রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৫

দুপয়সার রবি - গোধুলি মিত্র

              
আমরা যারা রবি ঠাকুর বলি, শুনি, পড়ি বা গাই- আমাদের সাথে রবীন্দ্রনাথের প্রথম আলাপ হয় মা-বাবা, শিক্ষক কিম্বা নিছক পড়ার বইয়ের হাত ধরে। কেউ উপহার পেয়েছি, কেউ বাড়িতে পরম্পরায়, কেউ শখে ,কেউ বা লাইব্রেরীতে। যে মেয়েটার কথা এখন বলব, তার সাথে রবির আলাপ কিছুটা অন্যরকম, কিছুটা ব্যতিক্রম।
 
সকাল থেকে সময় যেন কাটছে না লক্ষ্মীর, যদিও সপ্তাহের ছটা দিন জুড়ে শুধু এই একটা দিনই খেলা করে তার মাথার মধ্যে । আজ যে ছুটি, নিয়মিত প্রতিদিনের ছুটি। বাসী রুটি খেয়ে না খেয়ে রোদ্দুর পায়ে হেঁটে যাওয়া সেই পথটার ছুটি। আজ সব্বার ছুটি, শুধু মাকে ছাড়া। মন থেকে না হলেও মার এই যাওয়াটাকে চুপচাপ মেনে নেয় লক্ষী, প্রতিবার,মা ফিরলে একটু ভালো খাওয়া জুটবে এইভেবে রোজকার পোড়া রুটি, আলুনী তরকারিরা রোববার কিরকম যেন বদলে যায় লুচি-পরোটায়। হারিয়েই গেছিলো মনটা।“কি রে? কখন থেকে ডাকছি...” লক্ষীর চোখ প্রথমেই চলে যায় মার ঝুলিতেআজ যেন প্রয়োজনের থেকে একটু বেশীই বড় সেটা। তাহলে কি বিশেষ কিছু? অনেক পরিমাণে? “দ্যাখ তো এগুলো, বাবুদের বাড়ি থেকে দিলে, বললে পুরনো হয়ে গেছে, পোকা ধরে গেছে, আমি ভাবলাম নিয়ে আসি, বেচলে যদি কিছু আসে...” সেফটিপিনে গোঁজাতালি মারা সঞ্চয়-পুঁটলি থেকে একে একে বেরোতে থাকে বাঁধাই করা শব্দ বাক্য ঝাঁকপড়ে পাওয়া ছুটির দুপুরে ছদিনের একটু একটু জমা খিদেরা কি আর শান্তি পায় এতে?ভাবতে ভাবতে বেশ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে ভাঙ্গাচোরা চারপেয়ে জুড়ে একে একে সাজানো শুরু করে মোটা মোটা বইগুলোকেছবিটা চেনা, নামটাও শুনেছে স্কুলে বারকয়েক। খানিকটা কৌতূহল নিয়েই ওল্টাতে থাকে পাতাসময়ের ওজোন কালো অক্ষরগুলোয় কেমন পাক ধরিয়েছে, ভাঁজ ফেলেছে, বই-পোকাদের ঘরবাড়ি ছোটবড় নানা রকমের এদিক সেদিকে। হঠাৎই চোখ আটকে গেল কয়েকটা লাইনে, একি এসব কি লেখা?
 
ছুটি হলে রোজ ভাসাই জলে
কাগজ নৌকা খানি
লিখে রাখি তাতে আপনার নাম,
লিখি আমাদের বাড়ি কোন গ্রাম
বড় বড় করে মোটা অক্ষরে
যতনে লাইন টানি
যদি সে নৌকা আর কোন দেশে,
আর কারো হাতে পড়ে গিয়ে শেষ,
আমার লিখন পড়িয়া তখন
বুঝিবে সে অনুমানি,
কার কাছ হতে ভেসে এল স্রোতে
কাগজ নৌকা খানি….”
 
