শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

লিখিস যারা ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য্য

লিখিস যারা, লিখতে থাকিস। মারিস যারা, মার।
সবাই নিজের জাত চেনালি, এটাই পরিষ্কার!
বলার কথা হবেই বলা, দিলেও ভেঙ্গে মুখ,
জানবে সবাই কোনটা উচিত, কোনটা অহেতুক।
আদালতের নেই প্রয়োজন করতে এ বিচার!!
মার খেতে ভয় পাই না তোদের, মরতেও প্রস্তুত,
ভয় তো তোদের নিজের মনে, ধরা পড়ার ভুত!
বুঝবি নিজেই, লড়াইতে আজ কার জিত কার হার!!
লিখিস যারা, লিখতে থাকিস। মারিস যারা, মার।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

তোমারই কবর ~ শঙ্খ করভৌমিক

​পূবদিকে সূর্য ওঠে, এই বুঝি তোমার বিশ্বাস?
যারা বলে পশ্চিমে তারা এসে ফেলে দেবে লাশ।
নীল রঙ প্রিয় বুঝি? ততটা পছন্দ নয় লাল?
মেলা থেকে ফিরে তুমি মারা পড়তেই পারো কাল।
শিরোনাম হতে গেলে আজকাল লাগছে না সেরকম ব্যতিক্রমী গুণ।
গান্ধী বা কেনেডি না, তুমি বা আমিও পারি যখন তখন হতে খুন।
ভেবে যদি থাকো শুধু এইসব ঘটে থাকে খবর কাগজে-
অর্ধেক মরে আছ- এইবেলা শান দাও নিজের মগজে।
নিতান্ত অকারণে হয়ে যেতে পারো তুমি গরম খবর।
চুপ করে থাকা মানে নীরবে খুঁড়তে দেখা তোমারই কবর।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

২১শে ফেব্রুয়ারি ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


ফেব্রুয়ারির দিনটি থাকে যুদ্ধসাজে
সকাল সকাল যন্ত্রিরা সব বর্ম আঁটে
মাতৃভাষায় স্বপ্নরা খুব ছোঁয়াচ লাগায়
"ভায়ের রক্ত" ছড়িয়ে থাকে রাস্তাঘাটে

জেতার মতই যুদ্ধটি হয় বাংলা জুড়ে
মুহূর্মুহূ বর্নমালার জয়ধ্বনী
উথলে ওঠে মাতৃভাষায় ঘনিষ্ঠতা
সাইনবোর্ডেও বাংলা আখর বিজ্ঞাপনি

সন্ধ্যে নামলে রনক্লান্ত আঁধার ঘণ
বই-কেতাবে পরিশ্রান্ত বাংলা লেখা
শুকিয়ে যাওয়া জিভ ওদিকে গলাও ভাঙ্গা
"বাংলা অতীত" এইটা কেবল ভাবতে শেখা

মধ্যরাতে নদীর বুকে ভাসছে ডিঙ্গি
গাইছে কারা? ভাটিয়ালি? জারি, সারি?
কোন ভাষাতে? বাংলা কিনা, কি এসে যায়?
মনের ভাষা, এইটুকু তো বলতে পারি।


মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

বঙ্গীয় রাজনীতির অবস্থা ~ অমিতাভ প্রামাণিক

বেশি না, এই সপ্তাখানেক আগেই বোধহয় লিখেছিলাম, আমাদের বাংলা হচ্ছে ছোটলোকের জায়গা। উরিব্বাবা, তাতে জনগণের কী রাগ! হাতের সামনে পেলে আমায় কুচি কুচি করে কেটে কুকুর দিয়েই খাইয়ে দিতো।

এখন দেখো! ভোটের রেজাল্ট দেখো।

ছোটলোক বলেই এখানকার লোক লোভে পড়ে নিজের জমানো শেষ পয়সাটা তুলে দেয় অজানা ঠগের হাতে, ঠকে গিয়ে হা-হুতাশ করে, হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে গালাগালি দেয়, আবার সেই ঠগ পার্টিকেই ভোটে জেতায়।

বলেছিলাম কিনা?


রাজনীতির অবস্থা দেখুন।

"কুণাল চোর? টুম্পাই চোর? মদন চোর? মুকুল চোর? আমি চোর?"

চোরদের লিস্ট বেরিয়ে এলো 'ঠাকুরঘরে কে রে' টাইপ! একে একে ঢুকতেও লাগল সব যেখানে তাদের মানায় ভালো।
মুকুল এখন বোঁটা থেকে ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে খসে পড়বে। টুম্পাই অলরেডি খসে গেছে।

হঠাৎ উপনির্বাচনে দল জিতে যেতে বিপক্ষদের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে - আহা, এতদিন ধরে যে লোকটা দল গড়লো, আজ কিনা তাকেই সাইডলাইন করে দিচ্ছে! এ তো ঘোর অন্যায়।

অর্থাৎ সে যে কাঙালের ধন চুরি করেছে, সেটা তেমন অন্যায় নয়। ওসব ভুলে গেলেও চলবে। সে দল গড়ার নায়ক, তাকে সাইড করে দেওয়াটাই মেইন ফ্যাক্টর! জনগণ নাকি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবে।
নীতি-ফিতির কোনো সংজ্ঞাই এদের কাছে পরিষ্কার না। কোন দু:খে জনতা এদের ভোট দেবে?

কিন্তু কেসটা এই রকম।

লোকজন জানে, বোঝে যে তৃণমূলের ওপরতলার দাদা-দিদি মানেই জালিস্য জালি। এক এক করে জেলে ঢুকছে, মানুষ জানবে না, বুঝবে না, এতই কি হাঁদা? কিন্তু উপায় কী? ভোট যে দেবে, কাকে দেবে?

বাম-কে? তার মানে তো ভোটটা জলে ফেলে দেওয়া। কেননা, গুন্ডা-ফুন্ডা বেরিয়ে গিয়ে বামে যারা পড়ে আছে, তাদের ইমেজ অনেক ক্লীন হলেও, নেতা কই? এদের জিতিয়ে লাভ কী? অতীতের অভিজ্ঞতা তো জানাই। রুখেছি, রুখবো। আর থিওরেটিক্যাল দাদাগিরি। নিজে কিচ্ছু করবে না, অন্যকেও করতে দেবে না। কেউ দাঁড়িয়ে বলছে না - আমি হলে এটা না, এই রকম করতাম, তাতে এই রেজাল্ট হত। তাহলে?

