শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

হীরক রানী

রাজা = ব্যারিকেড ভাঙলো কেন! কোথায় ছিলো প্যায়াদাদের চোখ!
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ বুঝতে পারিনি সমাবেত হবে এতো লোক।
রাজা = তবে কি প্যায়াদা ছিলো না যথেষ্ট!
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে প্যায়াদারা লাঠি হাতে ছিলো সর্বদা সচেষ্ট।
রাজা = মিছিলের কন্ঠ স্তব্ধ করাই প্যায়াদাদের একমাত্র কাজ।
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ টেবিলের নিচে, ফাইলের তলে লুকায় নি কেউ আজ।
রাজা = নিরীহ লোকেদের উপর লাঠি চালানো মোটেই নয় দৃষ্টি কটু।
রক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে সে কাজে প্যায়াদারা যথেষ্ট পটু।
রাজা = তবে মিডিয়ার মাধ্যমে রাজ্যবাসীর মনে সন্দেহের উদয়, মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।
ঠিক কিনা -----
পরিষদ = ঠিক ঠিক ঠিক
রাজা = বলি এরা মিছিল করে কি পায়! রানীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এখনও এরা সাহস পায়!
রক্ষামন্ত্রী = মহারাজ ওরা লাল, ওরা প্রতিবাদ করে এসেছে চিরকাল।
বিদুষক = মার খায়, রক্ত ঝরায়, আবার উঠে মিছিলে এগিয়ে যায়।
রাজা = সেলিমের নাকি ইঁট ছিল পকেটে!
বিদুষক = সত্যিই বুদ্ধি বুঝি খোলে আজ রকেটে!(ক্যাপসুল)
রাজা = শিক্ষামন্ত্রী টেটের প্রশ্ন নাকি হয়েছে চুরি!
শিক্ষামন্ত্রী = আজ্ঞে আগাম টাকা দিয়েছে যারা, তারা প্রশ্নের জন্য করছিল জোরাজুরি।
রাজা = কাউকে বিশ্বাস নাই, তাই টাকা আগে হাতে পাওয়া চাই!
ঠিক কিনা???
পরিষদ = ঠিক ঠিক ঠিক
রাজা = কৃষিমন্ত্রী পেঁয়াজ নিয়ে কিসের এতো শোর!
কৃষিমন্ত্রী = মহারাজ বলেন তো খুলে দিই দুচারটে সরকারি স্টোর।
রাজা = আলুর মতন মিলন মেলায় পেঁয়াজও পচাবে নাকি!
বিদুষক = মহারাজ ফাঁকি, ফাঁকি!!!
রাজা = হয়ে গবেষক, তোমারও নাকি লাঠি চালানোর খুব সখ!
গবেষক = তা একটু আছে বইকি, নইলে আর কইকি!
রাজা = তা নতুন যন্ত্র কি কিছু করলে আবিষ্কার! যাতে মিছিল হয়ে যাবে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার!
গবেষক = আজ্ঞে " চাবকে লাল" যন্ত্র, এতে দেওয়া আছে কথাঞ্জলীর মন্ত্র।
রাজা = বাহ বেশ! তোমার যন্ত্রে যদি দেয় কাজ তাহলে এই হীরটা তুমি নিও!
বিদুষক = দেবে কাজ, মহারাজ; পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
রাজা = ওহে জ্যোতিষী তোমার পঞ্জিকা কি কয়?
জ্যোতিষী = মহারাজ কি বিষয়?
রাজা = সেকি সারা দেশ জুড়ে এতো আলোচনা, আর ২রা সেপ্টেম্বর ধর্মঘট তাও জানোনা!
জ্যোতিষী = মহারাজ যাবেনা কিচ্ছু করা, ধর্মঘট সফল হবে একশো ভাগ শতকরা।
রাজা = আর কি বলে গ্রহ নক্ষত্র?
জ্যোতিষী = ধর্মঘট সাড়া ফেলবে দেশের সর্বত্র।
রাজা = তাহলে উপায় কি কিছু নাই!
জ্যোতিষী = আজ্ঞে মগজ ধোলাই।
রাজা = সে তো জানি, কিন্তু কার!
জ্যোতিষী = বাংলার সবচেয়ে বড়ো শত্রু যে তার।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