মেয়েটার চোখ চলে যায় , নোনা ধরা জীর্ণ তাক ঘেঁষে উঁকি মারে দিস্তে খাতার নৌকোরা
 
            *            *          *            *           * 
 
দেখতে দেখতে আরও কয়েকটা বছর চলে যায়। লক্ষ্মীও বড় হয় আস্তে আস্তে। বস্তির দমবন্ধ চিটচিটে আস্তানা, নাইনের ক্লাসরুমটা আর ঘ্যানঘ্যানে অভাব নিয়ে। তবু ওই বইগুলো তাকে যেন ভীষণভাবে টানত। রোজ যে নিয়ম মেনে পড়ত, কিম্বা খুব যে একটা ভালোলাগা বইগুলোকে ঘিরে তাও ঠিক নয়। বরং যত্নের অভাবে আরও কিছুটা বৃদ্ধ, আরও কিছুটা দূর্বল হয়ে গেছে পাতাগুলো এই ক’বছরে। লক্ষীর শুধু ভয় হত, পরীক্ষার ঠিক আগে নিজের কাছে ধরা পড়ার মতো একটা ভয়। ইতিহাসের মোগল সাম্রাজ্য পেরিয়ে ধোবিঘাটে ডিঙ্গি নৌকার ছলাৎছল হয়ে বেড়ানো তার ইচ্ছেগুলো, রোববারের বিকেলে মন-খারাপি আলোয় ভারি হয়ে ওঠা তার মেয়েবেলা, অথবা সমস্ত না-পাওয়ার না-হওয়ার গরিবিয়ানা ফেলে ডানবার মাঠের ধুলো-মাটি-সোঁদা গন্ধ মেখে ঘাসফড়িঙ হওয়া স্বপ্নেরা, সাদা খাতায় খামখেয়ালী পেন্সিল আঁকিবুকির দল কখনো বা মাঝরাতে চোখ জুড়ে অকারণ বালিশ-ভেজা ঘুমটা -- সবই কেমন যেন লেখা আছে ওই বেঢপ বইগুলোর পাতায় পাতায়। কি অদ্ভুত ভাবে তার সমস্ত অনুভূতি, তার অস্থি-মজ্জা--শিরা-ধমনী-সত্ত্বা জুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো সমস্ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ারা অবধারিত বাধা পড়ে আছে ওই ছেঁড়াখোঁড়া শব্দগুলোয়।
 
ভাবতে ভাবতে অবাক হওয়ারা বেড়েই চলছিল। বাধ সাধলো দাদার অসুখটা।বেশ কদিন ধরেই সারা গা জুড়ে যেন উনুনের তাপ। সস্তার ডাক্তার, সাধ্যের পথ্য, জ্বর তবু নামে না। একটু একটু করে এত বড় শরীরটা কিরকম পচে মিশে যাচ্ছিল বিছানার ময়লা জংলী ফুলগুলোয়। একদিন পুরোপুরি মিশে গেলো। সেদিন উঠোনে ছড়ানো দাদার শরীর-খোলস স্তূপ মাড়িয়ে, মায়ের ক্ষতবিক্ষত আদরগুলো পেরিয়ে ,শ্মশানে একের পর এক পুড়ে যাওয়া হাড়-মাংসের শব্দ মেখে লক্ষী যখন বাড়ি ফিরল, তার সমস্ত শরীর জুড়ে শুধুই ছাই মাখা অতীত কিরকম একটা বেসামাল হাতে টানতে থাকলো আলমারি ঘেঁষে রাখা বইগুলোকে। আছড়ে ফেলতে থাকলো মাটিতে খুঁজতে চাইলো সান্ত্বনা, আচমকা পোকা ধরা ঝুরঝুরে হলদে পাতায় ভেসে উঠলো
 
জীবনের মধ্যে কোথাও যে কিছুমাত্র ফাঁক আছে, তাহা তখন জানিতাম না; সমস্তই হাসিকান্নায় একেবারে নিরেট করে বোনা।এমন সময় কোথা হইতে মৃত্যু আসিয়া এই অত্যন্ত প্রত্যক্ষ জীবনটার একটা প্রান্ত যখন এক মূহুর্তের মধ্যে ফাঁক করিয়া দিল, তখন মনটার মধ্যে কি ধাঁধাই লাগিয়া গেল। যাহা  আছে, যাহা রহিল না, এই উভয়ের মধ্যে মিল করিব কেমন করিয়া। শূন্যতাকে মানুষ কোনোমতেই অন্তরের সঙ্গে বিশ্বাস করিতে পারে না। যাহা নাই তাহাই মিথ্যা, যাহা মিথ্যা তাহা নাই। তবু এই দুঃসহ দুঃখের ভিতর দিয়া আমার মনের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে একটা আকস্মিক আনন্দের হাওয়া বহিতে লাগিল, তাহাতে আমি নিজেই আশ্চর্য হইতাম। জীবন যে একেবারে অবিচলিত নিশ্চিত নহে, এই দুঃখের সংবাদে মনের ভার লঘু হইয়া গেল। আমরা যে নিঃশ্চল সত্যের পাথরে গাঁথা দেওয়ালের মধ্যে চিরদিনের কয়েদি নহি, এই চিন্তায় আমি ভিতরে ভিতরে উল্লাস বোধ করিতে লাগিলাম। সংসারের বিশ্বব্যাপী অতি বিপুল ভার জীবনমৃত্যুর হরণপূরণে আপনাকে আপনি সহজেই নিয়মিত করিয়া চারিদিকে কেবলই প্রবাহিত হইয়া চলিয়াছে, সে ভার বদ্ধ হইয়া কাহাকেও কোনোখানে চাপিয়া রাখিয়া দিবে না – একেশ্বর জীবনের দৌরাত্ম্য বহন করিতে হইবে না –এই কথাটা একটা আশ্চর্য নূতন সত্যের মত আমি সেদিন যেন প্রথম উপলব্ধি করিয়াছিলাম।                                        
 