বিজেপি-কে? সে আর এদের চেয়ে আলাদা কী? এও তো স্কীমার। যে দল ভেঙে বিজেপিতে ঢুকতে চায় পিঠ বাঁচাতে, সে অসৎ না, তার সার্টিফিকেট রেডি, তাকে জেল যেতে নাও হতে পারে। প্লাস, এ রাজ্যে এদের নেতা কে? ম্যাড়মেড়ে রাহুল সিনহা? ভাঁওতাবাজ বাবা রামছাগলের আশির্বাদধন্য বাবুল? এর থেকে ওর গলায় ঝুলে যাওয়া লকেট? ছো:।

যারা মনস্থির করতে পারেনি, তারা তৃণমূলকেই আবার ভোট দিয়েছে। যারা পেরেছে, তারা বাম-বিজেপির মধ্যে আলাদা কিছু পায়নি, তাই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভোট ভাগ হয়েছে। ফল সবার সামনে।

ভাবছ, জনতা খুশি? নো ওয়ে। দে সিম্পলি ডোন্ট নো হোয়াট টু ডু। গো আস্ক দেম।

আমাদের এখনই প্রবলভাবে একটা অরবিন্দ কেজরিওয়াল চাই। একটা আম আদমি। যার কোনো ব্যাগেজ নেই। দুর্নীতি নেই। দাস ক্যাপিটাল নেই। পাশার চাল নেই। হিংসে নেই। লোভ নেই। শুধু বাঙালির গরিমা আছে, অভিমান আছে, তুষের আগুনের মত বুকের মধ্যে কোথাও এক চাপা অহঙ্কার আছে। নিজের কাছে প্রশ্ন আছে - রামমোহন বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথের জন্মভূমি এইভাবে বারোভূতে লুটেপুটে খাবে?

কোই হ্যায়? আছো কেউ?

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

প্রমিস ডে ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

মালতিকে কি প্রমিস করেছিল তপনে
মাখোমাখো ভালোবাসা নলবনে গোপনে,
মনে আছে নাড়ুদাকে বলেছিল শিবানী
লালুভুলু ভালো ছেলে, কথা বলে কি ফানি;
বিকেলের মরা রোদে বলেছিল পামেলা
রেগুলার দেখাকরা ফালতু এ ঝামেলা;
মনে আছে প্রতিজ্ঞা করেছিল সাকিরা
বর হেটে যাবে আর গাড়ি চেপে বাকিরা;
কেঁদে কেটে একদিন বলেছিল শ্রাবণী
হ্যারিকেনে তেল নেই আগে কেন ভাবনি?
কি জানি কি বলেছিল গোবিন্দ, গোপালে
টিনাদিকে হানিমুনে নিয়ে যাবে নেপালে;
সকালের কৈশোরে বলেছিল হাসিনা
ঝালমুড়ি ভালবাসি, তোকে ভালবাসিনা;
প্রতিজ্ঞা করেছিল লালটু কি কারনে
বুলাদিকে নাকি নিয়ে যাবে মহাকরণে;
ভয়ানক প্রতিজ্ঞা করেছিল অশোকে
রাত্তিরে কিছুতেই ঘুমবেনা তোষকে;
ম্লান মুখে একদিন বলেছিল তাপসে
নেড়িটা তো রাত্তিরে শুয়ে থাকে পাপোশে;
প্রেমে বিতাড়িত হয়ে বলেছিল মনিশে
হৃদয়ের দাগা যদি উঠে যেত ভ্যানিশে;
একদিন বলেছিল অনাবিল জোছনা
স্টেডি প্রেম কেটে গেছে? বিচলিত হোস না;
প্রতিজ্ঞা করেছিল পিতামহ ভীষ্ম
ডন বৈঠক দিয়ো কিবা রোদ গ্রীষ্ম;
প্রতিজ্ঞা করেছিল অর্জুন ভীমেতে
স্বাস্থ্যর উদ্ধারে রোজ যাবে জিমেতে;
কেউ বলে শোনা কথা সহদেব নকুলে
রাধিকার সাথে নাকি লুডু খেলে গোকুলে;
আরো কত প্রতিজ্ঞা চারপাশে ছড়ানো
প্রমিসের আমি তুমি সাদা খাতা ভরানো।।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

​ও মেয়ে… অবুঝ মেয়ে ~ অনামিকা মিত্র

সেমিনারে কখা ওড়ে, রাশি রাশি ধ্যান ওড়ে।
ও মেয়ে, অবুঝ মেয়ে, জন্মালি কেন রে?

হিসেব জানিস না কি? তোর কী কী প্রাপ্য?
তোর যা গল্প, সে'তো ভ্রুণেই সমাপ্য।

সমাপ্ত নয়? যদি কাহিনিটি গড়ালো…
কেউ হেসে বলবে না … হল এই ঘর আলো

কেউ ডেকে বলল না এলি যদি বাঁচ রে।
বরঞ্চ মেরে ফেলা হোক তোকে আছড়ে!