নবান্ন ~ অনির্বাণ মাইতি

তারপর সেলিম যাহা করিলেন তাহা কহতব্য নহে, ইতিহাসের স্বর্নাক্ষরে সে বীরত্বের কাহিনী লিপিবদ্ধ থাকিবে। এক পকটে থান ইট ও ওপর পকটে পরমানু বোমা লইয়া (ইহা শঙ্কু নির্মিত, নাকি কালাম নির্মিত সে বিষয়ে নিশ্চিত কেহ নহে) পুলিশের পশ্চাতে ধাবমান হইলেন । পাঠককে স্মরণ করাইয়া দিবার প্রয়োজন নাই আমাদিগের পুলিশ সচরাচর এই ধরনের আক্রমণের ক্ষেত্রে টেবিলের তলদেশ অথবা ফাইলের আড়ালকে বাছিয়া লয়। কিন্তু পথমধ্যে টেবিল অথবা ফাইল অপ্রতুল থাকিবার হেতু তাহারা পলায়নকেই শ্রেয় মনে করিয়া, এস এস কে এম অবধি তীব্রগতিতে ধাবমান হইলেন এবং সেইখানে পৌছোনমাত্রেই সরকারী চিকিৎসক গন তাহাদিগকে ভর্তি করিয়া লইলেন। দীর্ঘ পথ ধাবিত হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ বোধ করিতেছিলেন কিনা তাই।

ওদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি বিমান বাসু মহাশয় তাঁরই আহত সেনাদিগের শরীরের রক্ত নিজ মস্তকে তৈলের ন্যায় মর্দন করিতেছেন ও সহানুভুতির হাওয়া পালে টানিতেছেন বলিয়া বিরুদ্ধ সেনাপতি সুব্রত, প্রেস কে ডাকিয়া সব কহিয়া দিলেন। প্রেস সেই ছবি না পাইয়া আবার সুব্রত বাবুর কাছে ফিরিয়া গেলে তিনি তরমুজের ন্যায় ক্রোধে ফাটিয়া পড়িলেন।

ওদিকে সেনাগণ ব্যারিকেড ভাঙিয়া রাস্তায় বসিয়া পড়িলেন। বিমান বাবুর অনুরোধে আর অগ্রসর হইলেন না। এ বিষয় জানিতে চাহিলে বিমান বাবু কহিলেন গণতন্ত্রে এই সার। এর বেশি অগ্রসর হইলে সে আর গণতন্ত্র থাকিবে না, নৈরাজ্য হইবে। অতঃপর সেনাগণ সাহস সঞ্চয় করিল , পুরকায়স্থ পুরো গার্হস্থ্য রহিলেন, দিদি ওমঃ শান্তি কহিলেন, কৃষক আপাতত বাড়ি ফিরিয়া যাওয়া মনস্থির করিল। তবে ভবিষ্যতের বড় লড়াইএর যথেষ্ট সাহস যে সে ইতিমধ্যেই অর্জন করিয়াছে সে বলিবার অপেক্ষা রাখে না।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

ক্ষুদিরামের ফাঁসি ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য়্য

​১৯০৮ সালে আজকের দিনে ফাঁসি হয় ক্ষুদিরামের।কতই বা বয়স তখন, এমন অনেকের প্রাণদান,আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেলাম ১৯৪৭ সালে। তারপর থেকে তো লুণ্ঠন চলছে দেশের সম্পদ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সবকিছুর। তবে স্বাধীনতা দিবস আমরা খুব ধুমধাম করে পালন করি, সকালে পতাকা উত্তোলন, পাড়ার কাউন্সিলর ভাষণ দেন, টফি বিলি করা হয়, দুপুরে মাংস ভাত, বিকেলে বিগবাজার ব্যাপক সেল দেয়, আর রাতে পিকনিক, বক্স বাজিয়ে, সাথে নাচ। সকালে অবশ্য মাইকে একবার বিদায় দে মা, সারে জাহাসে আচ্ছা বাজাই...