লক্ষ্মী চোখ তুলে তাকালো, কিছুক্ষণ আগে পর্যন্তও বিছানার যেখানটা জুড়ে দাদার শেষ স্পর্শটুঁকু মিলিয়ে যাচ্ছিল গতকালে, ঠিক সেইখানেই জীবনের খোঁজ শুরু করেছে বেঁচে যাওয়া আগামী
 
আরও কিছু বছর, লক্ষী আরও কিছুটা পরিনতস্কুল গণ্ডি পেরিয়ে কোনোমতে কলেজ। মা আরও একটু ভঙ্গুর শরীরে-মনে। লক্ষ্মী কিছুটা সামলিয়েছে মৃত্যুকে। এখন শুধু ঘুপচি দেওয়ালে লেগে থাকা সবসময়ের দৈন্যতা ছাড়াও তার জীবনে এসেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চের সেই ছেলেটা। হাতচিঠির হাতছানি, নরম আঙুল ছোঁয়াছুয়ি খেলায় কাটছিল বেশ। কলেজ ছুটির এক দুপুরে কি মনে হল আবার বসল সেই খেলায় ,বইগুলোকে নিয়ে। এবার সে লাজুক, ভরসা জন্মেছে কিছুটা তার শরীরজোড়া শিরশিরানি, চোখের কোণে খুচরো সোহাগ-পরাগ, আর নখের ডগায় বিন্দু বিন্দু দ্বিধারা ওই বইগুলোতেই আছে হয়তোবা। লক্ষ্মীর অনুমান সত্যি হয়ে যায় যথারীতি...
 
আমি যে তোমায় জানি সেতো কেউ জানে না
তুমি মোর পানে চাও , সেতো কেউ মানে না
মোর মুখে পেলে তোমার আভাস
কত জনে করে কত পরিহাস
পাছে সে না পারে সহিতে
নানা ছলে ডাকি যে তোমায়
কেহ কিছু নারে কহিতে
বলিনে তো কারে, সকালে বিকালে
তোমার পথের মাঝেতে
বাঁশি বুকে লয়ে বিনা কাজে আসি
বেড়াই ছদ্মসাজেতে
যাহা মুখে আসে গাই সেই গান
নানা রাগিণীতে নিয়ে নানা তান
এক গান রাখি গোপনে
নানা মুখপানে আঁখি মেলি চাই
তোমা পানে চাই স্বপনে….”
আদুরে বিকেলে বুড়ো পাতা জুড়ে খেলা করে যৌবন।
 
 
            *            *          *            *           
 
 
সকালের চায়ের অভ্যেসটা যেভাবে রোজের কাপগুলো থেকে সরতে চায় না কিছুতেই, সেরকম লক্ষ্মী নামের মেয়েদের জীবন জুড়েও দুঃখটা ধ্রুবক। কলেজ থেকে ফিরতে সেদিন একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছিলো। ভিড় বাসটা থেকে নেমে দু’পা হাঁটতেই বিট্টুর সঙ্গে দেখা “দিদি তোমার মা... তুমি শিগগিরি চল।” যন্ত্রের মতো ছুটতে থাকে লক্ষ্মী, দৌড় যেখানে শেষ হয় ,সেখানে মায়ের ছোট হয়ে যাওয়া দোমড়ানো কোঁচকানো প্রাণটা রেললাইনের পাশে শান্ত পড়ে আছে। চারদিকে জড় হওয়া ভিড় থেকে গুটিকয়েক কাকিমা বৌদিরা ওকে জড়িয়ে কান্না বাঁধতে শুরু করে, তবু লক্ষ্মী কেমন অস্বাভাবিক স্থির। এতো বছরের সমস্ত টানাপোড়েন হাসি-রাগ-অভিমান-ঝগড়া-সুখ দুঃখের সিঁড়ি ভাঙ্গা অঙ্ক সব পুড়িয়ে সব ফুরিয়ে লক্ষ্মী যখন বাড়ি ঢুকলো, বাইরে তখন আকাশ ভাঙছে –সর্বস্বান্ত। তার অসু/হৃদয় চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে ধূপ-মধু-ঘী-স্মৃতি মেশানো মৃত্যু। কুৎসিত, অনিবার্য শোক রঙচটা কড়িকাঠে স্পষ্ট হচ্ছে, প্রবল হচ্ছে, চেপে ধরছে আস্তে আস্তে লক্ষ্মী ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো , হাত রাখল ঝুলকালি মাখা বইগুলোতে। স্পর্শ এবার বিরক্তিহীন, ভয়হীন দ্বিধাহীন অর্ধেক জীবনের বিশ্বাস দুচোখে জড় করে বলে উঠলো .....................
 
