শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

হারজিৎ ~ মধুবনী ঘোষ

​সারা রাত জেগে শেষে এই পরিণতি ?
শিখরে ভিরাট ছিল অগতির গতি
কিন্তু অবুঝ প্রেম অনুশকা শর্মা
মনঃসংযোগ গেল সিডনি টু বর্মা
বজ্র আঁটুনি দিয়ে এই প্রেম বাঁধলে
কিউই পাখি রোস্ট করে খাওয়া যেত খাবলে
কিন্ত বিরাট প্রেম জব্বর গরমা
যত দোষ ওই শালা অনুশকা শর্মা
আমাদের খোকা যদি মন দিয়ে খেলত
নাক ও চোখের জল এভাবে কি ফেলত ?
গোদের ওপরে আরও আছে বিষফোঁড়া
বাংলাদেশেতে নাচে ইলিশের জোড়া
আজ যদি কোনভাবে জিততাম ফাইনাল
বুক হত চেতানো হাসি হত এক গাল
চিত্কার করতাম সিডনি টু বর্মা
আমাদের জিতিয়েছে অনুশকা শর্মা !!!!



বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

করবী ~ অবিন দত্তগুপ্ত

​ মাটির দোতলা বাড়ি । দোতলার বাইরের রেলিঙটায়, ভিজে জামারা এলোমেলো হাওয়ায় জড়সড় । পেছনের ঘরের জানলাটার একটা পাট্‌ , সবসময় বন্ধ-ই থাকে । ছোট্ট ওমর জানে , মাঠে খেলতে নামলে ,আম্মি ওই অর্ধেক জানলাটা দিয়েই ওর উপর নজর রাখে । জানলাটা দিয়ে শুধু মাঠের বাঁ দিকটাই দেখা যায় । পড়া ফাঁকি দেওয়া দুপুরে , তাই ওমর রাইট হাফ । এমনিতে ,বাঁ পায়ের প্লেয়ার । মাঝমাঠ থেকে সত্যজিৎ একটা দারুণ থ্রু দিল । বল তাড়া করেও ধরতে পারল না ওমর । বলটা , মাঠের পাশের বটগাছ পেরিয়ে গেল । থ্রো-ইন । বলটা আনতে , বটগাছ পেরোতেই ওমর আরেকটা মাঠ দেখতে পেল । একদম একরকমের । সেই মাঠের-ও উত্তর দিকে ওর বাড়ি । সেই মাঠের-ও ডান পাশে একই রকমের বটগাছ । বলটা বটগাছের দিকে ছুটেই চলেছে । ওমর তাড়া করল । ধরতে পারল না । আবার বটগাছটা পেরলো , আবার একটা মাঠ দেখতে পেল । বল তাড়া করে সেটাকে পেরোতে , আরেকটা । তারপর আরেকটা,তারপর আরেকটা । সব একরকমের । বলটা গড়িয়েই চলেছে । "ওমর...ওমর, হতচ্ছাড়া ছেলে । পড়তে না বসে আবার মাঠে নেমেছিস ? এক্ষুনি ফিরে আয় । " আম্মির রাগী গলায় ভয় পেয়েই বোধহয় বলটা পেছন দিকে গড়াতে আরম্ভ করল । ওমর-ও পেছোতে লাগল পেরিয়ে আসা মাঠের পর মাঠ । বাস্তবের মাঠটায় পৌছতেই , একটা বিচ্ছিরি কড়া নাড়ার শব্দ । মোবাইল ঘড়ি বলেছে প্রায় ১১টা বাজে । বাইরে ভ্যাপসা গরম । ওমরের বাঘাযতীনের মেস-এ ফ্যান নেই । দরদর করে ঘামছে । অভ্যাসবসত বিছানার তলার মোটা লাঠিটা হাতে নিয়ে ওমর ছিট্‌কিনি খুললো । "রতন কাকু , তুমি ? "

বলেই খেয়াল হল দাঁত মাজা হয়নি । বাসি মুখে  কারো নাকের সামনে ফস্‌ফস্‌ করলেই , নাজিয়া পিট্টি দিত ছোটবেলায় । নাজিয়া , ওমরের আম্মি । 

 

                                                                                          ২

 

                         নাজিয়ার বয়স তখন ২০ । মেটে মেটে গায়ের রঙ । চোখ দুটোই কথা বলে । কিন্তু রতনের ভালো লাগত অর স্লোগান দেওয়ার ভঙ্গি । গলার শিরা ফুলিয়ে, আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান দিত নাজিয়া । রতন নাজিয়াকে ভালোবাসত । খোঁপায় মাঝে সাঁঝে লাল গোলাপ লাগাত নাজিয়া । লাল রঙটা ভালোবাসত ওরা দুজনেই । রতন দারুণ পোস্টার লিখতে পারত । ওর ঝাঁকড়া চুল মাথা , রুক্ষ মুখ , আধখাওয়া বিড়ি --- সব কিছুকেই ভালোবাসত নাজিয়া । ওরা একসাথে ছাত্র ফেডারেশন করত । বাড়ি থেকে ওদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি । অনেক লড়েও হেরে গিয়েছিল রতন । তিন বোনের দাদার পক্ষে বাড়ি ছাড়া সম্ভব ছিল না । নাজিয়া , ওসমান কে বিয়ে করে ।  ওসমান-ও মিছিলে হাঁটত । তখন ভরা জোয়ারের সময় । সক্কলে বাম ।

 

                          তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় বছর কুড়ি । নাজিয়া আর ওসমানের ছেলে ওমর । বয়স ১৫ । নাজিয়া এখন মহিলা সমিতি করে । মিড ডে মিলের রান্নার কাজ করে স্থানিয় একটি স্কুলে । রতন কাজ করে কারখানায় । সিটু করে রতন । ওসমান কন্ট্রাক্টর । ক্লাস নাইনে পড়ে ওমর । রতন আর নাজিয়া তখনো কমরেড । ওসমান নাজিয়ার স্বামি, কমরেড নয় আর ।

 

                          সালটা ২০০৯ ।  গ্রামে অপিরিচিত মুখের আনাগোনা বেড়েছে বেশ কিছুদিন হল । আশেপাশের চেনা মুখগুলো বদলে যাচ্ছে , আলোর গতিতে । বহুদিন বিস্মৃত হায়নারা, নখে শান দিচ্ছে । ওসমান দারুণ ঘুড়ি ওড়াতো । হাওয়ার দিক নির্ণয় করার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিল ওসমানের । ওসমান দল বদলালো । বহুদিন ধরেই নাজিয়া আর ওসমানের সম্পর্কে চিড় ধরছিল ।ওসমানের ধারনা ছিল, কারণটা রতন । নাজিয়া জানত , কারণটা শিরদাঁড়া । দলবদলানোর ঘটনা চিড়কে , ফাটলে পরিণত করলো । এক ছাঁদের তলায় , ওরা দুজন তখন সম্পূর্ণ অন্য গ্রহের বাসিন্দা । শুধু ওমরের জন্য-ই ছাঁদ ভাগ হয়নি ।

 

                          আরও দু-বছর কাটলো । সেবার নির্বাচনে প্রচার করতে গিয়ে ,বেদম মার খেল নাজিয়া । রতনের মনে আছে, দিনটা ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০১১ । সরকারি স্বাস্থকেন্দ্রে রক্তাক্ত নাজিয়াকে দেখতে ছুটে এসেছিল রতন । স্মিত হেসে নাজিয়া জানতে চেয়েছিল , " কেমন লাগছে আমায় দেখতে ? "

"রক্তিম ...  কি হয়েছিল ?"

