperialism in a modified form. It has reason to apprehend that the British Imperialists are hatching a plot to place the district of Darjeeling with other tribal peoples of Assam and Dooars in an altogether new Province to be called the North Eastern Himalayan Hill Province.”

চলবে________________


পর্ব-২
পার্বত্য পরিষদের পত্তন ও তার পর---