দুঃখ যদি না পাবে তো
দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে
বিষকে বিষের দাহ দিয়ে
দহন করে মারতে হবে
জ্বলতে দে তোর আগুনটারে
ভয় কিছু না করিস তারে
ছাই হয়ে সে নিভবে যখন
জ্বলবে না আর কভু তবে
এড়িয়ে তারে পালাস নারে
ধরা দিতে হোস না কাতর
দীর্ঘ পথে ছুটে কেবল
দীর্ঘ করিস দুঃখটা তোর
মরতে মরতে মরণটারে
শেষ করে দে একেবারে
তারপরে সেই জীবন এসে
আপন আসন আপনি লবে
 
লক্ষ্মী চোখ মেললো , খাটের গায়ে জামরঙ্গা আঁচলের মায়া-মায়া গন্ধ, আলনায় উঁকি মারা নীল শার্টটার শ্বাসপ্রশ্বাস, আর তার একলা বেঁচে থাকা নিয়ে উঠে দাঁড়ালো মাথা তুলে, তারপর ফুসফুস ভরে সঞ্জীবনী সুধা ছড়িয়ে দিলো আকাশে বাতাসে
 

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৫

আমোদিনীর হালকা পালক ~ সংগীতা দাশগুপ্তরায়

আমার বড়মাসি ছিল তুমুল সুন্দরী। যাকে বলে ফাটাফাটি সুচিত্রা সেন টাইপ সুন্দরী। তখন ওটাই সৌন্দর্যের মাপকাঠি হিসেবে নাকি ধরা হত। তো মাসিমনি জামালপুরের সুচিত্রা সেন হয়ে বহু উত্তম মধ্যম ও অধমের বুকে দোলা লাগিয়ে চলেছে নিয়মিত। হেনকালে আমার বড়মামুর প্রাণের বন্ধু ভীমমামু মাসিমণির প্রেমে পড়ে একদম হাপুস হুপুস দশা । মুশকিল একটাই যে বন্ধুর বোনকে এভাবে ভাল লাগাটা ঘোরতর নিয়মবিরুদ্ধ। এদিকে বেচারা যত ভাবে ভুলে যাবে 'মনো মানে না' । শেষে মরিয়া হয়ে আগে বড়মামুর কাছেই কনফেস করল। বড়মামুর শুনে আপত্তি নেই কারন বন্ধুটিও বদ্যি (এটা একটা মারাত্মক ক্রাইটেরিয়া) এবং ভারি পরোপকারী ভালমানুষ ধরনের। হালত দেখে বড়মামুই হাল ধরল। মাসিমণিকে একদিন কথায় কথায় বলল "বুঝলি, ভীমের তোকে খুব পছন্দ" । মাসিমণি সুচিত্রাচিতো বিরক্তি দেখিয়ে বলল "কী যে বল বড়দা! ঐ তো নামের ছিরি! ভাবো তো, বিয়ের কার্ডে শ্রীমতি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ভীম গুপ্তর বিয়ে হচ্ছে লেখা হবে! আমি তো ভাবতেই পারিনা!"