"ওরা আমায় পার্টি ছাড়তে বলেছিল । বলেছিল প্রচার করা যাবে না । "

"কি জবাব দিলে ? "

"বলেছি , বাড়ির লোকের আদেশ অমান্য করে , আমি আমার প্রেমিকের সাথে দেখা করেছি । কেউ আটকাতে পারেনি । লাল ঝাণ্ডা , আমার প্রথম প্রেম । তোমরা আটকাবে কি করে ? ঝাণ্ডা ছাড়ব না । "

সেদিন রাতেই রতনদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় । গ্রাম ছাড়ে রতন । দু-মাস পরে নাজিয়ার চাকরি চলে যায় । এখন বাড়ি বাড়ি কাজ করে খায় , ছেলেকে পড়ায় । ওসমানের একটা পয়সাও নেয় না । নাজিয়া এখনো শিরা ফুলিয়েই স্লোগান দেয় ।

 

                                                         রতন আর নাজিয়ার গ্রামের নাম করবী । জেলা বর্ধমান ।

 

                                                                                         ৩

 

                              দারুণ ছবি আঁকে ওমর । পড়াশুনাতেও খারাপ নয় । ফুটবলটা বেশ ভালোই খেলে । হাতে-পায় দুরন্ত । লোকে বলে ওমরের চোখ দুটো ওর আম্মির মতো । ওমর আম্মির হাত ধরে মিছিলে যায় । আব্বু ওকে ঘুড়ি ওড়াতে শিখিয়েছে ।রতন কাকু, ফুটবল খেলা । ওমরের মিছিল ভালো লাগে না । স্লোগান ভালো লাগে না । ছবি আঁকতে , আর পাশে বাড়ির সাল্‌মাকে ওর বেশ ভালো লাগে ।

 

                              ঝরঝরে তরুণ , বেশ ভালোই কেটেছে জীবনের ১৫টা বছর । হঠাত-ই একদিন তাল কাটলো । স্কুল থেকে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে , সেদিন ওকে ঘিরে ধরে চারটে ছেলে । ওরা এ-গাঁয়ের নয় । কোন কথা না বলে , প্রথমেই দুটো চড় মেরেছিল ওরা । তারপর কলার চেপে ধরে, খিস্তি করে বলেছিল "তোর মাকে বলিস্‌ ,বেশী না উড়তে । হাল খারাপ হয়ে যাবে । সময় বদলাচ্ছে । " প্রচণ্ড অপমানিত হয়েছিল সেদিন ওমর । কোনদিন-ও রাজনীতি করেনি,শুধু আম্মির ছেলে বলেই মার খেয়েছিল সেদিন । " গ্রামের মানুষ তো তোমায় এত্ত ভালোবাসে , তবু কেন ওরা তোমায় গালি দিল আম্মি ? " - জানতে চেয়েছিল ওমর । উত্তরে নাজিয়া  নিঃশব্দে , গলির মোড়ে বাশের মাথায় বাঁধা, একটা  জরাজীর্ণ লাল ঝান্ডার দিকে আঙুল দেখিয়েছিল । তার পরদিন-ই স্বেচ্ছায় প্রথম মিছিলে হেঁটেছিল ওমর । আম্মিকে প্রচন্ড ভালোবাসত । আম্মির ঝান্ডাকে ভালোবেসেছিল সেদিন প্রথমবার । 

 

                              পরের দুবছরের ইতিহাস , শুধুই ভাঙ্গার । কখনো পরিবার ভেঙ্গেছে , কখনো সাইকেল তো কখনো পা । কিন্তু মন ভাঙ্গেনি ওমরের । লোকে বলত ওমরের চোখ দুটো ওর আম্মির মতো । ওমর জানতো , ওর ভেতরটাও আম্মি মতোই , ইস্পাতের । ২০১১র ১২ই ফেব্রুয়ারি আম্মিকে মেরেছিল ওরা । সেদিন স্বাস্থকেন্দ্রে ডাক্তারের চোখে চোখ রেখে ,ওমর বলেছিল " ওষুধ কেনার টাকা আমাদের নেই । লাল ওষুধ লাগিয়ে দিন । আম্মি ভালো হয়ে যাবে । " দিন দশেক বাদে পরীক্ষা দিতে স্কুলে গিয়ে ওমর জানতে পারে , তার নাম কাটা গেছে ।  সেদিনের সন্ধ্যা ওমর কোনদিন-ও ভোলেনি । সেদিন রাতেই তাকে খুনের ভুয়ো কেসে ফাঁসানো হয় । সেদিন-ই রাতে ওমর শেষবার সাল্‌মাকে দেখেছিল , সেদিন রাতেই শেষ দেখেছিল তার আম্মিকে । করবীকে ।

 

                               তারপর শুধুই পালিয়ে বেড়ানোর গল্প । এখন ওমর বাঘাযতীনে থাকে । ঘরে কোন ফ্যান নেই । ব্যাগে একটা লাল পতাকা আছে আর খাটের তলায় রাখা থাকে একটা মোটা লাঠি । শহরে কোন লাল মিছিলের খবর পেলে , মোটা লাঠিতে পতাকার কাপড় জুরে, সে মিছিলের পিছে পিছে হাঁটে । এভাবেই সে শহর চিনেছে । শহরের জল , খাওয়ারের স্বাদ , আকাশ ,পাখি , হাওয়া কোনটাই করবীর মতো নয় । শুধু মিছিলের মানুষ গুলোকে ওমরের আপন মনে হয় । ওমর প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখে । সাল্‌মার । আম্মির । করবীর । স্বপ্নের ভোরের ।

 

                                                                                         ৪

 

                                    রতনকাকুকে আজকে অন্যরকম লাগছিল । দরজা খুলে দেওয়ার পর অনেকক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে মুখের দিকে চেয়েছিল । প্রায় মিনিট দশেক চুপ করে থাকার পর কথা বললো রতন কাকু , "একটা খারাপ খবর দেওয়ার আছে ওমর । "

"কী ? "