আমরা যখন শাহরুখ খানের সাথে
উর্দি পরে নাচছি উদার হাসি,
ভুলেই গেছি অনেক বছর আগে
চোখের জলে ক্ষুদিরামের ফাঁসি।।

আমরা যখন ঠাণ্ডা ঘরে বসে
মাথার ওপর মন্ত্রী নেতার ছবি;
তুমি তখন দেশোদ্ধারের কাজে
গঞ্জে গাঁয়ে বার খাওয়া বিপ্লবী।

আমরা যখন রাজনীতি চত্বরে
রীতি নীতি দিচ্ছি বিসর্জন
তুমি তখন বছর ষোল হবে
দেশের কথা ভাবছ সারাক্ষণ।।

আমরা এখন স্বাধীন,মুখের বুলি
রেপ করে দে, ঢুকিয়ে দেব লোক,
জ্যান্ত বোমা তখন তোমার হাতে
অল্প বয়স বড্ড আহান্মক।।

আমরা এখন তর্কে সড়গড়
উচ্চ নীচ মূর্খ ভারতবাসী-
মুছিয়ে দেবে মায়ের চোখের জল
ফাঁসির মঞ্চে তোমার মুখে হাসি ।।

ক্ষুদিরাম বোস( ডিসেম্বর ৩,১৮৮৯- ১১ অগাস্ট ১৯০৮)


আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু ~ পরিচয় পাত্র

​বাদুড় বলে, ওরে ও ভাই সজারু
আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।
আজকে হেথায় রামদা হাতে পেঁচারা
আসবে সবাই, মরবে ব্লগার বেচারা।
কাঁপবে ভয়ে বাঙালি সব ব্যাঙাচি,
ঘামতে ঘামতে ফুটবে তাদের ঘামাচি,
ছুটবে জঙ্গি লাগবে দাঁতে কপাটি
দেখবে তখন মস্ত ঢ্যাঙা চাপাতি।
সজারু কয় ঝোপের মাঝে এখনি
পুলিশ সাহেব ঘুম দিয়েছেন দেখনি?
জেনে রাখুন আনসারুল্লা প্যাঁচানি
ভাঙলে সে ঘুম শুনে তাদের চ্যাঁচানি,
খ্যাংরা-খোঁচা করব তাদের খুঁচিয়ে
এই কথাটা বল তো রে ভাই বুঝিয়ে।
বাদুড় বলেন, জঙ্গি পেঁচার কুটুমী
মানবে না কো পুলিশের এই ঘুঁতুমি।
ঘুমোক পুলিশ দেশ জোড়া এই আঁধারে
মন্ত্রীসাহেব হোঁৎকা এবং হাঁদাড়ে।
দেশের সবাই হচ্ছে ক্রমে খ্যাপাটে
চিমনি-চাটা ভোঁপসা-মুখো ভ্যাপাটে।
তাই তো বলি শাসকদলের সজারু
আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।
আজকে হেথায় জঙ্গি হুতোম পেঁচারা
উড়বে সবাই, শিকার ব্লগার বেচারা।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র রাজনীতি ~ অনিমেষ বৈদ্য

এক বন্ধুর বাবার মৃত্যু হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে শোক সভা। সদ্য প্রয়াত কাকু ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অবসর নিয়েছেন কিছু বছর আগেই। যাই হোক সেই শোক সভা উপলক্ষ্যে বর্ধমান যাওয়া।

এই সেই বর্ধমান। এই সেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। হঠাৎ করে বর্ধমান এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়ার কী প্রয়োজন? প্রয়োজন আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ছবিটাকে বোঝার জন্যই প্রয়োজন আছে।

প্রায় এক লাখ ছাত্রীছাত্র নিয়ে ২০০টি কলেজের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪ র মে-জুন মাসে অনার্স ও পাসের সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা নেওয়া হয় । ২০১৫ র মার্চ মাস অব্দি অর্থাৎ প্রায় দশ মাস বাদেও এই পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট অপ্রকাশিত ছিল। নিমানুযায়ী এই সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রীছাত্রদের থার্ড ইয়ারের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ২০১৫ র এপ্রিল/মে মাসে। ফলত , থার্ড ইয়ারের পরীক্ষা দেওয়ার ( যদি সময় মতো হতো) মাস দেড়েক আগেও ছাত্রদের হাতে ছিলো না সেকেন্ড ইয়ারের রেজাল্ট । তারা জানতোই না একমাস বাদে থার্ড ইয়ারের পরীক্ষায় বসবে নাকি পুনরায় সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা দেবে (যদি অসম্পূর্ণ রেজাল্ট আসে )! এই ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। ছাত্রীছাত্ররা জড়ো হয় এই বর্ধমান শহরে। সেটা এই বছর মার্চের শেষের দিকে। সমস্যার সুরাহা তো হয়ই না, উল্টে ছাত্রীছাত্রদের উপর নেমে আসে পুলিশি হেনস্থা। উপাচার্য নীরব। ২৭ মার্চ বিপুল সংখ্যক ছাত্রীছাত্র জড়ো হয় বর্ধমান স্টেশনে। মিছিল হয় সাধারণ ছাত্রীছাত্রের ব্যানারে। মিছিলের দাবী ছিল – দ্রুত দ্বিতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ করতে হবে । উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয় ডেপুটেশন । উত্তর আসে – " হমম... দেখছি "।