যদি বেঁচে যাস, নিস যৌবন চিহ্ন
লোভে আর অধিকারে তুই হবি ছিন্ন।

কান্নারা গড়াবেই… আজ থেকে কালকে
পার্ক স্ট্রিট… কামদুনি… কখনও বা শালকে'।

এ'টাই ভাগ্যলিপি, যা লিখেছে কোষ্ঠী।
ছোট্ট ঘটনা… নাকি দ্বন্দ্বের গোষ্ঠী।

মেনে নিতে না পারলে রাষ্ট্রের ভাষ্য…
জ্বলে ওঠ। ক্রোধ হোক ক্রমশ প্রকাশ্য।

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

'লজ্জা' ~ সুশোভন পাত্র

​'লজ্জা' ! আর এই 'লজ্জা' নিয়েই পড়েছি মহাফাঁপরে ! গত কয়েকদিন ধরেই দোকানে, হাটে-বাজার, রাস্তা-ঘাটে সর্বত্র হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি, যেকোনো মূল্য দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু কোথাও দেখছি 'লজ্জা' কিনতেই পাওয়া যায় না। গাছেও ধরে না 'লজ্জা' ! মাটি খুঁড়েও পাওয়া যায় না 'লজ্জা' ! বিদেশ থেকে আমদানিও করা যায় না 'লজ্জা' ! সমস্যাটা গভীর।

ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল, জাবং, মিন্ত্রা এরকম দস্তুর অনলাইন সাইটে শুনেছি নাকি কেঞ্জাকুড়ার গামছাও পাওয়া যায়, বিভিন্ন সময়েই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও থাকে। কদিন আগে চিরুনি তল্লাসি করলাম। সার্চ অপশেনে গিয়ে গোটা গোটা অক্ষরে বাঙলায় লিখলাম "১০০ গ্রাম লজ্জা"। পাতি ইংলিশে জবাব এলো "No matching products available." বাধ্য হয়ে গেলাম একটা শপিং মলে। খুঁজে খুঁজে ওঁদের সেলএক্সিকুইটিভ কে জিজ্ঞেস করলাম "দাদা লজ্জা কত কেজি?" শুনে সে তো এক বারে রেগে খাপ্পা। জানেন কি বলল ? বলল "লজ্জা খুঁজে আপনি এখানে এসেছেন ?এক্ষুনি 'মল ত্যাগ' করুন না হলে পুলিশ ডাকবো কিন্তু।" মনের দুঃখে মল ত্যাগ করলাম, বেরিয়ে আসতেই চোখে পড়ল পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে লেখা "ধার চাহিয়া লজ্জা দেবেন না ।" জয়গুরুর নাম করে সটান দোকানে ঢুকে বললাম "দাদা ধারে একটা গোল্ড ফ্লেক দিন তো। আর দয়া করে আপনি যে লজ্জাটা পাবেন ওটা আমাকে দিন। যা দাম চান দেবো।" শুনে ভদ্রলোক এমন ভাবে তাকালেন যেন গিলেই ফেলবেন। উফ! শেষে গেলাম এক বইয়ের দোকানে বললাম "দাদা লজ্জা আছে?" " বললেন "হ্যাঁ। আছে। ক-কপি চান ?" যেই আমি বললাম " মানে, কেজি দরে পাওয়া যায় না দাদা ?" দিলেন দোকান থেকে ঘাড় ধাক্কা ! ভাবুন একবার !

ছোটবেলার এক বিকেলে তবলার শেখানোর মাস্টারমশায় কে বসিয়ে রেখে, বাথরুম যাবার নাম করে পিছনের দরজা দিয়ে খেলতে চলে গিয়েছিলুম, ফিরে আসার পর মা বলেছিল "তুই এটা করতে পারলি ? এতটুকু লজ্জা লাগলো না তোর ? জীবনে তুই তবলা শিখতে পারবি না, দেখিস।" সেদিনই বুঝেছিলাম 'লজ্জা' হল লাগার 'বস্তু'। মায়ের ভবিষ্যৎ বানী পাই টু পাই মিলে আমার তবলার ভবিষ্যৎ অচিরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেও 'লজ্জা' আমি পেতে শিখেছিলাম। যখন জানলাম গাছের প্রাণ আছে প্রমান করা যায় লজ্জাবতী লতা ছুঁয়ে, বুঝলাম 'লজ্জা' প্রাণের একটি সুন্দর আবেগ। আবার যখন শুনলাম 'লজ্জা নারীর ভূষণ'। তখন ভাবলাম তাহলে পুরুষ মাত্রই বোধহয় 'বি-ভূতি-ভূষণ'। কিছুদিন আগে লোকে বলছিল "VC'র গণ্ডারের চামড়া ! লজ্জা নেই।" বুঝলাম গণ্ডারের বোধহয় 'লজ্জা' নেই তাহলে। মামাবাড়ি গেলেই দিদা বলত "খাওয়ার সময় লজ্জা করতে নেই "। বুঝলাম খেতে বসার আগেই 'লজ্জার' মাথা চিবিয়ে খেতে হয়। দিদার কথা এখনও শিরোধার্য। কিন্তু তসলিমা'র আবার বিখ্যাত 'লজ্জা' আছে। ভারতের ক্রিকেট টিমও বিদেশে মাটিতে সময় অসময়ে ভালোবেসে আমাদের অনেক 'লজ্জাই' দেয়, জার্মানি নাকি এ বারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল কে শ্রেষ্ঠ 'লজ্জা' উপহার দিয়েছে , বলিউডে মাধুরী দীক্ষিতের 'লজ্জা' একসময় বক্সঅফিস কাপিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তো কবেই লিখে গিয়েছেন "...প্রাণ চায় চক্ষু না চায়,/মরি একি তোর দুস্তর লজ্জা..." মোটকথা পৃথিবীতে ম্যাদামারা ভদ্দরলোক যেমন নিজের মতো করে লজ্জা পায়, বোদা গামবাট লোকেরও তাদের মতো করে লজ্জা পায়।

আসলে লজ্জার সাথে আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস, বিবেক, বুদ্ধি, মর্যাদা, মান, হুশের, অঙ্কের ভাষায় একটা 'সমানুপাতিক' সম্পর্ক আছে। এসব থাকলে আপনি ভুল করলে, অন্যায় করলে, নিজের স্বার্থ লাভের জন্য অন্য কে বঞ্চিত করলে, প্ররোচিত করলে লজ্জা পাবেন। লজ্জিত হবেন। আর এসব এর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক হলে, বিবেক, বুদ্ধি, মান মর্যাদা, বিক্রি করে নির্লজ্জ হয়ে, মুখে রং মেখে, সানগ্লাস পরে সং সেজে, রাস্তায় রাস্তায় 'পরিবর্তন চাই পরিবর্তন চাই' করে মাস দু -এক টানা কেত্তন আর ঢং করে সঠিক সময় কর্পূরের মত উবে যেতে পারলেই... তবেই, একমাত্র তবেই আপনি 'বুদ্ধিজীবী'।

ঠাকুর তো কবেই বলে গেছেন 'ইষ্টলাভের' জন্য , লজ্জা, ঘৃণা, ভয় -- তিন থাকতে নয় ...