"কাল রাতে ... " বলেই চুপ করে গেল রতন কাকু । দুগাল বেয়ে অবারিত ধারা । কাল রাত থেকেই কিছু খায় নি ওমর , তাই হয়ত মাথাটা ঘুরছিল । মনে হল , রতন কাকুর চোখ বেয়ে , গাল বেয়ে রক্তের ধারা বইছে যেন ... " কী, কী হয়েছে কাল রাতে ? "

"কাল রাতে , তোর আম্মিকে হায়নার বাচ্চারা ছিড়ে খুড়ে গেছে । নাজিয়া আর নেই । "

হঠাত-ই একটা সিনেমার মতো ঘটনা ঘটল । ওমরের চোখের সামনেটা সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে গেল । তারপর স্পট পড়ল একে একে ৮বি মোড়ে , বাঘাজতিনের চায়ের দোকানে , ধর্মতলায় গড়িয়াহাটে , সারা শহর জুড়ে । সর্বত্র আকাশ থেকে পলাশ ফুল বৃষ্টি হচ্ছে । হচ্ছে তো হচ্ছেই । আকাশ ভেঙ্গে মাটি ভাসছে রক্ত পলাশে ।   জ্ঞান ফেরার পরে ওমর জিজ্ঞেস করেছিল " কাকু এ শহরে কোথাও পলাশ গাছ, আছে কি ? " রতনের কাছেও এই প্রশ্নের উত্তর ছিল না । 

 

 

                                     মা কে কবর দিতে যাওয়া হয়নি ওমরের । এই ঘটনার প্রায় এক মাস বাদে গ্রামে ফিরেছিল রতন আর ওমর । মানুষের মিছিল তাদের নাজিয়ার কবরের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল । একটা মাঠ । তার উত্তর দিকে ওমরের বাড়ি । দোতলার জানলার ডানদিকের পাট্‌টা বন্ধ । মাঠের ডান কোনে একটা বুড়ো বটগাছ । বটগাছটা পেরোলেই --- আম্মির কবর ।  ওই বটগাছটা ছাড়া , আশেপাশে একটি গাছ-ও ছিল না । আম্মির কবরের বুকে , একটা লাল পলাশ পড়েছিল । কোথা থেকে , কত দূর থেকে উড়তে উড়তে এসেছে কেউ জানে না । গন্তব্যে পৌঁছতে এক মাস সময় লেগেছে , ওমর জানে । 

 

                                    লাল পলাশটাকে রতনের গোলাপের মতো লাগছিল । কবরটা------ নাজিয়ার কালো খোঁপা ।    

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

পোলাপান ~ তিতলী রায়চৌধুরী

এ যুগের পোলাপান ভয়ে সন্ত্রস্ত,
বুকস্থ বিদ্যা, করছে মুখস্থ।
ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া চাই, বাপ-মা'র হুমকি,
জানে না সে খেলা ধুলো, বোঝে না সে ঘুম কি!
সকাল ও সন্ধ্যা, গরুতাড়া খাচ্ছে,
স্কুল থেকে ফিরে ফের টিউশন যাচ্ছে।
কোনটা যে কেন হয় যায় না সে প্রশ্নেই,
নম্বর পেলে পরে কিছুতেই দোষ নেই।
যত পারো ঠেসে দাও, মাথা যেন বস্তা!
অসহায় খোকাদের করুণ অবস্থা!

সোমবার, ৯ মার্চ, ২০১৫

"রাজ্যটা এখনও গুজরাট হয়ে যায়নি"... স্যার ~ সুশোভন পাত্র

কিন্ত স্যার...

আপনি তো এখন প্রধানমন্ত্রী স্যার। গলার অনেক জোর। মিডিয়ার পালিশে চকচক করেন। আম্বানিদের টাকায় দশ লাখি স্যুট পরেন। কাজেরও অনেক চাপ। কত দিকে খেয়াল রাখতে হয়। কত শত জায়গায় ৫৬ ইঞ্চির ছাতি ফুলিয়ে বক্তৃতা দিতে হয়। তাই আপনার একটু আধটু স্মৃতিভ্রম তো হতেই পারে। রাজ্যসভায় উঠে দাঁড়িয়ে, "বিদেশ থেকে আমদানি করা আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের  "তিন দশকের"  পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতেই পারেন তাঁদের  চোদ্দো পুরুষ কে নেতিয়ে নব্বই, হেদিয়ে হান্ড্রেড সেভেন আপনি করতেই পারেন স্যার। কিন্তু অঙ্ক যে বড় কঠিন স্যার ... 


আয়নায় মুখ দেখুন...


নভজোৎ সিং সিধু একবার বলেছিলেন ক্রিকেটে পরিসংখ্যান নাকি "Statistics are like mini skirts my friend. It reveals more than what it hides." রাজ্য পরিচালনার সাথে না হয় ক্রিকেটের দূরত্ব কয়েক যোজন, কিন্তু আজ আপনি  যে গুজরাট মডেলের গল্পের গরু কে গাছে চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আসুন আপনাকে সেই আয়নায় আপনারই মুখ দেখাই স্যার। 