আন্দোলনের চাপে পড়ে ২০১৫ র এপ্রিলেই কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ফল প্রকাশ করলো। প্রথমে B.SC , B.Com এবং পরে B.A.-র । যা ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ । তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হল –INC/PNC , Roll Not Found , Absent ইত্যাদি । সমস্যায় পড়ে প্রচুর সংখ্যক ছাত্রীছাত্র। মার্কশিট দেবার পর দেখা গেল পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর ! কেউ ৬০ এর জায়গায় পেয়েছে ০৬ কেউ বা কোনো নাম্বার না , পেয়েছে "* , # " এর মত কিছু বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। শুরু হয় আরও জোরালো আন্দোলন। যে আন্দোলনে শামিল যাদবপুর, প্রেসি থেকে শুরু করে গোটা ছাত্রীছাত্র সমাজ।

এই ডামাডোলের মধ্যেই প্রকাশিত হয় তৃতীয় বর্ষের ফল। সেই রেজাল্টের ভুল নিয়েও অসংখ্য প্রশ্ন ওঠায় বোঝা যায় যে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় আছে একই রকম। আর বিক্ষোভ আন্দোলন যেন না হয় তার জন্য বর্ধমান বিশ্বিবিদ্যালয় জুড়ে নামানো হয় পুলিশ। আন্দোলনের চাপে পরীক্ষা নিয়ামকের প্রধান নিজের কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।

এই হলো গল্প। মানে বাস্তবিক গল্প। কিন্তু এই অসময়ে এই পোস্ট কেন? একটাই কারণ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, বাড়ি জমি বন্ধক রেখে যে প্রান্তবাসীর পরিবারের ছাত্রীছাত্র ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পা রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠে সেই ছাত্রীছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ভাবেই ছিনিমিনি খেলা হয়। আর আমরা ছাত্রীছাত্রদের আন্দোলন পড়ি খবরের কাগজে আর চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলি, ''পড়াশোনার নাম নেই, খালি আন্দোলন। ধরে চাবকানো উচিৎ"।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫

ঈশ্বর ~ অনির্বান মাইতি

একটা ঈশ্বর থাকা না খুব জরুরি জানেন ? মানে ধরুন আমি যে কথাগুলো বলতে চাইছি লোকে সেগুলো বুঝতে চাইছে না, আমি যদি টুক করে আমার লেখার নিচে একটা ঈশ্বরের নাম লিখে দেই তা হলেই বেশ একটা জনসমর্থন জুটে যাবে। ধরুন আমি লিখলাম

ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে ।
নাস্তিক সেও পায় বিধাতার বর ,
ধার্মিকতার করে না আড়ম্বর ।
শ্রদ্ধা করিয়া জ্বালে বুদ্ধির আলো ,
শাস্ত্রে মানে না , মানে মানুষের ভালো ।
বিধর্ম বলি মারে পরধর্মেরে ,
নিজ ধর্মের অপমান করি ফেরে ,
পিতার নামেতে হানে তাঁর সন্তানে ,
আচার লইয়া বিচার নাহিকো জানে ,
পূজাগৃহে তোলে রক্তমাখানো ধ্বজা —
দেবতার নামে এ যে শয়তান ভজা ।

সাথে সাথে ২০০ লাইক আর আড়াইশোটা খিস্তি বাঁধা। এবার যদি টুক করে নিচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে দেই। ওটা গিয়ে দাঁড়াবে ২৫০ লাইক আর ১০ টা খিস্তিতে। তো এই হল আমার দেশের নাম মাহাত্ম্য । কি বলেছে তার থেকে কে বলেছে টা বরাবরই গুরুত্ব পেয়ে এসেছে।