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫

ব্যঙ্গ ও সোশাল নেট ওয়ার্ক ~ সুশোভন পাত্র

কান দিয়ে রক্ত পড়ছে ? না চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন ? তাহলে কানে আঙ্গুল দিন। চোখ বুজে বসে থাকুন। আর একান্তই দুটোর কিছুই না পারলে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরুন। নিজেরটা নিজে না পারলে, একে অপরেরটা ধরুন। কিন্তু ভুলেও হাসবেন না যেন। রসিকতাও করবেন না। ব্যাঙ্গ বাণে ফেসবুকের দেওয়াল ভরাবেন না।

পশ্চিমবঙ্গের মহামান্য মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে চিন্তিত হয়ে বলেছিলেন রাজ্যের মুরগি কম ডিম পাড়ছে কেন ? বিজেপি সাংসদ, সদস্য আর কয়েকজন ধর্মগুরুরা আবার চিন্তিত হয়ে পড়েছেন যে হিন্দু মেয়েরা কেন ডজন ডজন 'হিন্দু বাচ্চা' উৎপাদন করছেন না। এলি-তেলি-স্বাধী থেকে পাড়ার নেতা কেউ বলছেন ৪ টে চাই, কেউ বলছেন ৫ টা। শ্রী শ্রী শঙ্করাচার্য তো এক কাঠি উপরে গিয়ে বলেছেন "নরেন্দ্র মোদী কে পরেরবার পুনারায় ভোটে জেতাতে কমপক্ষে ১০ টা করে হিন্দু বাচ্চা চাই"। আমি বলি কি আগে ঠিক করুন সঠিক সংখ্যাটা কত ? ৪ না ৫ না একেবারে ১০ টা ? তারপর শিশুদের অন্নপ্রাশনের আগে ভোটাধিকারের বিল সংসদে পাশ করুন। গর্ভবতী হিন্দু মায়েদের ২ বার ভোটাধিকারের কথাও বিবেচনা করুন। হিন্দু ভোটারের জোগান যদি চাহিদার থেকে বেশী হয় তাহলে নিখাদ, নিখুঁত, হিন্দুভোটার কে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে রাজকোষের ঘাটতি মেটানোর কথাও ভাবা যেতে পারে। সমস্যা একটাই মুরগির ডিম ফুটে সবগুলো যদি ছেলে বেরোয় তাহলে পরের বার মোদীর জন্য হিন্দুভোটার পাব কি করে ?
যে বিচিত্র দেশের রঙ্গমঞ্চে একাঙ্ক নাটক পরিবেশন করতে এসে কখনও শাহাজাদা বলেন "Poverty is a state of mind !" , ভোটের প্রচারে এসে হবু প্রধানমন্ত্রী বলেন "বীর আলেকজেন্ডার কে গঙ্গাতীরে বিহারীরা পরাজিত করেছিলেন ", কেউ বলবেন "সবাই হিন্দু" কেউ বলবেন "জন্মেই মুসলিম", অনাহার আর অপুষ্টির পক্ষাঘাতে উন্মাদ্গামী দেশের প্রধানমন্ত্রী সোনা দিয়ে নিজের নামাঙ্কিত ৯ লাখ টাকার জ্যাকেট পরে "রায় বাহাদুরের আশায়" বড়লাটের পদ লেহন করতে যান, সে দেশের অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী , শেক্সপিয়ার, কিটস আর রবীন্দ্রনাথের কল্পবিজ্ঞানের কথামৃত খোদ বইমেলায় উপহার দিলে আপনি অবাক হবেন ? না কানে আঙ্গুল দেবেন ?

শুনলাম সোশাল নেটওয়ার্কে ব্যঙ্গ ঠেকাতে সরকার নাকি বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করছে। বটেই তো ! আপনার শিক্ষা, আপনার সংস্কৃতি, আপনার রুচি , আপনার জানা ইতিহাস, ভূগোলের চোদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করার সম্পূর্ণ অধিকার ওনাদের আছে। শুধু আপনারই সেগুলো নিয়ে রসিকতা করার অধিকার নেই। ব্যাঙ্গ করার অধিকার নেই। মুখ চেপে হাসারও অবকাশ নেই।

একবার হিটলার নাটক দেখতে গিয়েছিলেন, সাথী ছিলেন গোয়েরিং। নাটকটা খুব পছন্দ হয় হিটলারের। শুধু ভিলেনের বাটারফ্লাই গোঁফ হিটলারের চরম অস্বস্তির কারন হয়ে ওঠে। নাটক শেষেই অর্ডার দেন যাতে নাটকটা মঞ্চস্থ না করা হয় আর ভিলেন কে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। গোয়েরিং বলেন " ফুয়েরার, ভিলেন যদি গোঁফটা কেটে দেয় তাহলে ? " হিটলার বলেন "তাহলে গোঁফটা কাটার পর গুলি করে দিও। কেমন ? "

জনাব, হিটলারের বিচার ইতিহাস করেছে। নাৎসির বিচারও মানুষ করেছে। রসিকতাটা কিন্তু অমলিনই রয়ে গেছে। আজও।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৫