আপনার সময়েই গুজরাটর আর্থিক উন্নয়ন হার  ছিল (১০.১%) । জাতীয় গড়ের ( ৮.৩%) থেকে অল্প বেশী হলেও তামিলনাড়ু (১০.৩%), মহারাষ্ট্র (১০.৮%) এমনকি আপনার অপছন্দের নিতিশ কুমারের বিহারের (১১.৪%) থেকেও অনেক পিছনে। ২০০০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত গুজরাটে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে ৭.২ বিলিয়ন ডলার এই একই সময় মহারাষ্ট্রতে ও দিল্লীতে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে  যথাক্রমে  ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার ও ২৬  বিলিয়ন ডলার।  মানব উন্নয়ন সূচকে গুজরাটের অবস্থা ভয়ঙ্কর। ২০০৮ -র তথ্য অনুসারে ০.৫২৭ সহ বড় রাজ্য গুলির মধ্যে দশম স্থানে রয়েছে গুজরাট। কেরালা প্রথম (০.৭৯২) এমনকি হিমাচল প্রদেশ (০.৬৫২) পাঞ্জাব(০.৬০৫), মহারাষ্ট্র(০.৫৭২) হরিয়ানা (০.৫৫২) সবাই গুজরাটের থেকে ভালো জায়গায়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া ২০১৩-র হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু ঋণের  শীর্ষে রয়েছে মোদীর গুজরাট(২৯২২০ টাকা)  সাক্ষরতাতে গুজরাট (৭৯.৩%) রাজ্য গুলির মধ্যে রয়েছে ১৮ তম স্থানে। জনগণনা ২০০১ গুজরাটে প্রতি হাজার পুরুষের তুলনায় মহিলা সংখ্যা ছিল ৯২০। ২০১১ এর টা কমে দাঁড়িয়েছে ৯১৮ তে। যেখানে জাতীয় গড় ২০০১ (৯৩৩) থেকে ২০১১ তে বেড়ে হয়েছে ৯৪০। এনএসএসও রিপোর্ট অনুসারে গুজরাটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার গত ১২ বছরে প্রায় শূন্য তে এসে ঠেকেছে। এটা বাস্তব যে গুজরাটে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু টা সাধারন মানুষের কাছে পৌছায় না। এখানেও গুজরাটের স্থান রাজ্যগুলির মধ্যে ১৬তম।  ২০১২-১৩ র প্ল্যানিং কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে গুজরাটে দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকে প্রায় ২৩% মানুষ যা অন্ধ্র, হরিয়ানা, কেরালা, ত্রিপুরা, হিমাচল প্রদেশ থেকে অনেক বেশী। এমনকি বিশ্ব ক্ষুধার সুচকে  গুজরাট ১৯৯৪ সালে  যেখানে ছিল দশম  স্থানে মোদীর উন্নয়নের চোটে তাঁরা আরও নেমে এখন ১৩ তম।  দ্রুত বেড়েছে নিরক্ষরের সংখ্যা। ১৯৯০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত গুজরাটে বাজেটের মাত্র .৭৭% ব্যায় করা হত স্বাস্থ্য খাতে যা তুলনামূলক ভাবে গরীব বিহার(১.১%) ও ওড়িশার( ১.৬৬%) থেকেও কম। আপনার গুজরাটেই ৪২% শিশুর ওজন স্বাভাবিকের থেকেক কম স্যার সে খবর রাখেন আপনি ? জন্মের সময় শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪৪। অনূর্ধ্ব ৫ বছরের ৫০% অপুষ্টিতে ও ৭৫% রক্তাল্পতার শিকার। মাত্র ৫০% শিশু হাসপাতালে জন্মায়। প্রসব কালীন মায়ের মৃত্যু প্রতি হাজারে ৬২.৮ । ৬৭% গ্রামীণ পরিবারে নেই শউচালয়। আর আমুল,আম্বানি,আদানি, নিরমা, টরেন্ট, জাইদাস, ক্যাদিলা, আইপিসিএল, জিএসএফসি , জিএনএফসি এমনকি রাজকোটের মেশিন শিল্প বা ডিসেল ইঞ্জিন শিল্প, সুরাটের ও ভাবনগরের হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ; এসবই আপনি  মুখ্যমন্ত্রী হবার আগেই গুজরাটে ছিল। তাই আগে আয়নায় নিজের মুখটা দেখুন স্যার...  



দাঙ্গাবাজের সার্টিফিকেট...


৫০-র দশকে  রাজনৈতিক বন্দীদের নিঃশর্তে মুক্তির দাবী, ঐতিহাসিক শিক্ষক আন্দোলন, ট্রামের ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ক্যালকাটা ট্রামওয়েসের রাষ্ট্রীয়করনের দাবীতে আন্দোলন, ১৯৫৯-র খাদ্য আন্দোলন, বাংলা-বিহার সংযোজনের বিরুদ্ধে এমনকি পর্তুগীজ শাসন মুক্ত গোয়ার দাবীতে প্রতিবাদ গড়ে তোলাতে কোনও ভূমিকাই কি থাকেনি এই "বিদেশ থেকে আমদানি করা আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের ?  ৭৭-এ দলমত  নির্বিশেষে ১৭০০০ রাজনৈতিক বন্দীমুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ১০০০০ এর বেশী মামলা প্রত্যাহারও করেনি এই বিদেশ থেকে আমদানি করা নীতি'র গর্ভজাত সন্তানরা ?  দেশে প্রথম ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ১৮ বছরের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন,মহিলাদের জন্য অর্ধেক আসন সংরক্ষণও  চালু হয়নি এই "তিন দশকে" ? দেশের মোট কৃষি জমির  ৪% -র কম পশ্চিমবাংলাতে হওয়া সত্ত্বেও ২০১১ পর্যন্ত দেশের ২৩% এবং উপকৃত ৫৫% (মোট ৫০ লক্ষ) মানুষের স্বার্থে ভূমি সংস্কারও হয়নি এই  "পিছিয়ে পড়া রাজ্যে ?" ২০০৫-০৮ সময়কালে যখন তৎকালীন রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে শিল্পায়নের জন্য কৃষকদের জমি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল তখনও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ৩০,০০০ একর জমি বণ্টন করেছিলো এই "বিদেশ থেকে আমদানি করা নীতি'র" গর্ভজাত সন্তানরাই। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমান (১৭০ লক্ষ টন) সারা দেশের মোট উৎপাদিত খাদ্যশস্যের  ৮% । ২০১০-১১ সালে  চাল, পাট, আলু, সবজি, ফল, মাছ  উৎপাদনে  পশ্চিমবঙ্গ কে দেশের  সেরা করেনি "বিদেশ থেকে আমদানি কর আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানরা ?  ৭০০০ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি, ৩৭টি বহুমুখী হিমঘর, নেতাজী সুভাষ কৃষি বিপনন কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি এই "পিছিয়ে পড়ার তিন দশকে" ?

আপনার, কেন্দ্রীয় সরকারের রেজিস্টার জেনেরল অফ ইন্ডিয়ার সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে  ১৯৯৭-২০০৯ স্থূল জন্ম  হ্রাসের জাতীয় গড় যেখানে ২০% সেখানে  পশ্চিমবঙ্গের  ২৫%, দেশে চতুর্থ। ২০০৮ সালে গ্রাম ও শহরের মৃত্যু হারের পার্থক্যের জাতীয় গড়ের (২৬.২%) তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে (৭.৫%)। ওই একই সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে জাতীয় গড় ২.৫৪-র তুলনায় তৎকালীন  পশ্চিমবঙ্গে মাতৃত্বকালীন মৃত্যু হার, ১.৪১ ছিল দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা এবং শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে তামিলনাড়ুর পরেই ছিল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের ৭৩% মানুষের কাছে সরকারী চিকিৎসা সহজলভ্য।