এখানেই ঈশ্বরের প্রশংসা করে থেমে যাব ভেবেছেন ? উঁহু সেটি হচ্ছে না, ঈশ্বর থাকার আরো একশ একটা উপকার আছে। তার মধ্যে কয়েকটিই বলতে পারি, ধরুন আপনি ট্যাক্স দিচ্ছেন না, মানে দিতে পারছেন না। সরকার আপনার কানের সামনে মন্ত্র পড়ে দিলো -

"বাকি রাখা খাজনা
মোটে ভালো কাজ না
ভরপেট নাও খাই
রাজকর দেওয়া চাই"

তলায় লেখা সত্যজিত রায়। কবি কি বলেছে, কেন বলেছে সেসব দেখারও টাইম নেই তখন , কে বলেছে সেটাই বড় কথা। আপনি জলে গল। দরকারে টাকা ধার করে রাজকর দিয়ে দিলেন।

ঈশ্বর এবং তাঁদের বানী খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানব জীবনে। এবং এটা যে শুধু সরকার করে তা নয়। আপনি ভেবে দেখুন আপনার বাচ্চাটা খুব দুষ্টুমি করছে আপনি তাকে সামলাতে না পেরে বলে দিলেন মায়ের কথা না শুনলে ঠাকুর পাপ দেয়। যে শিশু পুন্য কি তাই জেনে উঠতে পারল না সে তার আগেই পাপের ভয় কিন্তু পেয়ে গেলো। আহা মনে মনে হলেও সে জ্বলন্ত কড়ায়, ফুটন্ত তেলে ঈশ্বরের পাপের বিচারের এক পাপী বলে ভেবে তো নিল নিজেকে ! এভাবেই ঈশ্বর সব সময় শাষনকর্তা বা কর্ত্রী কে সহায়তা প্রদান করে থাকে।

ঈশ্বর মানে যদি পাঠক শিব, যীশু, মুহাম্মদ ভেবে আমায় কোপানোর জন্য উদ্যত হন আমি অভিমান করে ফেলতেই পারি। ঈশ্বরের সংজ্ঞা এখানে অনেক বড়। শুধুমাত্র কোন পাথুরে মূর্তি দিয়েও যখন কাজ চলে না , তখন এই মানবকুল থেকেই আমরা খুঁজে নেই নতুন ঈশ্বর। যেমন ধরুন (আচ্ছা থাক ওনার নাম নেবো না লোকে বড্ড খিস্তি করেছে ইতিপূর্বে) ধরুন লোকনাথ আছেন , সাঁইবাবা আছেন, আশারাম বাপু আছেন, ওয়াইসি আছেন, এরা সকলেই কিন্তু কমবেশি ভগবান। এদের মুখ নিঃসৃত বানী আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র কে বড় পুষ্ট করে। ওনারা তার মুল্যও বুঝে নেন। যে যাই বলুক রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু কোনভাবেই অকৃতজ্ঞ নয়। ছাড়ুন এসব ভারি ভারি আঁতেল কথা। চলে আসুন পাড়ার ক্ষ্যাপাদার কথায়। ক্ষ্যাপাদার বাবা পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী ছিলেন মৃত্যু আগের মিনিট অবধি। বিছানাতেই মলমুত্র ত্যাগ করতেন। কোন কোন দিন একটু বেশি বাড়াবাড়ি করলে ক্ষ্যাপাদা আর তাঁর স্ত্রী যে ভাষায় বাবা কে খিস্তি দিতেন সে ভাষা শুনলে আমার স্টেটাসে যারা খিস্তি দেন তারাও লজ্জা পাবেন। কিন্তু ক্ষ্যাপাদার বাবা মারা যাবার পর ,যথারীতি একটি ছবি তার সামনে ধুপ আর মালা সহযোগে রোজ পুজো হয় । এবং ক্ষ্যাপাদা তার সন্তানদের ঠাকুরদার আদর্শে অবিচল থাকার পরামর্শ নিয়মিত দেন। বাচ্চারা বাঁদরামো করলে ঠাকুরদা ওপর থেকে সব দেখছেন তিনি পাপ দেবেন ইত্যাদিও আজকাল চলছে। বেঁচে থেকে যা দেখেছেন উপর থেকে কি তার বেশি কিছু দেখা যায় তার জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।