​মৃত্যুবিষয়ক কথোপকথন ~ শঙ্খ করভৌমিক

- "বাবা, এটা কিসের ছবি?"
- "হারমিট ক্র্যাব, সন্ন্যাসী কাঁকড়া।"
- "ওরকম নাম কেন?"
- "এরা খুব নিরীহ। সাধুদের মত। কেউ ওদের খেতে চাইলেও ওরা কিছু বলে না।"
- "তাহলে সবাই ওদের খেয়ে ফেলে না কেন?"
- "কি করে খাবে? ওরা তো ফাঁকা ঝিনুক বা শাঁখের খোলায় ঢুকে থাকে। ওটা খুব শক্ত হয়, তাই ওদের কেউ কামড়াতে পারে না।"
- "ও তাইতো, ওর জামাটা শাঁখের মত দেখতে।"
- "হ্যাঁ, জামাও বলতে পারো, বাড়িও বলতে পারো।"
- "বাবা, ও যে শাঁখটাকে জামা বানিয়ে পরে নিল, শাঁখটা কোথায় গেল?"
- "মরে গেছে। ওরা তো আর জ্যান্ত শাঁখ দিয়ে জামা বানায় না।"
- "সবাই মরে যায়?"
- "যায়।"
- "তুমিও মরে যাবে?"
- "হ্যাঁ, তবে তুমি বড় হবার পর।"
- "আমার যে খুব কষ্ট হবে। আমার সঙ্গে কে খেলবে?"
- "বললাম যে, তুমি বড় হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে খেলার মত ছোট আর থাকবে না।"
- "তাহলে তোমার বাবা মরে যাবার পর তুমি কেঁদেছিলে কেন? তুমি তো বড়।"
- "বাহ! আমি বাবার সঙ্গে খেলতাম না তো কি হয়েছে। গল্প তো করতাম।"
- "এখন তো তুমি আমার সঙ্গে গল্প করতে পারো।"
- "হ্যাঁ, সেইজন্যই তো আর কাঁদি না।"
- "জানো বাবা, আমি আগে ভাবতাম শুধু আমারও বাবা আছে। দাদা স্টার হয়ে যাবার পর বুঝলাম তোমারও বাবা ছিল।"
- "স্টার? হতেও পারে।"
- "কি বলছ? মরে গেলে সবাই স্টার হয়ে যায় না?"
- "ওইরকম ভাবতে ভাল লাগে আর কি।"
- "মরে গেলে লোক তাহলে কোথায় যায়?"
- "আমরা সবাই জল, মাটি, বাতাস এসব দিয়ে তৈরি। তাতেই মিশে যায়।"
- "তাহলে তোমার বাবা এখনো আছে?"
- "যা দিয়ে তৈরি সেটা থেকে যাওয়া মানে যদি থাকা হয়, তাহলে আছে।"
- "তাহলে তুমি মাঝে মাঝে মন খারাপ করো কেন?"
- "যেমন আমার ভাই বিদেশে থাকে। তোমার বোন বিদেশে থাকে। আমরা জানি ওরা আছে, তবু দূরে আছে বলে মন খারাপ করি- অনেকটা সেরকম ব্যাপার।"
- "তাহলে তুমি স্টার হয়ে গেলে আমার মন খারাপ হবে না।"
- "সেকি, কেন?"
- "তুমি তো জল, মাটি, বাতাস এসব হয়ে থেকেই যাবে। আর আকাশের দিকে তাকালেই তোমাকে দেখা যাবে। ওয়েবক্যামট্যামের দরকারই হবে না।"

শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

​ অথ বুদ্ধিজীবী কথা (জনস্বার্থে প্রচারিত) ~ পরিচয় পাত্র

সাম্প্রতিককালের নন্দন-আকাদেমি স্বল্পদৈর্ঘ্যের মিছিল মনে রেখে

 

 এই এই, এই লেড়ো, বিস্কুট দে, সঙ্গে দুটো ডবল হাফ আর একটা চারমিনার চমকা। এই, এই শালা, কোনদিকে যাচ্ছিস? বলিনি তখন, আবে মিছিল যাবে এইদিকে রে শালা, চোখের কি মাতা খেয়েছিস? এই, এই একদম মিডিয়ার সামনে বাইট দিবিনা, কখন কি বলে ফেলবি। দাদা বলে দিয়েছে, কোনোরকম চুদুরবুদুর নয় চাঁদু। হ্যাঁ যাও, যাও না, টিবির সামনে গিয়ে পোঁদ উলটে পড়ে থাকো, একটা পয়সা পাবে না শালা বলে দিচ্চি। আগাম বললুম মাইরি, মা কালীর দিব্যি, পরে আমাকে দোষ দিবিনা শালা। একদম ফালতু কিচাইন করবি না।

 

বিশৃঙ্খল মিছিলের দিকে চোখের চশমা সামলাতে সামলাতে মতিলাল শীল এগিয়ে আসেন। এই এই, কি হচ্ছে? ঠিক করে লাইন সামলে নাও সবাই। (ক্যামেরার দিকে ফিরে) কি বললেন? মিছিল? নানা, মিছিল মুখ্যমন্ত্রীর কথায় নয়, বাংলার অপমানের বিরুদ্ধে। পেছনের দিকে এগিয়ে যান, হ্যাঁ, বাস কন্ডাক্টররা যেমন বলেন আরকি, সেইভাবে, দেখতে পাবেন কত লোক হয়েছে।  

 

হঠাৎ শোরগোল। টিভি চ্যানেলের রূপসীরা এসেছেন, সঙ্গে দৃপ্ত মহানায়ক। সামনে মহানায়ককে পেয়ে সবাই প্রশ্ন করতে মরিয়া, এই মিছিল সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে চায় সবাই। চোখের রোদচশমা সামলে নেন মহানায়ক, আত্মপ্রসাদের হাসি হেসে বলেন, দেখুন, আমি দিদির কথায় চলে এসেছি। দিদির কথায় আসতে হবেই। কিন্তু এও তো ঠিক, আমার জন্যেই ভিড় খানিকটা হলেও বেড়েছে, আমাকে  দেখতে লোক তো কম হয়নি।কত ছাত্তবন্ধুরা, মা বোনেরা আমাকে দেখতে দেখতে এসেচেন। থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ। বেফাঁস মন্তব্য দেখে দ্রুত সামলে দেন শীল, ব্রাত্য প্রমুখেরা। বিরক্ত শীল মহানায়ককে উদ্দেশ্য করে ব্রাত্যর কানে কানে বলেন রথ ভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি/ মূর্তি ভাবে আমি দেব... সেই কেস, বুঝলি? ব্রাত্য সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়েন।

 