ন্যাশানাল স্যাম্পেল সার্ভের তথ্য অনুসারে "বিদেশ থেকে আমদানি করা নীতি'র" গর্ভজাত সন্তানদের আমলেই ১৯৯০-২০০৪ সময়কালে পশ্চিমবঙ্গে জনগণের মাথা পিছু আয় এবং গ্রামীণ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে জাতীয় গড়ের থেকে দ্রুত। একাদশ প্ল্যনিং কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০০৪-০৫ সময়কালে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিতে উন্নয়নের হার ছিল ২.৬৭% যা জাতীয় গড় ১.৮৭% থেকে অনেক বেশী ও বৃহৎ রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয়। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ ১৯৯০-র দশকে( ৬.৭৫%) এবং ২০০০-র দশকে( ৬.৬১%)  আভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদনে ছিল দেশের অন্যতম সেরা। এই পিছিয়ে পড়ার সময়েও  ২০১১ তে পশ্চিমবঙ্গে দারিদ্র সীমার নিচে মানুষের সংখ্যা ২৮.৬% যা ১৯৭৩-৭৪ এর কংগ্রেস শাসিত বাংলার ৭৩.২% থেকে ঢের ভালো। ২০১১ তে এই "বিদেশী আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের রাজ্যেই সাক্ষরতার হার (৭৭.১%) শুধু ৭০-র দশকের (৩৩.২%) থেকে শুধু  উন্নতই ছিলনা জাতীয় সাক্ষরতার হারের (৭৪.০৪%) থেকেও ছিল ভালো। ১৯৭৬-৭৭ সালে আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য বরাদ্দ (৮.৫ কোটি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ (৫.৬ লক্ষ)  ২০১১-তে বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬৭৪ এবং ৬১০ কোটিতে। এই "বিদেশী আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের  আমলেই ২০০৯-১০ এর তথ্য অনুসারে সারা দেশে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে সংগৃহীত অর্থের (৩৬,৩৩৩.৩৯ কোটি) সর্বাধিক ২৫% ( ৮,৮৫৬.২১ কোটি) সংগ্রহ হত। এছাড়াও ৬১টি অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য চালু হয় স্বাস্থ্যবীমা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ১ লক্ষ ২১ হাজার বৃদ্ধ আদিবাসীর জন্য পেনশেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে মহিলাদের অংশগ্রহন, নারী নিরাপত্তা,  ১৪ লক্ষাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মাত্র ৪% হারে ঋণের ব্যবস্থা, চা বাগিচার শ্রমিকদের জন্য ভাতা চালু হয়নি এই "তিন দশকে" ? এরাজ্য শুধু অস্পৃশ্যতার অভিশাপ মুক্তই ছিল না,ছিল সাম্রদায়িক দাঙ্গা মুক্তও। দেশে শিখ বিরোধী দাঙ্গা  হয়েছে, বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছে, গুজরাটেদাঙ্গা হয়েছে – এরাজ্য ধিক্কার জানিয়েছে।"বিদেশ থেকে আমদানি করা আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের জন্যই কিন্তু রাজ্যটা কিন্তু আজও গুজরাট হয়ে যায়নি। তাই আপনি আজ প্রধানমন্ত্রী হলেও, আপনার মত দাঙ্গাবাজের সার্টিফিকেট  আর যাই হোক "বিদেশ থেকে আমদানি করা আদর্শের" গর্ভজাত সন্তানদের লাগবে না স্যার।


ঐ ৩৪


হ্যাঁ এরপরও অনেক জরুরী কাজ বাকি রয়ে গিয়েছিলো।শিল্পায়ন, কৃষকের মালিকানা ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্যা ছিল।  রাজনৈতিক  বিচ্যুতিও হয়েছে একাধিক। কর্মসূচী সফলভাবে রুপায়নের দ্রুততা ও অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা সহ কিছু বিষয়ে ভুল ত্রুটিও হয়েছে। তাই অনেক কাজই হয়নি। তবে তার সাথে আরও যেটা হয়নি স্যার,"রাজ্যটা এখনও গুজরাট হয়ে যায়নি..."তাই ৫৬ ইঞ্চির বুকের ছাতি নিয়ে  সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো বলার সাহস যে দেখাতে হবে স্যার। তথ্যের আর ইতিহাসের বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার করতেহবে স্যার ৩৪ কে। আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন স্যার আপনি সারা দেশের প্রধানমন্ত্রী ? এবার তো অন্তত সঙ্ঘপরিবারের দাঙ্গাবাজ থেকে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠুন...  

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

লিখিস যারা ~ প্রকল্প ভট্টাচার্য্য

লিখিস যারা, লিখতে থাকিস। মারিস যারা, মার।
সবাই নিজের জাত চেনালি, এটাই পরিষ্কার!
বলার কথা হবেই বলা, দিলেও ভেঙ্গে মুখ,
জানবে সবাই কোনটা উচিত, কোনটা অহেতুক।
আদালতের নেই প্রয়োজন করতে এ বিচার!!
মার খেতে ভয় পাই না তোদের, মরতেও প্রস্তুত,
ভয় তো তোদের নিজের মনে, ধরা পড়ার ভুত!
বুঝবি নিজেই, লড়াইতে আজ কার জিত কার হার!!
লিখিস যারা, লিখতে থাকিস। মারিস যারা, মার।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

তোমারই কবর ~ শঙ্খ করভৌমিক

​পূবদিকে সূর্য ওঠে, এই বুঝি তোমার বিশ্বাস?
যারা বলে পশ্চিমে তারা এসে ফেলে দেবে লাশ।
নীল রঙ প্রিয় বুঝি? ততটা পছন্দ নয় লাল?
মেলা থেকে ফিরে তুমি মারা পড়তেই পারো কাল।
শিরোনাম হতে গেলে আজকাল লাগছে না সেরকম ব্যতিক্রমী গুণ।
গান্ধী বা কেনেডি না, তুমি বা আমিও পারি যখন তখন হতে খুন।
ভেবে যদি থাকো শুধু এইসব ঘটে থাকে খবর কাগজে-
অর্ধেক মরে আছ- এইবেলা শান দাও নিজের মগজে।
নিতান্ত অকারণে হয়ে যেতে পারো তুমি গরম খবর।
চুপ করে থাকা মানে নীরবে খুঁড়তে দেখা তোমারই কবর।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

২১শে ফেব্রুয়ারি ~ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


ফেব্রুয়ারির দিনটি থাকে যুদ্ধসাজে
সকাল সকাল যন্ত্রিরা সব বর্ম আঁটে
মাতৃভাষায় স্বপ্নরা খুব ছোঁয়াচ লাগায়
"ভায়ের রক্ত" ছড়িয়ে থাকে রাস্তাঘাটে

জেতার মতই যুদ্ধটি হয় বাংলা জুড়ে
মুহূর্মুহূ বর্নমালার জয়ধ্বনী
উথলে ওঠে মাতৃভাষায় ঘনিষ্ঠতা
সাইনবোর্ডেও বাংলা আখর বিজ্ঞাপনি

সন্ধ্যে নামলে রনক্লান্ত আঁধার ঘণ
বই-কেতাবে পরিশ্রান্ত বাংলা লেখা
শুকিয়ে যাওয়া জিভ ওদিকে গলাও ভাঙ্গা
"বাংলা অতীত" এইটা কেবল ভাবতে শেখা

মধ্যরাতে নদীর বুকে ভাসছে ডিঙ্গি
গাইছে কারা? ভাটিয়ালি? জারি, সারি?
কোন ভাষাতে? বাংলা কিনা, কি এসে যায়?
মনের ভাষা, এইটুকু তো বলতে পারি।


মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

বঙ্গীয় রাজনীতির অবস্থা ~ অমিতাভ প্রামাণিক

বেশি না, এই সপ্তাখানেক আগেই বোধহয় লিখেছিলাম, আমাদের বাংলা হচ্ছে ছোটলোকের জায়গা। উরিব্বাবা, তাতে জনগণের কী রাগ! হাতের সামনে পেলে আমায় কুচি কুচি করে কেটে কুকুর দিয়েই খাইয়ে দিতো।

এখন দেখো! ভোটের রেজাল্ট দেখো।

ছোটলোক বলেই এখানকার লোক লোভে পড়ে নিজের জমানো শেষ পয়সাটা তুলে দেয় অজানা ঠগের হাতে, ঠকে গিয়ে হা-হুতাশ করে, হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে গালাগালি দেয়, আবার সেই ঠগ পার্টিকেই ভোটে জেতায়।

বলেছিলাম কিনা?