মৃত্যু বড় সুন্দর, মানুষ কে সুন্দর করে তোলে, তার ঈশ্বর প্রাপ্তি হয়। আর একবার ঈশ্বর বানিয়ে ফেলতে পারলে তাকে ভাঙিয়েও কিছু আদায় হয়। এ প্রসঙ্গে সব থেকে বড় প্রাপ্তি হল "জয় বাবা হাইরোডেশ্বর" মেচেদা যাওয়ার পথে এক জায়গায় একটা পাথরের গায়ে লাল সিঁদুর লাগিয়ে নিচে হাইরোডেশ্বর লিখে দিয়ে কিছু লোক বেশ কামিয়ে নিয়েছেন (এখন আছে কিনা জানি না)। ভগবানের একটা বিশাল লিস্ট কিন্তু বেরিয়ে এলো। এ ব্যাপারে কিন্তু মার্ক্সবাদীরাও কম যান না। এ নিয়ে কবি সৃজন সেনের একটা ভারি ভালো লেখা মনে পড়ছে। কিছু শব্দের গন্ডগোল থাকতে পারে স্মৃতি থেকে টুকে দিচ্ছি।

(মাও সে তুঙ এর মৃত্যুর পর দিন লেখা)

মরিয়াছে ব্যাটা চুকিয়াছে ল্যাটা
এবারে আমরা ছাড়িয়া হাঁফ
সাজায়ে গুছায়ে যতনে বসায়ে
ব্যাটারে বানাবো ধম্মবাপ
মনসার পুজা ঢের বেশি ভালো
কে চায় পুজিতে জ্যান্ত সাপ ?

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

​ শিল্প বিচার ~ কৌশিক সেনগুপ্ত

সিংহাসনে বসল রানি, বাজলো কাঁসর ঘন্টা,

ছটফটিয়ে উঠল কেঁপে সুব্রতদার মনটা,
রানি বলে, 'মন্ত্রী আমার রাজ্যে নেইকো শিল্প?'
মন্ত্রী বলে, 'ল্যাংচা সেটা শিল্প তো নয় অল্প।'
রানি বলেন 'অল্প বেশি দেখুক গিয়ে ববি',
ববি বলে 'আমার কেবল চেতলাটুকুই লবি'।
রানি হাঁকেন 'বোলাও তবে...বেহালার ঐ পার্থ',
পার্থ বলে 'সিন্ডিকেট এর ফোন এলো এইমাত্র
তাদের জ্বালায় বন্ধ যে গেট, শিল্প কোথায় ঢুকবে?'
রানি বলে 'সুবোধ, তবে এগিয়ে এসো, লিখবে'।
সুবোধ বলে, 'সিট মুছেছি হাত-টা ভরা ঘামে,
আপনি বরং এই যাত্রায় ডাকুন আরিন্দমে।'
রানি বলেন 'মদন আসুক গুনলাম এক-দুই-তিন'
মদন বলে 'ছ মাস ধরে করছে মাথা ঝিম-ঝিম,
কাস্টডি তে আছি জেনেও করেনি কেউ দ্রিকপাত,'
বলেই শুল হাসপাতালে চক্ষু বুজে চিৎপাত।
রানির ভাইপো অভি ছিল, তারেই ধরে শেষটা
বললে রানি 'তুই-ই না হয় করনা একটু চেস্টা'।
ভাইপো বলে 'মারতে চাও তো করেই দাও না কিশেন,
শিল্প খুঁজে মরতে হবে এ আবার কি মিসেন?'
ছিল হাজির বৃদ্ধ অমিত, সত্তর সে ছুঁই ছুঁই ,
ভাবল মনে ভয় কেন আর, একদিন তো সরবই,
সাহস করে বললে বুড়ো, 'মিত্থ্যে তোদের ভীতি,
খুঁজতে পারি হুকুম পেলে, এবং পেলে ধুতি'।
নানান দেশে পাড়ি দিয়ে খুঁজল কত শিল্প,
এক পল্টন সঙ্গি গেলো, একটুও নয় গল্প।
রাজ্যে হল জয়জয়কার, পাগলু জোরে বাজলো ,
আর আনন্দে সব শিল্পপতি তেলে ভাজাই ভাজল।

(এই লেখার সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক, কেউ যদি এই লেখার সাথে কোন চরিত্র-র মিল পায়, সেটা সম্পূর্ণ তার মস্তিস্ক প্রসুত।)