টালিগঞ্জের টাকলা ওসি (পড়ুন প্রোডিউসার) ছিলেন, তিনি চাকরি যাওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেক লোক এনেছেন। হন হন করে তিনি এগিয়ে যান।  

 

টালিগঞ্জের এক সফল দুঃসাহসী পরিচালক তাঁর নতুন ছবি অভিশপ্ত গামছার কাজ অসমাপ্ত রেখে এসেছেন মিছিলে। সাংবাদিকদের ইচ্ছে ছিল নতুন ছবির নামকরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করার, কারণ টাকলা ওসি ব্যতীত তাঁর সব প্রযোজকই শোনা যাচ্ছে আজকাল গামছা বিক্রি করছেন। কিন্তু প্রশ্ন করার সুযোগ মিলল না।

 

এছাড়া মরশুমি নাট্যশিল্পী সহ অনেককেই দেখা গেল মিছিলে। অনেকেই নিজেকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে দাবী করছিলেন ম্যাটাডোর থেকে নামতে নামতে। শেষ কবে এমন হোলসেল বুদ্ধিজীবীর ঝাঁক শহর আক্রমণ করেছে তা কেউ মনে করতে পারলেন না।

 

হঠাৎ আবার চঞ্চল ক্যামেরাধারী সাংবাদিককুল। এসে উপস্থিত হলুদ পাঞ্জাবি ভূষিত কবি সুবোধ অতি গোপাল বালক এবং তাঁর পেছনে পেছনে ৩৬৫ পাড়ার পাঁচু। পঞ্চানন পাঁচু সরে পড়ার চেষ্টায় ছিলেন, কিন্তু তার আগেই ক্যামেরা তাকে পাকড়াও করায় তিনি সরাসরি বলেই দিলেন বিরোধীদের মতই সাংবাদিকরাও বানচোত এবং তাদের মেরে তিনি গাঁড় ভেঙ্গে দেবেন। এইসব অশ্লীলতায় ভ্রুকুঞ্চিত করে এগিয়ে এলেন কবি সুবোধ। সবার সামনে হাসি মুখে তিনি আবৃত্তি করলেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'মদনের একটা চাকরি চাই'। শেষ লাইনে "একটা মানুষকে এমএ পড়তে হলে যত অক্ষর পড়তে হয় সেইসব ব্যর্থ অক্ষর মমতার গায়ে লেগে আছে" বলে তিনি চোখের জল মুছতে মুছতে এগিয়ে গেলেন।

 

মিছিল শেষ। মিছিলের পরে সভা। গরিব সিনেমা টেকনিশিয়ানরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন, যাক বাবা, নিশ্চিন্ত। কিন্তু চমকের তখনও বাকি ছিল। জানা গেল মিছিলে না আসতে পারলেও নিজের কবিতা পড়তে আসবেন প্রবীণ কবি, কবিকুলতিলক। এসেও পড়লেন কবি, কেশবিরল মাথা, চোখে চশমা, মুখে অবিন্যস্ত দাড়ি, দৃষ্টিতে ভয় আর সংশয় মিশে গেছে। বন্ধু কাকপ্রসন্ন না থাকায় কবিকে বিপন্ন লাগছে। মানসিকভাবেও কি দ্বিধাগ্রস্ত? জানা গেল কবি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই হেনস্তা, এই অপমানের প্রতিবাদ করবেন, সমর্থন জ্ঞাপন করবেন তাঁর প্রতি।

 

মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কবি ধীরে ধীরে নিচুগলায় পড়তে শুরু করলেনঃ

 

পাগলী তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে বিষমদ কাটাব জীবন

এর চোখে ধাঁধাঁ করব, ওর জল করে দেব কাদা

পাগলী তোমার সঙ্গে ডেলো বাংলো যাব দুকদম

 

অশান্তি চরমে তুলব, কাক-চিল বসবে না বাড়িতে

বিরোধীরা বাম্বু দেবে, তুমি ছুঁড়বে খিস্তির ভাষণ

পাগলী তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে চৌতিরিশ কাটাব জীবন  

 

মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, কৃষি শিল্পে লক্ষ্মী লোকসান

লোকসান না পুষিয়ে তুমি রাঁধবে খালি সিঙ্গুর ব্যঞ্জন

পাগলী তোমার সঙ্গে অপকর্ম জীবন কাটাব    

পাগলী তোমার সঙ্গে কালনিদ্রা কাটাব জীবন

 

পাগলী তোমার সঙ্গে মাকুমশলা জীবন কাটাব  

পাগলী তোমার সঙ্গে মাও-মাংস কাটাব জীবন

পাগলী তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন

 

পাগলী তোমার সঙ্গে বই দেখব পাগলুদের হলে

মাঝে মাঝে মিছিলে যাব অ্যাকাডেমি রবীন্দ্রসদন

পাগলী তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে শিলাদিত্য কাটাব জীবন

 

পাগলী তোমার সঙ্গে কালীঘাট জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে তপসিয়া কাটাব জীবন

পাগলী তোমার সঙ্গে কি সুদীপ্ত জীবন কাটাব   

পাগলী তোমার সঙ্গে কি মিথ্যুক কাটাব জীবন

 

এক হাতে উপায় করে দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি

ক্লাবে চাঁদা, ধর্ম ভাতা, ধারে কাটবে সহস্র রকম

লটারি তোমার সঙ্গে চিটফান্ড জীবন কাটাব

লটারি তোমার সঙ্গে বকেয়া ডিএ কাটাব জীবন

 

দেখতে দেখতে পুজো আসবে, সকলে চিৎকার করবে সেল

তোমার কবিতায় খুঁজব রূপসাগরে অরূপ বিশ্বাস

পাগলী তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব

বুর্জোয়া এবিপি নয়, জাগো বাংলা কাটাব জীবন

 

নতুন পার্টির সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে

ধরা পড়ব তোমার হাতে, নবান্নতে হেনস্তা চরম

পাগলী তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচাকা জীবন কাটাব

পাগলী তোমার বঙ্গে বিভীষণ কাটাব জীবন  

 

পাগলী তোমার সঙ্গে শারুখ খান জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে আইপিএল কাটাব জীবন