রাজনীতির অবস্থা দেখুন।

"কুণাল চোর? টুম্পাই চোর? মদন চোর? মুকুল চোর? আমি চোর?"

চোরদের লিস্ট বেরিয়ে এলো 'ঠাকুরঘরে কে রে' টাইপ! একে একে ঢুকতেও লাগল সব যেখানে তাদের মানায় ভালো।
মুকুল এখন বোঁটা থেকে ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে খসে পড়বে। টুম্পাই অলরেডি খসে গেছে।

হঠাৎ উপনির্বাচনে দল জিতে যেতে বিপক্ষদের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে - আহা, এতদিন ধরে যে লোকটা দল গড়লো, আজ কিনা তাকেই সাইডলাইন করে দিচ্ছে! এ তো ঘোর অন্যায়।

অর্থাৎ সে যে কাঙালের ধন চুরি করেছে, সেটা তেমন অন্যায় নয়। ওসব ভুলে গেলেও চলবে। সে দল গড়ার নায়ক, তাকে সাইড করে দেওয়াটাই মেইন ফ্যাক্টর! জনগণ নাকি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবে।
নীতি-ফিতির কোনো সংজ্ঞাই এদের কাছে পরিষ্কার না। কোন দু:খে জনতা এদের ভোট দেবে?

কিন্তু কেসটা এই রকম।

লোকজন জানে, বোঝে যে তৃণমূলের ওপরতলার দাদা-দিদি মানেই জালিস্য জালি। এক এক করে জেলে ঢুকছে, মানুষ জানবে না, বুঝবে না, এতই কি হাঁদা? কিন্তু উপায় কী? ভোট যে দেবে, কাকে দেবে?

বাম-কে? তার মানে তো ভোটটা জলে ফেলে দেওয়া। কেননা, গুন্ডা-ফুন্ডা বেরিয়ে গিয়ে বামে যারা পড়ে আছে, তাদের ইমেজ অনেক ক্লীন হলেও, নেতা কই? এদের জিতিয়ে লাভ কী? অতীতের অভিজ্ঞতা তো জানাই। রুখেছি, রুখবো। আর থিওরেটিক্যাল দাদাগিরি। নিজে কিচ্ছু করবে না, অন্যকেও করতে দেবে না। কেউ দাঁড়িয়ে বলছে না - আমি হলে এটা না, এই রকম করতাম, তাতে এই রেজাল্ট হত। তাহলে?

বিজেপি-কে? সে আর এদের চেয়ে আলাদা কী? এও তো স্কীমার। যে দল ভেঙে বিজেপিতে ঢুকতে চায় পিঠ বাঁচাতে, সে অসৎ না, তার সার্টিফিকেট রেডি, তাকে জেল যেতে নাও হতে পারে। প্লাস, এ রাজ্যে এদের নেতা কে? ম্যাড়মেড়ে রাহুল সিনহা? ভাঁওতাবাজ বাবা রামছাগলের আশির্বাদধন্য বাবুল? এর থেকে ওর গলায় ঝুলে যাওয়া লকেট? ছো:।

যারা মনস্থির করতে পারেনি, তারা তৃণমূলকেই আবার ভোট দিয়েছে। যারা পেরেছে, তারা বাম-বিজেপির মধ্যে আলাদা কিছু পায়নি, তাই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভোট ভাগ হয়েছে। ফল সবার সামনে।

ভাবছ, জনতা খুশি? নো ওয়ে। দে সিম্পলি ডোন্ট নো হোয়াট টু ডু। গো আস্ক দেম।

আমাদের এখনই প্রবলভাবে একটা অরবিন্দ কেজরিওয়াল চাই। একটা আম আদমি। যার কোনো ব্যাগেজ নেই। দুর্নীতি নেই। দাস ক্যাপিটাল নেই। পাশার চাল নেই। হিংসে নেই। লোভ নেই। শুধু বাঙালির গরিমা আছে, অভিমান আছে, তুষের আগুনের মত বুকের মধ্যে কোথাও এক চাপা অহঙ্কার আছে। নিজের কাছে প্রশ্ন আছে - রামমোহন বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথের জন্মভূমি এইভাবে বারোভূতে লুটেপুটে খাবে?

কোই হ্যায়? আছো কেউ?

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

প্রমিস ডে ~ আশুতোষ ভট্টাচার্য্য

মালতিকে কি প্রমিস করেছিল তপনে
মাখোমাখো ভালোবাসা নলবনে গোপনে,
মনে আছে নাড়ুদাকে বলেছিল শিবানী
লালুভুলু ভালো ছেলে, কথা বলে কি ফানি;
বিকেলের মরা রোদে বলেছিল পামেলা
রেগুলার দেখাকরা ফালতু এ ঝামেলা;
মনে আছে প্রতিজ্ঞা করেছিল সাকিরা
বর হেটে যাবে আর গাড়ি চেপে বাকিরা;
কেঁদে কেটে একদিন বলেছিল শ্রাবণী
হ্যারিকেনে তেল নেই আগে কেন ভাবনি?
কি জানি কি বলেছিল গোবিন্দ, গোপালে
টিনাদিকে হানিমুনে নিয়ে যাবে নেপালে;
সকালের কৈশোরে বলেছিল হাসিনা
ঝালমুড়ি ভালবাসি, তোকে ভালবাসিনা;
প্রতিজ্ঞা করেছিল লালটু কি কারনে
বুলাদিকে নাকি নিয়ে যাবে মহাকরণে;
ভয়ানক প্রতিজ্ঞা করেছিল অশোকে
রাত্তিরে কিছুতেই ঘুমবেনা তোষকে;
ম্লান মুখে একদিন বলেছিল তাপসে
নেড়িটা তো রাত্তিরে শুয়ে থাকে পাপোশে;
প্রেমে বিতাড়িত হয়ে বলেছিল মনিশে
হৃদয়ের দাগা যদি উঠে যেত ভ্যানিশে;
একদিন বলেছিল অনাবিল জোছনা
স্টেডি প্রেম কেটে গেছে? বিচলিত হোস না;
প্রতিজ্ঞা করেছিল পিতামহ ভীষ্ম
ডন বৈঠক দিয়ো কিবা রোদ গ্রীষ্ম;
প্রতিজ্ঞা করেছিল অর্জুন ভীমেতে
স্বাস্থ্যর উদ্ধারে রোজ যাবে জিমেতে;
কেউ বলে শোনা কথা সহদেব নকুলে
রাধিকার সাথে নাকি লুডু খেলে গোকুলে;
আরো কত প্রতিজ্ঞা চারপাশে ছড়ানো
প্রমিসের আমি তুমি সাদা খাতা ভরানো।।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

​ও মেয়ে… অবুঝ মেয়ে ~ অনামিকা মিত্র

সেমিনারে কখা ওড়ে, রাশি রাশি ধ্যান ওড়ে।
ও মেয়ে, অবুঝ মেয়ে, জন্মালি কেন রে?