বড়মামু ভীমমামুকে গিয়ে হুবহু মাসিমনির কথাই কপি পেস্ট করে দিয়েছে। তারপর শুরু হল "প্যার হামে কিস মোড় পে লে আয়া" অবস্থা। ভীমমামু জামালপুর কোর্টে গিয়ে নাম এফিডেভিট করে অমিয় গুপ্ত করে ফেলল এক সপ্তাহের মধ্যে। তারপর জনে জনে ডেকে ডেকে বা কেউ ডাকলে তাকে শুধরে দিয়ে বলা "আমাকে ভীম বলবেন না। অমিয় বলে ডাকবেন। আমি নাম পালটে নিয়েছি"।
বন্ধুর প্রেম দেখে বড়মামুও অভিভূত। দুদিন পরে ভীম আকা অমিয়মামু সাইকেল নিয়ে বাড়ির উঠোনে এসে ঢুকেছে। মাসিমণি কাচা শাড়ি জামাকাপড় মেলতে মেলতে উঁকি দিয়ে দেখে ভিতরবাড়ির দিকে তাকিয়ে হাঁক দিল "বড়দাআআআআআআআআ, বাইরে এসো একটুউউউউ। ভীম কাটা অমিয়দা এসেছে এ এ এ এ" ।
ভীমমামু যে আমার বড়মেসো হয়নি সে নিশ্চই আর বলে দিতে হবে না। এখন আমার চিন্তা যে আমি কবে কল্যাণী কাটা সমৃদ্ধি আর গড়িয়া কাটা উত্তমসিটি যাব...
দুর্গাপুর কাটা অগ্নিবীনায় যাবনা কারন ইটস্‌ ঠ্যু হঠ...

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৫

দুনিয়া কাঁপানো ১ দিন - সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


(পাঠকের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, লেখাটি পুরো পড়বেন। নয়ত পড়বেন না)

৩০শে এপ্রিল ১৮৮৬, শুক্রবার

----------------------

আনন্দ –

ü  ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবিতে ৪ঠা মে শিকাগো তে বড় জমায়েতের ডাক দিলো মজদুর ইউনিয়ন।

ü  হুমকি ধর্মঘটের, নৈরাজ্যবাদী হামলার আশংকা মার্কিন সরকারের

ü  দাবী অন্যায্য, ধর্মঘট ক্ষতি করছে মার্কিন কর্মসংস্কৃতির – দাবী শিল্পপতি মহলের

 
২৪ ঘন্টা –

ü  ১লা মে, শনিবার ধর্মঘটের ডাক মজদুর ইউনিয়নের, ৪ঠা জনসভার প্রস্তুতি

ü  সহ্য করা হবেনা কোনো রকম বিশৃংখলা, আইন ভাঙ্গার চেষ্টা দমন করা হবে কড়া হাতে – মেয়র হ্যারিসন

ü  শ্রমিকের ন্যায্য দাবী আদায়ের লড়াই হুমকি দিয়ে থামানো যাবেনা – অগাস্ট প্সিজ

 

প্রতিদিন -

ü  অরাজকতা ও নৈরাজ্যে উত্তাল শিকাগো, বহিরাগত জার্মান গুন্ডাদের দখলে শহর

ü  পুলিস ছাড়াও পিংকারটন এজেন্সিকে ডেকে পাঠালেন সরকার, সামরিক বাহিনীকে তৈরি থাকার নির্দেশ

ü  বিদেশী নৈরাজ্যবাদী মদতের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, বহিরাগত উগ্রপন্থী জার্মানরা আমেরিকানদের ওপরে হামলা করছে গোটা শহর জুড়ে

 

বর্তমান –

ü  মজুর খেপানোর জন্য অগাস্ট প্সিজ কে প্রুশিয়ান সরকারের আর্থিক মদত, মার্কিন শিল্প উদ্যোগ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

ü  জার্মান হার্মাদদের অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান পেতে মরিয়া পিংকারটন গোয়েন্দারা

ü  মানুষে মানুষে সদ্ভাবনা ও ভাতৃত্বের ডাক ধর্মগুরুদের

 

অর্নব গোস্বামী –

ü  নেশন ওয়ানট্‌স্‌ টু নো – এই হুলিগান দের পেছনে কে আছে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো কে আছে এদের পেছনে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো এরা কি একা? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো কেউ কি পয়সা ফেলে এসব করাচ্ছে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো...।

 

গনশক্তি -

ü  ১লা মে মহাধর্মঘটে অচল হবে শিকাগো, কাঁপবে শ্রমিক মহল্লা, হে মার্কেটে লক্ষাধিক শ্রমিকের জমায়েতের ডাক ৪ তারিখ

ü  ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য বৈধ আন্দোলন পুলিস দিয়ে দাবানো যায়না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন অরাজকতা না হয়, শিল্পমহলের কাছে ভূল বার্তা না যায় – বুদ্ধদেব

ü  যেমন ভাবে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এক হয়ে আন্দোলনের পথে গেছে, সেই ভাবেই আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে আন্দোলনের পথে যাবো – সিতারাম

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় –

ü  আলিমুদ্দিন ফাঁকা গো

লক্ষ এবার শিকাগো

 

৮টা ০৮ এর বনগাঁ লোকাল -

ü  আমেরিকায় খুব গোলমাল শুনছি, টিভি তে দেখাচ্ছিলো, রায়ট হচ্ছে নাকি

ü  আরে এখানেও তো হলো সেদিন, ওই যে, তাজিয়া বেরোনো নিয়ে খুব গন্ডগোল হলো। সব জায়গায় এক অবস্থা।

ü  এসব করে লাভ নেই। ওখানও হার্মাদ আছে শুনছি। আমাদের দিদিই এদের ঠিক দাওয়াই দিতে জানেন।বাড়াবাড়ি করলেই ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে......