পাগলী তোমার সঙ্গে রেলরোকো জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে বাংলা বনধ কাটাব জীবন

 

সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে, হবে দুই চেয়ার আলাদা

হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ, ধান্দাতেই আচমকা মিলন

পাগলী তোমার সঙ্গে খাগড়াগড় জীবন কাটাব

পাগলী তোমার সঙ্গে মা সারদা কাটাব জীবন

 

কুণালকে কনুই মারব, রাস্তা করব ওকে ধাক্কা দিয়ে

পাপোশকে লেলিয়ে দেব, ঢেউ ভাঙতে কেষ্ট দুকদম

পাগলী তোমার সঙ্গে নর্দমায় জীবন কাটাব

যাদবপুরে অন্ধকারে লাঠিখেলা কাটাব জীবন

 

 

 

পুনশ্চঃ মূল কবিতা থেকে 'পাগলী তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব' প্যারা বাদ পড়ায় রাহুল-তথাগত-অমিত শাহরা শোনা যাচ্ছে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।


https://www.youtube.com/watch?v=pgVWpPcBXP0&feature=youtu.be


শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

হিন্দুত্ববাদ - সংস্কৃতি ও শ্রেণী ~ শতদ্রু দাস

​হিন্দুত্ববাদকে শুধুমাত্র একটা সাংস্কৃতিক ইস্যু বলে ভাবতে অসুবিধে আছে, যে কোনো বামপন্থীরই থাকবে। আর এটাই বোধ হয় বামপন্থীদের আর অন্যদের হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মূল্যায়নে তফাত। আমার মতে বিজেপি  হিন্দুত্ববাদকে ব্যবহার করে তার অর্থনৈতিক এজেন্ডা গুলোকে আড়াল করতে। ধর্মের সুরসুরি দিয়ে তারা মানুষের নজর ঘুরিয়ে রাখে। হিন্দুত্ববাদকে কাজে লাগিয়ে তারা শ্রমিক শ্রেনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে বাধা দেয়। আমার কাছে হিন্দুত্ববাদের সবচেয়ে বড় বিপদ এটাই। 


ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি যে অর্থনৈতিক দিশার দিকে এগিয়েছে সেটা কিরকম? এনরেগাকে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে, বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক সরকারী প্রোগ্রাম গুলোকে কাটছাট করছে, শ্রম আইন শিথিল করা সুরু করেছে, আরো করবে। বাজেটের রিভিশনে বিভিন্ন সামাজিক খাতে যেমন শিক্ষা স্বাস্থ্যে ৭-৮ হাজার কোটি টাকা করে আর্থিক অনুদান কমিয়েছে। এটা ব্যাকডোর দিয়ে করা হয়েছে যাতে হই চৈ না হয়। জমি অধিগ্রহণ আইন পাল্টে কর্পোরেট জমি লুঠকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন লাভজনক সরকারী সংস্থা জলের দরে বেচে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে, রেশনে কেরোসিন দেয়া বন্ধ করেছে, সরকারী ব্যাঙ্ক এসবিআই-কে বাধ্য করেছে আদানিকে বিদেশে বিনিয়োগ করার জন্যে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে যাতে আর. বি. আই গভর্নর বাধ্য হয়েছেন বলতে যে কর্পোরেটের অনাদায়ী ঋণ সরকারী ব্যাঙ্কগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা। এনরেগার সুফল নিয়ে অনেক অর্থনীতির পেপার লেখা হয়েছে, ভারতের বেশিরভাগ বিখ্যাত অর্থনীতিবীদ এনরেগার পক্ষে বলেছেন, এমনকি আর. বি. আই পর্য্যন্ত একটা রিপোর্ট বের করেছে যাতে এনরেগার প্রসংসা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কথা শুনতে নারাজ মোদী সরকার। ভুলে গেলে চলবেনা যে এই এনডিএ-র আমলেই FRBM নামক কলা কানুন চালু করা হয় যার ফলে সামাজিক খাতে সরকারী খরচ ব্যাপক হারে কাটছাট করা হয়। এই কাটছাটের ফলেই ২০০০-২০০৮ এর মধ্যে আমাদের দেশ দক্ষিন এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় প্রায় সমস্ত মানব উন্নয়নের মাপকাঠিতে পিছিয়ে পড়তে থাকি। অমর্ত্য সেন এই নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলেন আউটলুক পত্রিকায়। কংগ্রেস যে এই বিষয়ে বিজেপির চেয়ে ভালো তা নয় তবুও ভোটের খাতিরে তাদের একটা মুখোশ রাখতে হয়, যাকে ওরা বলে "growth with a human face". তাই ওরা RTI, এনরেগা, চাষীদের ঋণ মকুব, খাদ্যের অধিকার আইন, অরণ্যের অধিকার আইন ইত্যাদির মত সব প্রকল্প নেয়। কিন্তু  বিজেপির হিন্দুত্ববাদের ভেক থাকার ফলে মানবিক মুখোশ টুকুও পরার দরকার হয়না, ওরা নগ্নভাবে নিও-লিবেরাল নীতি অনুসরণ করতে পারে। নিও-লিবেরাল নীতির জন্যে যে ভোট কমবে তা হিন্দুত্বর হাওয়া তুলে মেকআপ করে দেবে।              