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫

কদিন হল – শুভাশিষ আচার্য্য

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে
কেন্নো যেন কুঁকড়ে থাকি, বুকেতে হাত, বল নেইতো
পণ্য জন্ম হয়েছে কবে, কে জানে কখন লুঠ চলছে
জন্ম ভর দাস জন্ম, মাথাটা নুয়ে নিচের দিকে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

ঘুমের চোখে সকাল থেকে ভীষণ কষ্টে আজ পড়েছি
শিরদাঁড়াটা কাজের চাপে জবাব দিয়ে বেরিয়ে গেল
কাজের লোক ইস্তফাতে ক্ষতির কথা সবাই জানে
সবাই বোঝে কারণ দেখি, আমার মত সবাই আছে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

অরুণ, বরুণ, কিরণ, মালার মরণ হলে গুমরে মরি
কত লোক যে মরে যাচ্ছে খুন খারাবির হিংসা জলে
রঙ্গিন লোকে তখন খোঁজে কোন রঙ্গেতে বাণ ডেকেছে
শ্মশান ঘাটে আমি যাইনা, ভয় করে খুব রং খেলাকে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

তন্নিষ্ঠ ভক্তি দিয়ে বাধ্য হয়ে গুরু ধরেছি
চাদর, দুধ, কবজ, ফুল, - চোখ বুজিয়ে সব করেছি
গুরু বলল, "বাঁচতে হলে এসব কিছু করতে হবে -
উলটে দেখুন, পালটে গেছে" - এক্ষেত্রে আর ঘটল না যে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

পায়ের জোরে সহজ করে হাঁটতে গেলে হোঁচট লাগে
পাড়ার লোকে হেসেই ওঠে, খড়ম পায়ে ঘোড়ার চাল
পায়ের জমি বিরাট দাবী, ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে
জমির মর্ম, শিল্প ধরম সবকিছু যে গুলিয়ে গেছে
কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে
কেন্নো যেন কুঁকড়ে থাকি, বুকেতে হাত, বল নেইতো
পণ্য জন্ম হয়েছে কবে, কে জানে কখন লুঠ চলছে
জন্ম ভর দাস জন্ম, মাথাটা নুয়ে নিচের দিকে -

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে নয় পালিয়ে গেছে

ওর চোখ দিয়ে – শুভাশিষ আচার্য্য

-- হ্যালো বাবা..
-- হ্যাঁ মা বল
-- কি করছিলে বাবা
-- এই একটু শুয়ে আছি একটু ক্লান্ত লাগছে তাই
-- ... তুমি ভাল আছ বাবা
-- হ্যাঁ রে মা ভাল আছি তুই চিন্তা করিস না
-- হ্যালো বাবাইরে
-- হুমম
-- শোন না,বাবা এখানে এখন কারেন্ট নেই, অন্ধকার হয়ে আসছে  বাবা আমি জানলা টা খুলে তোমাকে মোবাইলে বাইরের আওয়াজ টা শোনাচ্ছি দেখ জেনারেটর কি চলছে আমি বুঝতে পারছিনা দাঁড়াও আমি তোমাকে শোনাচ্ছি
(জানলা টা খুলে মোবাইল টা মেলে ধরে বাইরে বাবা যদি শুনতে পায় বাইরে টা )
-- শুনতে পেলে বাবা, চালিয়েছে?
-- নারে মা এখন চালায় নি একটু ওয়েট কর কিছু হয়ত প্রব্লেম আছে জন্য দেরি হচ্ছে
-- বাবা জান আমাদের পাশের ব্রহ্মপুত্র কমপ্লেক্সটাতে খালি পাইপ থেকে জল পড়ে যায় আর সবসময় একটা আওয়াজ  হয় বাবা জান আমি তোমার সাথে কথা বলতে বলতে বাইরের বারান্দায় এসে গেছি দাঁড়াও তোমাকে জল পড়ার শব্দ শোনাচ্ছি
(আবার কান থেকে সরিয়ে মোবাইল টা মেলে ধরে বাইরে যেদিকে নাগাড়ে জল পড়ে যাচ্ছে পাশের কমপ্লেক্সের জলের পাম্প থেকে )
বাবা শুনতে পেলে বাবাইরে এখানে আবার বৃষ্টি নেমে গেল শুনতে পেলি আমি বৃষ্টির আওয়াজ শোনালাম
-- জলের আওয়াজ পেলাম রে মা কিন্তু বৃষ্টিটা সেভাবে শুনতে পেলাম না
-- আচ্ছা আচ্ছা আসলে বাবা মোবাইল কি আর পুর বোঝা যাবে তাই না  আচ্ছা বাবামা পড়তে বসতে ডাকছে তুমি কি মায়ের সাথে কথা বলবে না পরে
-- নানা রেখে দে মা আমি পরে ফোন করে নেব
-----------------------------------------------------------