 

৩রা মে ১৮৮৬

----------------------

 

   আনন্দ –

ü  ১লা মে ধর্মঘটে ২০ লক্ষের বেশী শ্রমদিবস নষ্ট, শিল্প মহলে আশংকা

ü  দাবী আদায়ের জন্য নৈরাজ্য বরদাস্ত করবেনা সরকার – মার্কিন মুখপাত্র

ü  আশংকা আর উত্তেজনায় ফুটছে শহর, পার্ক দখল করে শ্রমিক সভা, প্রেমিক প্রেমিকারা উৎখাত হলেন

 

২৪ ঘন্টা –

ü  “একজোট হয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে থাকুন, অশান্তি বাঁধানোর প্ররোচনায় পা দেবেন না” – শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বললেন অগাস্ট প্সিজ

ü  আন্দোলন, ধর্মঘটে সম্পূর্ন শান্তিপূর্ন, মালিক পক্ষের উস্কানি সত্বেও কোনো অশান্তি হয়নি দাবী আন্দোলনের নেতা স্যামুয়েল ফিলডেন

ü  শহরে কার্ফ্যু জারি করার দাবী জানালেন মেয়র হ্যারিসন, আশঙ্কা বড় ধরনের অশান্তির

 

প্রতিদিন -

ü  মজুর আর গুন্ডাদের বিপুল অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান, পেছনে বিদেশী হাত দেখছে পুলিস

ü  মানুষ কে শান্ত থাকার আবেদন জানালেন শহরের বুদ্ধিজিবিরা, আবেদন জানালেন আন্দোলনপকারীদের ঘরে ফিরে যেতে

ü  জার্মান ভাষায় উগ্রবাদী মতবাদ ছড়িয়ে হামলার জন্যে “আরবাইটার ৎসাইটুঙ” কাগজ চালু করেন অগাস্ট প্সিজ – নিজস্ব প্রতিবেদন

 

বর্তমান –

ü  বিস্ফোরক সত্য - অগাস্ট স্পিজ আদতে আমেরিকান নাগরিক নন, ইনি বহিরাগত

ü  রক্তের স্বাদ পেতে শহরের রাস্তায় রাস্তায় উগ্রপন্থি প্রচার শ্রমিক নেতাদের, মারাত্মক অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে মহল্লায় মহল্লায়

ü  মার্কিন শিল্পোন্নয়ন ব্যাহত করার চক্রান্ত কড়া হাতে রোখা হবে – জন বনফিল্ড

 

অর্নব গোস্বামী –

ü  নেশন ওয়ানট্‌স্‌ টু নো – অগাস্ট স্পিজ কে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো কে এই স্যামুয়েল ফিল্ডেন? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো মুকুলের দুষ্টু লোকটা কে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো মুকুল ভ্যানিস কথাটা জানলো কি করে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো উট কি কাঁটা বেছে খায়? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো...।

 

গনশক্তি -

ü  “আটের বেশী খাটছিনা, বেতন কমা মানছি না” – গনজাগরনে কাঁপছে শিকাগোর অলিগলি

ü  এই জনসমর্থন কে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত করাতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে কমরেডদের – বিমান

ü  আজকের যুবসমাজের মুখ হয়ে উঠেছে আট, আট শুধু সংখ্যা নয় , গনজাগরনের প্রতীক – সম্পাদকীয়

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় –

ü  আলিমুদ্দিন শুকিয়ে কাঠ

কাজ করব ঘন্টা আট

 

কাপে-কফি-দে (বিয়ার হলে আরো ভালো)

ü  ড্যুড তোমার ম্যান-উ এই খেলাটা আগে খেলতে পারলোনা?

ü  আরে আমি মাতার প্রথম গোল টা মিস করে গেলাম, চ্যানেল ঘুরিয়ে সি এন এন দেখছিলাম। ওই শিকাগোর বাওয়ালি

ü  কাম-অন ম্যান, ওই সব নিয়ে এখনো মাথা ঘামাও? লেবার ক্লাসের কেচ্ছা। তোমার গার্ল ফ্রেন্ডের খবর কি? ঝামেলা মিটেছে? নাকি এখনো বৌদিবাজি করছ?