হিসেব জানিস না কি? তোর কী কী প্রাপ্য?
তোর যা গল্প, সে'তো ভ্রুণেই সমাপ্য।

সমাপ্ত নয়? যদি কাহিনিটি গড়ালো…
কেউ হেসে বলবে না … হল এই ঘর আলো

কেউ ডেকে বলল না এলি যদি বাঁচ রে।
বরঞ্চ মেরে ফেলা হোক তোকে আছড়ে!

যদি বেঁচে যাস, নিস যৌবন চিহ্ন
লোভে আর অধিকারে তুই হবি ছিন্ন।

কান্নারা গড়াবেই… আজ থেকে কালকে
পার্ক স্ট্রিট… কামদুনি… কখনও বা শালকে'।

এ'টাই ভাগ্যলিপি, যা লিখেছে কোষ্ঠী।
ছোট্ট ঘটনা… নাকি দ্বন্দ্বের গোষ্ঠী।

মেনে নিতে না পারলে রাষ্ট্রের ভাষ্য…
জ্বলে ওঠ। ক্রোধ হোক ক্রমশ প্রকাশ্য।

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

'লজ্জা' ~ সুশোভন পাত্র

​'লজ্জা' ! আর এই 'লজ্জা' নিয়েই পড়েছি মহাফাঁপরে ! গত কয়েকদিন ধরেই দোকানে, হাটে-বাজার, রাস্তা-ঘাটে সর্বত্র হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি, যেকোনো মূল্য দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু কোথাও দেখছি 'লজ্জা' কিনতেই পাওয়া যায় না। গাছেও ধরে না 'লজ্জা' ! মাটি খুঁড়েও পাওয়া যায় না 'লজ্জা' ! বিদেশ থেকে আমদানিও করা যায় না 'লজ্জা' ! সমস্যাটা গভীর।

ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল, জাবং, মিন্ত্রা এরকম দস্তুর অনলাইন সাইটে শুনেছি নাকি কেঞ্জাকুড়ার গামছাও পাওয়া যায়, বিভিন্ন সময়েই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও থাকে। কদিন আগে চিরুনি তল্লাসি করলাম। সার্চ অপশেনে গিয়ে গোটা গোটা অক্ষরে বাঙলায় লিখলাম "১০০ গ্রাম লজ্জা"। পাতি ইংলিশে জবাব এলো "No matching products available." বাধ্য হয়ে গেলাম একটা শপিং মলে। খুঁজে খুঁজে ওঁদের সেলএক্সিকুইটিভ কে জিজ্ঞেস করলাম "দাদা লজ্জা কত কেজি?" শুনে সে তো এক বারে রেগে খাপ্পা। জানেন কি বলল ? বলল "লজ্জা খুঁজে আপনি এখানে এসেছেন ?এক্ষুনি 'মল ত্যাগ' করুন না হলে পুলিশ ডাকবো কিন্তু।" মনের দুঃখে মল ত্যাগ করলাম, বেরিয়ে আসতেই চোখে পড়ল পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে লেখা "ধার চাহিয়া লজ্জা দেবেন না ।" জয়গুরুর নাম করে সটান দোকানে ঢুকে বললাম "দাদা ধারে একটা গোল্ড ফ্লেক দিন তো। আর দয়া করে আপনি যে লজ্জাটা পাবেন ওটা আমাকে দিন। যা দাম চান দেবো।" শুনে ভদ্রলোক এমন ভাবে তাকালেন যেন গিলেই ফেলবেন। উফ! শেষে গেলাম এক বইয়ের দোকানে বললাম "দাদা লজ্জা আছে?" " বললেন "হ্যাঁ। আছে। ক-কপি চান ?" যেই আমি বললাম " মানে, কেজি দরে পাওয়া যায় না দাদা ?" দিলেন দোকান থেকে ঘাড় ধাক্কা ! ভাবুন একবার !

ছোটবেলার এক বিকেলে তবলার শেখানোর মাস্টারমশায় কে বসিয়ে রেখে, বাথরুম যাবার নাম করে পিছনের দরজা দিয়ে খেলতে চলে গিয়েছিলুম, ফিরে আসার পর মা বলেছিল "তুই এটা করতে পারলি ? এতটুকু লজ্জা লাগলো না তোর ? জীবনে তুই তবলা শিখতে পারবি না, দেখিস।" সেদিনই বুঝেছিলাম 'লজ্জা' হল লাগার 'বস্তু'। মায়ের ভবিষ্যৎ বানী পাই টু পাই মিলে আমার তবলার ভবিষ্যৎ অচিরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেও 'লজ্জা' আমি পেতে শিখেছিলাম। যখন জানলাম গাছের প্রাণ আছে প্রমান করা যায় লজ্জাবতী লতা ছুঁয়ে, বুঝলাম 'লজ্জা' প্রাণের একটি সুন্দর আবেগ। আবার যখন শুনলাম 'লজ্জা নারীর ভূষণ'। তখন ভাবলাম তাহলে পুরুষ মাত্রই বোধহয় 'বি-ভূতি-ভূষণ'। কিছুদিন আগে লোকে বলছিল "VC'র গণ্ডারের চামড়া ! লজ্জা নেই।" বুঝলাম গণ্ডারের বোধহয় 'লজ্জা' নেই তাহলে। মামাবাড়ি গেলেই দিদা বলত "খাওয়ার সময় লজ্জা করতে নেই "। বুঝলাম খেতে বসার আগেই 'লজ্জার' মাথা চিবিয়ে খেতে হয়। দিদার কথা এখনও শিরোধার্য। কিন্তু তসলিমা'র আবার বিখ্যাত 'লজ্জা' আছে। ভারতের ক্রিকেট টিমও বিদেশে মাটিতে সময় অসময়ে ভালোবেসে আমাদের অনেক 'লজ্জাই' দেয়, জার্মানি নাকি এ বারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল কে শ্রেষ্ঠ 'লজ্জা' উপহার দিয়েছে , বলিউডে মাধুরী দীক্ষিতের 'লজ্জা' একসময় বক্সঅফিস কাপিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তো কবেই লিখে গিয়েছেন "...প্রাণ চায় চক্ষু না চায়,/মরি একি তোর দুস্তর লজ্জা..." মোটকথা পৃথিবীতে ম্যাদামারা ভদ্দরলোক যেমন নিজের মতো করে লজ্জা পায়, বোদা গামবাট লোকেরও তাদের মতো করে লজ্জা পায়।