এরকম ভাবেই আমার সাথে আমার মেয়ের কথা হয় অনেকদিন ধরে এভাবেই আমার মেয়ে আমাকে তাঁর পৃথিবী দেখায় হেলায় - ফোনে কম্পিউটারে এরকম বৃষ্টির আওয়াজ, সদ্য জন্মান বেড়াল ছানা কিভাবে ফ্ল্যাটে ঢুকে যায়, তাকে তাড়িয়ে দিলে তাঁর ডুকরে ওঠা, কুকুর বাচ্চার ঘুরপাক খাওয়া তাদের মাকে ঘিরে, পাখিদের খেতে আসা আমাদের বারান্দার কার্নিশে, স্কুলে যেতে বাস স্ট্যান্ডের গল্প, রাস্তার ধুলোর কষ্ট, ভাঙ্গা রাস্তায় রিক্সাতে কিভাবে ঝাঁকুনি  খায় তাঁর গল্প সব আমি ওর চোখ দিয়ে শুনি দেখি

কিন্তু একটা ঘটনা বা একটা গল্পেও আমি পাশে থাকতে পারিনা আমার মেয়েকে নিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়তে পারিনা বৃষ্টি ভেজা দুপুরে, বলতে পারিনা দেখ ছোট ছোট গাছ গুল কেমন ভিজে চান তোর দেখা কুকুর বাচ্চার মত, আর টিনের চালের উপর বৃষ্টি পড়লে গরম ঘর কেমন ঠাণ্ডা হয়ে যায় আর সারা উঠনে কিভাবে নৌকা ছাড়া যায়, আম বাগানে নিয়ে গিয়ে দেখাতে পারিনা দেখ মা বট হচ্ছে বৃক্ষ আর আম হচ্ছে গাছ সে যত বড় হোক  ওকে আমার দেখান হয়না কিভাবে মিশে যায় সাগরনদিজল, কিভাবে আকাশে গাভী চরে মেঘের মতন আর কিভাবেই বা ওর মন খারাপ হলে সারা দুনিয়ার মন খারাপ হয়ে যায় ওকে দেখাতে পারিনা ঘরের পুরনো ছাতা  কিভাবে গল্প হয়ে যায় কিছুই না কিচ্ছু না

----------------------------------------------------
কর্মক্ষেত্র যোগদান করতে সহরগ্রামঘরবাসা সবকিছু ছেড়ে মানুষ চলে যায় দূর সহর দূর গ্রাম দূর রাস্তায় যেন এক ঐতিহাসিক সত্য, এর থেকে আমাদের বেরোবার উপায় নেই আর শুধু আমাদের বা বলি কি করে মানে এত শুধু বাংলায় আটকে নেই এক ব্যাপার সত্যি হয়ে আছে সমস্ত রাজ্যে মধ্যপ্রদেশ যায় মহারাষ্ট্রে, কলকাতা যায় দিল্লী দিল্লী যায় হরিয়ানা, উড়িষ্যা যায় পশ্চিমবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ যায় কর্ণাটক, কর্ণাটক যায় মহারাষ্ট্র, বিহার যায় অন্ধ্রপ্রদেশ আর অন্ধ্রপ্রদেশ যায় তামিলনাড়ু  আর কত অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে চারিদিকে দেশের বাইরেও এর মেলা উদাহরণ

---------------------------------------------------------------

আমিও আজ  এই ইতিহাসের একজন হয়ে গেছি কখন নিজের অজান্তে  তাই কাজ ফাঁকে, কাজ শেষে, বাসে, ট্যাক্সিতে, রাস্তার মোড় বা চায়ের চুমুকে, যেখানেই ফোন পাই মনে হয় মেয়ে ফোন করেছে ওর চোখে এখনি দেখব পৃথিবীটাকে


আর কি বা করতে পারি