 

 

৫ই মে ১৮৮৬

----------------------

 

   আনন্দ –

ü  ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা, বহু প্রানহানীর আশঙ্কা, পুলিস আক্রান্ত, আক্রান্ত গনতন্ত্র

ü  বোমায় নিহত সার্জেন্ট জেনকিন্সের বাড়িতে বুকফাটা কান্না, শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরা, প্রতিশোধের শপথ সহকর্মীর

ü  ঘটনাস্থলে পুলিসের গুলিতে নিহত সন্ত্রাসবাদীদের মৃতদেহের ময়নাতদন্তে নতুন তথ্যের ইঙ্গিত

 

২৪ ঘন্টা –

ü  রনক্ষেত্র হে-মার্কেট চত্ত্বর, বোমা, পুলিসের গুলিতে মৃত বহু, খোঁজ নেই আরো অনেকের

ü  সভাস্থলে গ্রেফতার শ্রমিক নেতারা, পুলিশের দাবী তাদের পেছন থেকে বোমা ছোঁড়া হয়

ü  কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবী জানালেন মেয়র, শোকস্তব্দ মার্কিন যুক্তরাস্ট্র

 

প্রতিদিন -

ü  পাশবিক সন্ত্রাসে কাঁপল হে মার্কেট, সন্ত্রাসবাদী হার্মাদ হামলায় নিহত পুলিশ কর্মী

ü  “সামনে এগিয়ে গ্রেফতার করতে যেতেই বোমা পড়লো পেছন থেকে” এখনো আতঙ্কে পুলিশকর্মীরা

ü  আক্রান্ত গনতন্ত্র ও সভ্যতা – শক্ত হাতে দমন করতে হবে মজদুর আন্দোলন

 

বর্তমান –

ü  রক্তের স্রোতে ভেসে গেল শিল্পোন্নয়নের স্বপ্ন, ভয়াবহ হামলায় মৃত অসংখ্য

ü  নিন্দা বিশ্বের, আঘাত কাটিয়ে উঠতে দৃঢ়চেতা মার্কিন প্রশাসন

ü  শ্রমিক মহল্লায় হানা দিচ্ছেন পিংকারটন গোয়েন্দারা, সমূলে উপড়ে ফেলা হবে এই আন্দোলন

 

অর্নব গোস্বামী –

ü  নেশন ওয়ানট্‌স্‌ টু নো – হু ফ্রেমড্‌ রজার র‍্যাবিট? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো হোয়াট ইউ ডিড লাস্ট সামার? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো হোয়াট লাইজ বিনিথ? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো হোয়াট হ্যাপেন্ড ইন ভেগাস? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো...।

 

গনশক্তি -

ü  ঝাঁকে ঝাঁকে পুলিসের গুলি, হে-মার্কেট সভাস্থলে নজিরবিহীন হিংসা, নিহত বহু আন্দোলনকারী শ্রমিক

ü  ১৮৪৮ এর মত আবারও শ্রমজীবি মানুষের আন্দোলনের ওপর নেমে এলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, প্যারিস কমিউনের শিক্ষা আমরা কি ভুলে গেছি – গৌতম

ü  রক্তে শপথ আন্দোলনের, রক্তে ভেজা লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে শপথ আগামীদিনের লড়াইয়ের

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় –

ü  ও গানওলা

আরেকটা গান গাও

আমার আর কোথাও যাবার নেই

কিচ্ছু করার নেই

 

সেক্টর ফাইভ

ü  আট ঘন্টা কাজ করে শেষ কবে বেরিয়েছিস?

ü  আট ঘন্টায় আমাদের কাজ হয়? আরে লেবার ক্লাস নাকি আমরা? আর বাড়ি যাই বাড়ি যাই বললে রেটিং খারাপ করে পরের বার হাতে পিঙ্ক স্লিপ ধরাবে

ü  তার চেয়ে এই ভালো আছি, বুঝলি। বিদেশ যাত্রা, শপিং মল, বাড়ি গাড়ি...... নো বাওয়ালি।

 

 

১৩ই জুলাই ১৮৮৬

----------------------

 

   আনন্দ –

ü  সাত শ্রমিক নেতার ফাঁসির আদেশ, একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, বিচারব্যবস্থায় আস্থা শিল্পমহলের