এবার যারা উচ্চবিত্ব বা মধ্যবিত্ব তাদের কিন্তু বিজেপির এই নগ্ন নিও-লিবেরাল নীতি নিয়ে বিশেষ সমস্যা নেই। তারা বরং লাভবান হয়েছে এসব নীতির ফলে। এই শ্রেনীর মানুষের মধ্যে যারা ধর্ম নিরপেক্ষ এবং উদারপন্থী তাদের কাছেও  বিজেপির যেটুকু সমস্যা তারা দেখতে পান সেটুকু মূলত হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি নিয়ে। হিন্দুত্ববাদ একটা সামন্তবাদী সংস্কৃতিকে তোল্লাই দেয় যার নিজস্ব সমস্যা অবশ্যই আছে কিন্তু শুধুমাত্র সেই সংস্কৃতির পশ্চাত্পর চেতনাকে যদি হিন্দুত্ববাদের মূল বিপদ বলে চিন্হিত করি তাহলে তার আসল উদ্দেশ্যটা অধরা থাকে, যা হলো শ্রেণী চেতনাকে দুর্বল করা।  এখানে মুসলমান মৌলবাদের প্রসঙ্গটাও টানবো। যারা হিন্দুত্ববাদকে শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক সমস্যা বলে মনে করে তারা হিন্দু মৌলবাদ আর মুসলমান মৌলবাদের তুলনামূলক বিচার করতে গিয়ে দ্বিতীয়টাকে বেশি বড় বিপদ বিচার করতে পারে। তার কারণ হলো আধুনিকতার বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদ যতটা না জোরদার এবং আক্রমনাত্বক তার চেয়ে বেশি আক্রমনাত্বক মুসলমান মৌলবাদ। হিন্দুত্ববাদীরা যেসব প্রাক-আধুনিক সামন্তবাদী সংস্কৃতি প্রচার করে সেসব ততক্ষণ আর ততটুকুই করবে যতক্ষণ বাজার অর্থনীতি তাকে করতে দেবে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাজার মেনে নেবেনা। এটা হিন্দুত্ববাদীরা ভালই জানে। মুসলমান মৌলবাদ কিন্তু বাজারের ওপর নির্ভরশীল না তাই বাজারের মন যুগিয়ে চলার দায় তার নেই, বরং বাজারের উল্টোটাই করবে। এর ফলে একটা সম্ভাবনা থাকে অনেক উদারপন্থী মানুষের এটা মনে করার যে হিন্দুত্ববাদীরা তমসাচ্ছন্ন ঠিকই কিন্তু মুসলমান মৌলবাদীরা সেই দোষে আরো বেশি দোষী। আমার মনে হয় হিন্দুত্ববাদের শ্রেণী শক্তিকে দুর্বল করার ভূমিকাকে না দেখতে পেলে এরকম সিদ্ধান্তে আসবেন অনেকেই।    


হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি দলিত চেতনা আর নারীবাদকেও দুর্বল করে যেটার প্রশ্ন শ্রেণীর থেকে ভিন্ন এবং সেটাও বড় বিপদ। কিন্তু আমি যেহেতু সেই বিষয়ে খুব বেশি জানিনা তাই লিখলাম না।  আশা করি কেউ এই লেখা পড়ে ভেবে বসবেন না যে আমি সাংস্কৃতিক প্রান্তিকীকরণকে ছোট সমস্যা বলছি। আমি শুধু বিপদের একটা দিক তুলে ধরেছি।

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

চুরি ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

কেউ করে ফুলচুরি রোজ রাতভোরে
কেউ বলে সংসদ ভরে গেছে চোরে;
বইচুরি করে কেউ উদাসীন মুখে
সময়ও তো চুরি যায় বলে নিন্দুকে;
প্রেমিকার মন চুরি নানা ছলেবলে
জানিনাকি মতলব আছে তলে তলে;
ছ- সেকেন্ড চুরি যায় প্রতি বৎসরে
পুঁথি দেখ, লেখা আছে ছাপা অক্ষরে;
অপিসের বড়বাবু, গোঁফ গেল চুরি
কবিতায় সুকুমার নেই তার জুড়ি;
প্রচলিত চোরে চুরি করে রাত্তিরে
থালা, বাটি, গ্লাস, জুত, জহরত হীরে;
কনসেপ্ট চুরি করে কেউ অগ্রণী
নোবেলের সন্মান পান মারকনি;
রেষারেষি নেই কোন সাড়ি, চুড়িদারে,
সগর্বে ঘোরে কেউ বারমুডা পড়ে;
এঁচোড়ে কি চোরে খায়,রীতিমত ভাবি
কেউ সাধে রুটি দিয়ে চচ্চড়ি খাবি?
ইস্কুলে যায় কেউ সাইকেল চড়ে
কি বিপদ গেল কই? নিল নাকি চোরে?
কচুরিতে প্রাতরাশ জিলিপির প্যাঁচে
সবকিছু নিঃশেষ দেখি শেষ ব্যাচে;
ছায়া চুরি, খোলা মাঠে খটখটে রোদে
টিফিনে তো চুরি যেত পাউরুটি বোঁদে;
সুর চুরি হলে সোজা যেও আদালতে
গল্পের প্লট চুরি হয় বাঁধা গতে;
কেউ বলে দেখছকি মেশে তেলে জলে
ছোটোখাটো চুরি? সেতো করে সক্কলে;
কেউ বলে, আমি চোর? বাকি সব সাধু?
পুকুর যে চুরি গেল, দেখলেনা চাঁদু;
মিছিলেতে হেটে কেউ রাঙা প্রতিবাদে
গুণীজনও চুরি করে, দেখি সংবাদে;
পোস্টারে বলে কেউ সব্বাই চোর
বল দেখি কি কারনে মাথাব্যাথা তোর?
স্পেকট্রাম চুরি হয়, চুরি কোল গেটে,
পাসওয়ার্ড চুরি যায় রেগুলার নেটে;
চুরি নিয়ে আলোচনা আনন্দ,স্টারে
বুঝে গেছি মোটামুটি বাঁশ কেন ঝাড়ে?
চোরেদের সভা ছেড়ে ভয়ানক রাগে
প্রতিবাদী বাম নেতা বহুদিন আগে;
তারপর চোরে চোরে মাসতুত ভ্রাতা
সংসদে 'কালিধন',হাতে কালো ছাতা;
মিছিমিছি বকো, আগে হোক প্রমানিত
মোবাইল, ট্যাব চুরি যায় নিয়মিত;
কেউ বলে আমি চোর? অভিমান ভরে,
জান যদি বল কেন এতদিন পড়ে?
মার গলা বড় হলে,ছেলে বুঝি চোর?
এ তো শুধু অনুমান, ভুল উত্তর;
আইনত সমাদর পাক চুরি, চোরে
চোরকাঁটা, চোরাবালি, চোরাস্রোত ধরে।।