আসলে লজ্জার সাথে আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস, বিবেক, বুদ্ধি, মর্যাদা, মান, হুশের, অঙ্কের ভাষায় একটা 'সমানুপাতিক' সম্পর্ক আছে। এসব থাকলে আপনি ভুল করলে, অন্যায় করলে, নিজের স্বার্থ লাভের জন্য অন্য কে বঞ্চিত করলে, প্ররোচিত করলে লজ্জা পাবেন। লজ্জিত হবেন। আর এসব এর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক হলে, বিবেক, বুদ্ধি, মান মর্যাদা, বিক্রি করে নির্লজ্জ হয়ে, মুখে রং মেখে, সানগ্লাস পরে সং সেজে, রাস্তায় রাস্তায় 'পরিবর্তন চাই পরিবর্তন চাই' করে মাস দু -এক টানা কেত্তন আর ঢং করে সঠিক সময় কর্পূরের মত উবে যেতে পারলেই... তবেই, একমাত্র তবেই আপনি 'বুদ্ধিজীবী'।

ঠাকুর তো কবেই বলে গেছেন 'ইষ্টলাভের' জন্য , লজ্জা, ঘৃণা, ভয় -- তিন থাকতে নয় ...

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫

ব্যঙ্গ ও সোশাল নেট ওয়ার্ক ~ সুশোভন পাত্র

কান দিয়ে রক্ত পড়ছে ? না চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন ? তাহলে কানে আঙ্গুল দিন। চোখ বুজে বসে থাকুন। আর একান্তই দুটোর কিছুই না পারলে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরুন। নিজেরটা নিজে না পারলে, একে অপরেরটা ধরুন। কিন্তু ভুলেও হাসবেন না যেন। রসিকতাও করবেন না। ব্যাঙ্গ বাণে ফেসবুকের দেওয়াল ভরাবেন না।

পশ্চিমবঙ্গের মহামান্য মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে চিন্তিত হয়ে বলেছিলেন রাজ্যের মুরগি কম ডিম পাড়ছে কেন ? বিজেপি সাংসদ, সদস্য আর কয়েকজন ধর্মগুরুরা আবার চিন্তিত হয়ে পড়েছেন যে হিন্দু মেয়েরা কেন ডজন ডজন 'হিন্দু বাচ্চা' উৎপাদন করছেন না। এলি-তেলি-স্বাধী থেকে পাড়ার নেতা কেউ বলছেন ৪ টে চাই, কেউ বলছেন ৫ টা। শ্রী শ্রী শঙ্করাচার্য তো এক কাঠি উপরে গিয়ে বলেছেন "নরেন্দ্র মোদী কে পরেরবার পুনারায় ভোটে জেতাতে কমপক্ষে ১০ টা করে হিন্দু বাচ্চা চাই"। আমি বলি কি আগে ঠিক করুন সঠিক সংখ্যাটা কত ? ৪ না ৫ না একেবারে ১০ টা ? তারপর শিশুদের অন্নপ্রাশনের আগে ভোটাধিকারের বিল সংসদে পাশ করুন। গর্ভবতী হিন্দু মায়েদের ২ বার ভোটাধিকারের কথাও বিবেচনা করুন। হিন্দু ভোটারের জোগান যদি চাহিদার থেকে বেশী হয় তাহলে নিখাদ, নিখুঁত, হিন্দুভোটার কে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে রাজকোষের ঘাটতি মেটানোর কথাও ভাবা যেতে পারে। সমস্যা একটাই মুরগির ডিম ফুটে সবগুলো যদি ছেলে বেরোয় তাহলে পরের বার মোদীর জন্য হিন্দুভোটার পাব কি করে ?
যে বিচিত্র দেশের রঙ্গমঞ্চে একাঙ্ক নাটক পরিবেশন করতে এসে কখনও শাহাজাদা বলেন "Poverty is a state of mind !" , ভোটের প্রচারে এসে হবু প্রধানমন্ত্রী বলেন "বীর আলেকজেন্ডার কে গঙ্গাতীরে বিহারীরা পরাজিত করেছিলেন ", কেউ বলবেন "সবাই হিন্দু" কেউ বলবেন "জন্মেই মুসলিম", অনাহার আর অপুষ্টির পক্ষাঘাতে উন্মাদ্গামী দেশের প্রধানমন্ত্রী সোনা দিয়ে নিজের নামাঙ্কিত ৯ লাখ টাকার জ্যাকেট পরে "রায় বাহাদুরের আশায়" বড়লাটের পদ লেহন করতে যান, সে দেশের অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী , শেক্সপিয়ার, কিটস আর রবীন্দ্রনাথের কল্পবিজ্ঞানের কথামৃত খোদ বইমেলায় উপহার দিলে আপনি অবাক হবেন ? না কানে আঙ্গুল দেবেন ?

শুনলাম সোশাল নেটওয়ার্কে ব্যঙ্গ ঠেকাতে সরকার নাকি বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করছে। বটেই তো ! আপনার শিক্ষা, আপনার সংস্কৃতি, আপনার রুচি , আপনার জানা ইতিহাস, ভূগোলের চোদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করার সম্পূর্ণ অধিকার ওনাদের আছে। শুধু আপনারই সেগুলো নিয়ে রসিকতা করার অধিকার নেই। ব্যাঙ্গ করার অধিকার নেই। মুখ চেপে হাসারও অবকাশ নেই।

একবার হিটলার নাটক দেখতে গিয়েছিলেন, সাথী ছিলেন গোয়েরিং। নাটকটা খুব পছন্দ হয় হিটলারের। শুধু ভিলেনের বাটারফ্লাই গোঁফ হিটলারের চরম অস্বস্তির কারন হয়ে ওঠে। নাটক শেষেই অর্ডার দেন যাতে নাটকটা মঞ্চস্থ না করা হয় আর ভিলেন কে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। গোয়েরিং বলেন " ফুয়েরার, ভিলেন যদি গোঁফটা কেটে দেয় তাহলে ? " হিটলার বলেন "তাহলে গোঁফটা কাটার পর গুলি করে দিও। কেমন ? "

জনাব, হিটলারের বিচার ইতিহাস করেছে। নাৎসির বিচারও মানুষ করেছে। রসিকতাটা কিন্তু অমলিনই রয়ে গেছে। আজও।