ü  শ্রমিক আন্দোলন থামবেনা – শ্রমিক বস্তিতে বিষাদ

ü  আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিদেশে বহু শহরে শ্রমিক বিক্ষোভ, সমস্ত সরকারের শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমনের অঙ্গিকার

 

২৪ ঘন্টা –

ü  “আপনি হাসছেন ক্যাপটেন? আপনি হলেন সবচেয়ে বড় নৈরাজ্যবাদী” মৃত্যুদন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত বন্দি বললেন পুলিস অফিসারকে  

ü  দেশে দেশে শ্রমিক বিক্ষোভ হে-মার্কেটের নেতাদের ছবি নিয়ে

ü  “জন হেনরির কচি ফুল মেয়েটি/ পাথরের বুকে যেন ঝরনা/ মার কোল থেকে সে পথ চেয়ে বসে আছে/ বাবা তার আসবে না আর না” – কেমন আছেন সেই পরিবারগুলো?

 

প্রতিদিন -

ü  অবশেষে স্বস্তি, সন্ত্রাসবাদী ৭ নেতার ফাঁসি, একজনের আজীবন কারাদন্ড

ü  শিল্পমহলে স্বস্তি, মার্কিন সরকারের ও বিচার ব্যবস্থার ভূয়সি প্রশংসা

ü  শিকাগো পুলিস পারে, কলকাতা পুলিস পারেনা?

 

বর্তমান –

ü  ফাঁসিই হলো সেই সন্ত্রাসবাদী সাত নেতার, একজন যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত

ü  দক্ষ পুলিস বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থার প্রশংশায় মুখর মার্কিন সংবাদপত্র

ü  শিল্পপতিমহলের পাশে থাকার আশ্বাস মার্কিন সরকারের

 

অর্নব গোস্বামী –

ü  নেশন ওয়ানট্‌স্‌ টু নো – মানবিক ভাবে মৃত্যুদন্ডের কি কি উপায় আছে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো ফাঁসিতে ঝুলতে ঠিক কতটা কষ্ট হয়? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো এদের ফায়ারিং স্কোয়াড, ইলেক্ট্রিক চেয়ার বা বিষ প্রয়োগে মারা হলোনা কেন? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো ফাঁসিকাঠের প্রতি এই পক্ষপাতিত্ব কেন? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো ফাঁসির দড়ির বরাত কাকে দেওয়া হয়েছে? নেশন ওয়ান্‌ট্‌স টু নো...।

 

গনশক্তি -

ü  ওঁরা শহীদ, ওঁরা দেখিয়ে গেলেন পথ ছাড়া কোনো পথ নেই

ü  এই আত্মবলীদান মানুষ মনে রাখবেন, মানব বন্ধনের আহ্বান বাংলা জুড়ে

ü  ভোটের প্রচারে শ্রমিক আন্দোলনের ওপর জোর দিতে নির্দেশ পলিটব্যুরোর

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় –

আলিমুদ্দিন কালিঘাট

শ্রমিক নেতার ফাঁসি কাঠ

 

গার্ডেনরিচ ডকের মজদুর বস্তি-

 

ü  “ওহ ভাই থা মেরা, মার ডালা শালোঁ নে। বদলা লেনা হ্যায় ভাইয়োঁ, উঠো, খাড়ে হো যাও, নেহি তো কাল তুমহারে উপর গোলি চলেগি”

ü  শিকাগো হোক বা কলকাতা, রক্ত জল করা পরিশ্রমের পরে বঞ্চনা সইবো না, কেউ না থাকুক পাশে, আপনি আছেন কমরেড আমার পাশে, আপনি, আপনি, আপনারা সবাই। আমরা একা নই। একা নই।  

ü  “মজদুরের শৃংখল ছাড়া হারাবার কিছু নেই, জয় করার জন্যে পড়ে রয়েছে গোটা দুনিয়া। ইনকিলাব জিন্দাবাদ”  

 

 

ওপরের সম্পুর্ন কাল্পনিক শুধু লেখাগুলো, ঘটনাগুলো নয়। মে-দিবস আমার কাছে শুধু সকাল থেকে লাল ঝান্ডা তোলা, গান শোনা আর লাল সেলাম নয়। অনেক অপমান, যন্ত্রনা আর জিঘাংসার দিন। এই লেখা যাঁরা পড়বেন, তাঁদের ৯৯% ই নিন্দেমন্দ করবেন। সে নিন্দে আমার প্রাপ্য। কারন আমি খুঁচিয়েছি, ঘা দিয়েছি। দিতে চেয়েছি।

 

মে-দিবস জিন্দাবাদ।

 

ছবিটা ইন্টারনেট থেকে ঝাড়া।